মণিপুরে লুট হওয়া অস্ত্র জমা দিতে ১৫ দিনের সময়, এরপর আইনি ব্যবস্থা
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
ভারতের মণিপুরে লুট হওয়া, অবৈধ বা অনুমোদনহীন অস্ত্র ১৫ দিনের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ইয়ুমনাম খেমচাঁদ সিং। নির্ধারিত সময়ের পর কারও কাছে অবৈধ অস্ত্র পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
বুধবার (১২ আগস্ট) রাজ্যের ১ম মণিপুর রাইফেলস গ্রাউন্ডে স্বরাষ্ট্র বিভাগের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন মুখ্যমন্ত্রী। সহিংসতাকবলিত রাজ্যে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে খেমচাঁদ বলেন, মণিপুরে শান্তি ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। অস্ত্র উদ্ধারে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষ স্বেচ্ছায় অস্ত্র জমা দেওয়ায় বোঝা যাচ্ছে, মণিপুরের জনগণ শান্তি চায়। চলতি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত ১ হাজার ৪২২টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৭ হাজার ১০টি গুলি এবং ১ হাজার ১৩৭টি বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো কিছু অস্ত্র উদ্ধার করা বাকি রয়েছে বলে জানান তিনি।
খেমচাঁদ বলেন, সংকটের সময় কী পরিস্থিতিতে মানুষ এসব অস্ত্র সংগ্রহ করেছিল, তা বিবেচনায় নিয়ে সরকার শুরুতে অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয়তা দেখিয়েছে। তবে বর্তমানে মণিপুরের পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ফলে অবৈধ অস্ত্র নিজের কাছে রাখা, গোপন করা বা বহন করার আর কোনো যৌক্তিকতা নেই।
এ অবস্থায় যাদের কাছে লুট হওয়া বা অবৈধ অস্ত্র রয়েছে, তাদের আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নিজ নিজ বিধায়কের মাধ্যমে অথবা সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশের কাছে অস্ত্র জমা দেওয়ার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ১৫ দিন পর কারও কাছে অবৈধ, অনুমোদনহীন বা লুট হওয়া অস্ত্র পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী মামলা করা হবে।
২০২৩ সালের ৩ মে মণিপুরে শুরু হওয়া সহিংসতার কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘস্থায়ী এ সংকটে ব্যাপক প্রাণহানি ও দুর্ভোগের পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। অস্ত্রের সংখ্যা কমে আসা এবং মানুষের স্বেচ্ছায় অস্ত্র জমা দেওয়ার ঘটনাকে তিনি শান্তি ও স্বাভাবিকতার পথে রাজ্যের অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সংলাপ অব্যাহত রেখেছে সরকার। শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনের একমাত্র পথ হিসেবে তিনি আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জাতীয় মহাসড়কে অবরোধ থাকা সত্ত্বেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে এ পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের একটি প্রদর্শনী করা হয়। পাশাপাশি ‘মণিপুর মার্চেস টু পিস’ শিরোনামের একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপমুখ্যমন্ত্রী লোসি দিখো, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোবিন্দাস কনথৌজাম, পর্যটনমন্ত্রী কে এইচ লোকেন সিং, পুলিশের মহাপরিচালক (ডিজিপি), নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।