মহালছড়িতে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে অংশীজন সভা, রোগীবান্ধব সেবা নিশ্চিত করার তাগিদ
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, বিদ্যমান সংকট চিহ্নিতকরণ, জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং রোগীবান্ধব চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে অংশীজন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও জনবল সংকট, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের পর্যাপ্ততা, পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ এবং রোগীদের সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মীদের আচরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে ‘স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে উপজেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরাম ও জাবারাং কল্যাণ সমিতি। এতে সহযোগিতা করে বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ।
উপজেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সভাপতি বিপুল চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্য সচিব মো. শফিকুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এরফানুল হক চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ধনিষ্টা চাকমা, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দীপময় তালুকদার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের এডভোকেসি ম্যানেজার মোফাকখার মোর্শেদ খান, প্রোগ্রাম অফিসার রাজেস অধিকারী এবং মহালছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি দীপক সেন।
এ ছাড়া সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, চিকিৎসক, নার্স, রোগী, সাংবাদিক, সমাজকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
সভায় মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যমান স্বাস্থ্যসেবার সার্বিক মান, রোগীদের নানা সমস্যা এবং চিকিৎসাসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতাগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবলের ঘাটতি, পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রাপ্যতা, পরীক্ষা-নিরীক্ষার সীমিত সুযোগ এবং রোগীদের সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মীদের আচরণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

অংশীজনরা বলেন, পাহাড়ি ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। দুর্গম এলাকার অনেক মানুষের পক্ষে জেলা শহর কিংবা বড় হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য। ফলে উপজেলা পর্যায়েই কার্যকর ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।
তাঁরা বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন শুধু নতুন ভবন বা অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ওষুধ, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা এবং রোগীদের প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করাও জরুরি।
সভায় রোগীদের কাছ থেকেও সরাসরি তাঁদের চিকিৎসাসেবা গ্রহণের অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনা হয়। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
আলোচনায় আরও উঠে আসে, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ ও সাধারণ জনগণেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এরফানুল হক চৌধুরী স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন। জনগণের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে বিদ্যমান সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সভায় বক্তারা বলেন, একজন নাগরিকের জন্য সময়মতো ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাওয়া মৌলিক অধিকার। বিশেষ করে পাহাড়ি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এই সেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ের স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করে গড়ে তোলা প্রয়োজন।
শেষে মুক্ত আলোচনায় উঠে আসা সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় অংশীজনদের সমন্বয়ে মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান আরও উন্নত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।