বিশ্ব হাতি দিবসে বান্দরবানে হাতি সংরক্ষণে সচেতনতামূলক র্যালি ও আলোচনা সভা
![]()
মানুষ-হাতির সংঘাত কমাতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান, ১২ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার পেল ১ লাখ ৮৭ হাজার টাকা
জার্নাল প্রতিবেদক
“বিশ্বজুড়ে ঐক্য গড়ি, হাতির জীবন রক্ষা করি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বান্দরবানে বিশ্ব হাতি দিবস উপলক্ষে হাতি সংরক্ষণ ও মানুষ-হাতির সংঘাত কমাতে সচেতনতামূলক র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে সদর উপজেলার টংকাবতী ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। টংকাবতী রেঞ্জের আয়োজনে র্যালিটি এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
পরে ইউনিয়ন পরিষদের সভাকক্ষে হাতি সংরক্ষণ, হাতির আবাসস্থল রক্ষা এবং মানুষ-হাতির সংঘাত কমাতে করণীয় বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. তৌফিকুল ইসলাম। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা হীরামনি, টংকাবতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাংয়াং ম্রো প্রদীপ, সহকারী বন সংরক্ষক রিটা আক্তার, টংকাবতী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রাফি-উদ-দৌলা সরদারসহ বন বিভাগের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বন উজাড়, হাতির প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে যাওয়া এবং খাদ্যসংকটের কারণে দিন দিন মানুষ ও হাতির সংঘাত বাড়ছে। হাতির আবাসস্থল ও চলাচলের পথ নিরাপদ রাখা এবং বনাঞ্চল সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সচেতন করা গেলে এ সংঘাত অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
বক্তারা আরও বলেন, হাতি শুধু একটি বন্যপ্রাণী নয়, এটি দেশের জীববৈচিত্র্য ও বনজ পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি সুস্থ বন-পরিবেশের জন্য হাতির অস্তিত্বও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই হাতির আবাসস্থল ধ্বংস না করা, হাতির চলাচলের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করা এবং লোকালয়ে হাতি প্রবেশ করলে উত্তেজিত না হয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে বন বিভাগকে খবর দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

একই সঙ্গে বক্তারা বলেন, হাতি সংরক্ষণের পাশাপাশি হাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিরাপত্তা ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করাও জরুরি। মানুষ ও হাতির সহাবস্থান নিশ্চিত করতে বন বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করতে হবে।
সভায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে হাতি সংরক্ষণে সামাজিক সচেতনতা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, শুধু বন বিভাগের একার পক্ষে হাতি সংরক্ষণ সম্ভব নয়; স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়েই দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত ১২ পরিবার পেল আর্থিক সহায়তা
আলোচনা সভা শেষে হাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ১২টি পরিবারের মাঝে মোট ১ লাখ ৮৭ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়। অতিথিরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে এসব চেক তুলে দেন।
বক্তারা বলেন, মানুষ-হাতির সংঘাত কমাতে একদিকে যেমন হাতির নিরাপদ আবাসস্থল ও খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে, অন্যদিকে হাতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোও প্রয়োজন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সরকারি সহায়তা তাদের ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা হলেও কাটিয়ে উঠতে সহায়ক হবে।
বিশ্ব হাতি দিবসের এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বান্দরবানে হাতি সংরক্ষণ ও মানুষ-হাতির সহাবস্থান নিশ্চিত করতে বন বিভাগ ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।