মিয়ানমারের প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধানে খননকাজ করবে কানাডীয় প্রতিষ্ঠান

মিয়ানমারের প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধানে খননকাজ করবে কানাডীয় প্রতিষ্ঠান

জার্নাল প্রতিবেদক যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারের উপকূলে প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধানে গভীর সমুদ্রে খননকাজ শুরু করার পরিকল্পনা করেছে কানাডীয় অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান কানাডিয়ান ফোরসাইট গ্রুপ (সিএফজি)। বুধবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাওয়াদ্দির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের শেষ নাগাদ মিয়ানমারের তানিনথারি উপকূলের ব্লক এম১৫-এ গভীর সমুদ্রে খননকাজ শুরু করতে চায় সিএফজি। প্রকল্পটি সামরিক শাসনাধীন মিয়ানমার অয়েল অ্যান্ড গ্যাস এন্টারপ্রাইজ (এমওজিই)-এর সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত হবে। সামরিক শাসকগোষ্ঠীর গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চীনা বংশোদ্ভূত কানাডীয় নাগরিক ও সিএফজির চেয়ারম্যান সংনিং শেনের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা সোমবার এমওজিইর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তানিনথারি অঞ্চলের শাসকগোষ্ঠী-নিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী জাও নাইং উ-ও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে ব্লক এম১৫-এ গ্যাস অনুসন্ধান ও খনন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত সিএফজি ২০১৫ সালের মার্চে এমওজিইর সঙ্গে একটি পণ্য-আদানপ্রদান চুক্তির আওতায় তানিনথারি গভীর সমুদ্রের ব্লক এম১৫-এর অনুসন্ধানের জন্য দরপত্রে জয়ী হয়। প্রতিষ্ঠানটির ২০১৭ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ব্লকটিতে তাদের ৮০ শতাংশ অংশীদারত্ব রয়েছে। সম্প্রতি মিয়ানমার সরকার চারটি নতুন অফশোর গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের ঘোষণা দেওয়ার পর ব্লক এম১৫ নিয়ে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। এসব গ্যাসক্ষেত্রে সম্মিলিতভাবে আনুমানিক ১০৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় মজুতটি তানিনথারি উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত। সেখানে প্রায় ৯৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মজুতটির অবস্থান আন্দামান সাগরের দক্ষিণ তানিনথারি উপকূলের কাছে কাদান দ্বীপের আশপাশের ব্লক এম১৫ এলাকায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্লকটি ১৩ হাজার বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকা নিয়ে বিস্তৃত। বিবিসি বার্মিজের এক হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পটি থেকে মিয়ানমারের মোট বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশের সমপরিমাণ রাজস্ব আসতে পারে। তবে প্রকল্পটি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগও রয়েছে। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর এমওজিই আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। সংস্থাটিকে মিয়ানমারের সামরিক শাসকগোষ্ঠীর বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সমালোচকদের অভিযোগ, এই অর্থ সামরিক বাহিনীর চলমান সংঘাত ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে ব্যবহৃত হচ্ছে। অন্যদিকে, মিয়ানমারের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় কানাডা অংশ নিলেও এখনো এমওজিইর ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি। মানবাধিকার সংগঠন জাস্টিস ফর মিয়ানমার ২০২৩ সালে কানাডা সরকারের কাছে এমওজিইর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছিল। ওই সময় আরেকটি কানাডীয় কোম্পানি মিয়ানমারের পৃথক একটি অফশোর গ্যাস প্রকল্পে বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন। ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন। ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারের উপকূলে প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধানে গভীর সমুদ্রে খননকাজ শুরু করার পরিকল্পনা করেছে কানাডীয় অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান কানাডিয়ান ফোরসাইট গ্রুপ (সিএফজি)।

বুধবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাওয়াদ্দির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের শেষ নাগাদ মিয়ানমারের তানিনথারি উপকূলের ব্লক এম১৫-এ গভীর সমুদ্রে খননকাজ শুরু করতে চায় সিএফজি। প্রকল্পটি সামরিক শাসনাধীন মিয়ানমার অয়েল অ্যান্ড গ্যাস এন্টারপ্রাইজ (এমওজিই)-এর সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত হবে।

সামরিক শাসকগোষ্ঠীর গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চীনা বংশোদ্ভূত কানাডীয় নাগরিক ও সিএফজির চেয়ারম্যান সংনিং শেনের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা সোমবার এমওজিইর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তানিনথারি অঞ্চলের শাসকগোষ্ঠী-নিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী জাও নাইং উ-ও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে ব্লক এম১৫-এ গ্যাস অনুসন্ধান ও খনন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত সিএফজি ২০১৫ সালের মার্চে এমওজিইর সঙ্গে একটি পণ্য-আদানপ্রদান চুক্তির আওতায় তানিনথারি গভীর সমুদ্রের ব্লক এম১৫-এর অনুসন্ধানের জন্য দরপত্রে জয়ী হয়। প্রতিষ্ঠানটির ২০১৭ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ব্লকটিতে তাদের ৮০ শতাংশ অংশীদারত্ব রয়েছে।

সম্প্রতি মিয়ানমার সরকার চারটি নতুন অফশোর গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের ঘোষণা দেওয়ার পর ব্লক এম১৫ নিয়ে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। এসব গ্যাসক্ষেত্রে সম্মিলিতভাবে আনুমানিক ১০৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় মজুতটি তানিনথারি উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত। সেখানে প্রায় ৯৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মজুতটির অবস্থান আন্দামান সাগরের দক্ষিণ তানিনথারি উপকূলের কাছে কাদান দ্বীপের আশপাশের ব্লক এম১৫ এলাকায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্লকটি ১৩ হাজার বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকা নিয়ে বিস্তৃত।

বিবিসি বার্মিজের এক হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পটি থেকে মিয়ানমারের মোট বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশের সমপরিমাণ রাজস্ব আসতে পারে। তবে প্রকল্পটি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগও রয়েছে। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর এমওজিই আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। সংস্থাটিকে মিয়ানমারের সামরিক শাসকগোষ্ঠীর বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সমালোচকদের অভিযোগ, এই অর্থ সামরিক বাহিনীর চলমান সংঘাত ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে ব্যবহৃত হচ্ছে।

অন্যদিকে, মিয়ানমারের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় কানাডা অংশ নিলেও এখনো এমওজিইর ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি। মানবাধিকার সংগঠন জাস্টিস ফর মিয়ানমার ২০২৩ সালে কানাডা সরকারের কাছে এমওজিইর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছিল। ওই সময় আরেকটি কানাডীয় কোম্পানি মিয়ানমারের পৃথক একটি অফশোর গ্যাস প্রকল্পে বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *