সেপ্টেম্বর ঘিরে পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা জোরদার, খাগড়াছড়িতে সমন্বয় সভা

সেপ্টেম্বর ঘিরে পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা জোরদার, খাগড়াছড়িতে সমন্বয় সভা

সেপ্টেম্বর ঘিরে পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা জোরদার, খাগড়াছড়িতে সমন্বয় সভা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

পার্বত্য চট্টগ্রামে সেপ্টেম্বর মাসকে ঘিরে সম্ভাব্য সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, উসকানি, দাঙ্গা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা মোকাবিলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিকভাবে মোকাবিলা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা বাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসনের সমন্বিত কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ লক্ষ্যে আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে সেনাবাহিনীর ২০৩ পদাতিক ব্রিগেড ও খাগড়াছড়ি রিজিয়নের সম্মেলন কক্ষে রিজিওনাল ইন্টেলিজেন্স কমিটির (আরআইসি) একটি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি আগামী সেপ্টেম্বর মাসে সম্ভাব্য বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কেএম ওবায়দুল হক সভায় সভাপতিত্ব করেন।

এসময় সভায় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি, সেনাবাহিনীর ও বিজিবির বিভিন্ন জোন অধিনায়ক, পুলিশ, এপিবিএন, আনসারসহ সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেপ্টেম্বর মাসে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক উসকানি, উত্তেজনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করা হয়। এ ধরনের পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যাতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে আগাম প্রস্তুতি এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, অতীতে পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনীসহ সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বেসামরিক প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা দ্রুত শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। আগামী দিনেও এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রয়োজন রয়েছে।

সেপ্টেম্বর ঘিরে পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা জোরদার, খাগড়াছড়িতে সমন্বয় সভা

সেপ্টেম্বর মাসকে সামনে রেখে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং জনসমাগমস্থলে নজরদারি আরও বাড়ানোর বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য বা সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক প্রচারণার মাধ্যমে যাতে উত্তেজনা ছড়াতে না পারে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় বলা হয়, কোনো ধরনের গুজব বা উসকানিমূলক প্রচারণাকে কেন্দ্র করে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নিজ নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি পারস্পরিক যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদান আরও জোরদার করতে হবে। সম্ভাব্য ঝুঁকি দেখা দিলে দ্রুত সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।

এদিকে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টিও সভায় বিশেষ গুরুত্ব পায়। দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা সাম্প্রদায়িক উসকানির সুযোগ যাতে কেউ নিতে না পারে, সেজন্য আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

শুধু দুর্গাপূজা নয়, সেপ্টেম্বর মাসে পার্বত্য চট্টগ্রামে পর্যটকদের উপস্থিতি এবং বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে মানুষের চলাচল বিবেচনায় নিয়ে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও সভায় আলোচনা করা হয়। পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পর্যটকরা যাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার, গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে আগাম তথ্য সংগ্রহের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে কোনো ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগাম ঝুঁকি শনাক্ত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পাহাড়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে নিরাপত্তা বাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাশেখ হাসিনাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *