রেকর্ড ৭৭ দলের অংশগ্রহণে নানিয়ারচরে শুরু রাধামোহন চাকমা স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
‘ক্রীড়াই শক্তি, ক্রীড়াই বল’ ও ‘মাদক ছেড়ে, খেলতে চল’—এই দুই স্লোগানকে সামনে রেখে রাঙামাটির নানিয়ারচরে শুরু হয়েছে রাধামোহন চাকমা স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬। বর্ষাকালীন এ ফুটবল টুর্নামেন্টে নানিয়ারচরের ইতিহাসে রেকর্ডসংখ্যক ৭৭টি দল অংশ নেওয়ায় স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল ৩টায় উপজেলার শনখোলাপাড়া মাঠে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন নানিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি রাজীব দাশ পুরকায়স্থ।
শনখোলাপাড়া যুব পুতপুত্যা ক্লাবের আয়োজনে এবং নানিয়ারচর উপজেলার সরকারি নিবন্ধিত যুব ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের সার্বিক সহযোগিতায় টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় ইউপি সদস্য শোভা রঞ্জন চাকমার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অমর জীবন, ১ নম্বর সাবেক্ষ্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুপন চাকমা, ২ নম্বর নানিয়ারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাপ্পি চাকমা, ৩ নম্বর বুড়িঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রমোদ খীসা, ৪ নম্বর ঘিলাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অমল কান্তি চাকমা এবং যুব ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিভায়ন চাকমাসহ স্থানীয় ক্রীড়ানুরাগী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
আয়োজকেরা জানান, নানিয়ারচরে এর আগে কোনো ফুটবল টুর্নামেন্টে এত বিপুলসংখ্যক দল অংশ নেয়নি। এবারের আসরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ৭৭টি দল অংশগ্রহণ করছে। ফলে টুর্নামেন্ট ঘিরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে।

উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয় যাত্রামনি কারবারিপাড়া ক্লাব ও সুরিদাসপাড়া ক্লাব। ম্যাচ দেখতে বিকেল থেকেই মাঠে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন বয়সী দর্শক। একপর্যায়ে মাঠের চারপাশ দর্শকে পূর্ণ হয়ে যায়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, শুধু প্রতিযোগিতা আয়োজনই এ টুর্নামেন্টের উদ্দেশ্য নয়। তরুণ ও যুবসমাজকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা, মাদক ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রাখা এবং সুস্থ বিনোদনের সুযোগ তৈরি করাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।

স্থানীয়রা বলছেন, পাহাড়ি জনপদে তরুণদের জন্য নিয়মিত ক্রীড়া আয়োজনের সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত। এ ধরনের বড় পরিসরের ফুটবল টুর্নামেন্ট একদিকে যেমন স্থানীয় প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরার সুযোগ করে দেয়, অন্যদিকে যুবকদের মাঠমুখী করে সামাজিকভাবে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে পারে।
বিশেষ করে ‘মাদক ছেড়ে, খেলতে চল’—এমন বার্তা নিয়ে আয়োজিত টুর্নামেন্টটি তরুণ প্রজন্মকে মাদকসহ নানা নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করছেন আয়োজকেরা।

তাদের মতে, একটি সুস্থ ও কর্মক্ষম যুবসমাজ গড়ে তুলতে শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলার বিকল্প নেই। নিয়মিত খেলাধুলা তরুণদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতার মানসিকতা গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
টুর্নামেন্টে ৭৭টি দলের অংশগ্রহণকে স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনের জন্য ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন ক্রীড়ানুরাগীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, এ আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে নানিয়ারচরের প্রত্যন্ত এলাকা থেকেও ভবিষ্যতে প্রতিভাবান ফুটবলার উঠে আসবে এবং খেলাধুলার মাধ্যমে আরও বেশি তরুণকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।