মালবাহী গাড়িতে যাত্রী পরিবহন বন্ধের দাবি, ২০ আগস্ট থেকে দূরপাল্লার গাড়ি বন্ধের হুঁশিয়ারি
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
রাঙামাটিতে রুট পারমিটবিহীন মালবাহী ছোট গাড়িতে যাত্রী পরিবহন বন্ধের দাবিতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মোটর মালিক সমিতি ও চট্টগ্রাম বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন। আগামী ১৯ আগস্টের মধ্যে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ২০ আগস্ট থেকে রাঙামাটিসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন দূরপাল্লার রুটে যান চলাচল বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠন দুটি।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম এবং স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক মো. মোবারক হোসেনের কাছে পৃথকভাবে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে সংগঠন দুটি জানায়, চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মোটর মালিক সমিতি ১৯৫২ সাল থেকে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি রুটসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত যাত্রী পরিবহন করে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্ধারিত রুটে পরিবহন সেবা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি বর্তমানে খাগড়াছড়ি, মহালছড়ি, নানিয়ারচর, বান্দরবান ও রাজস্থলীসহ পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন রুটেও তাদের যানবাহন চলাচল করছে।
তবে সম্প্রতি রাঙামাটি শহরের নিউ মার্কেট এলাকা থেকে রুট পারমিটবিহীন ছোট মালবাহী গাড়িতে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠন দুটি। তাদের দাবি, এসব যানবাহন মূলত মালামাল পরিবহনের জন্য ব্যবহারের উপযোগী হলেও সেগুলোতে যাত্রী বহন করা হচ্ছে। এতে যাত্রীদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সংগঠনগুলোর নেতারা বলছেন, নির্ধারিত যাত্রীবাহী যানবাহনের জন্য যেসব নিরাপত্তা ও অনুমোদনের বিষয় বিবেচনা করা হয়, মালবাহী গাড়িতে যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে সেগুলো নিশ্চিত করা হয় না। ফলে একদিকে যাত্রীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে নিয়ম মেনে পরিচালিত পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মালিক ও শ্রমিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
তাদের অভিযোগ, রুট পারমিটবিহীন এসব মালবাহী গাড়িতে যাত্রী পরিবহন অব্যাহত থাকলে সড়কে প্রতিযোগিতামূলক পরিবহন ব্যবস্থায়ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে দুর্গম পাহাড়ি সড়কে অতিরিক্ত ঝুঁকি নিয়ে এ ধরনের যান চলাচল করলে দুর্ঘটনার পরিণতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
স্মারকলিপিতে ১৯ আগস্টের মধ্যে রাঙামাটি শহর ও সংশ্লিষ্ট রুটগুলোতে রুট পারমিটবিহীন মালবাহী গাড়িতে যাত্রী পরিবহন বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করা হয়েছে।
সংগঠন দুটি জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের দাবি বাস্তবায়ন না হলে ২০ আগস্ট থেকে দূরপাল্লার পরিবহন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে তারা।
যেসব রুটে যান চলাচল বন্ধের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—চট্টগ্রাম-রাঙামাটি, রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি-মহালছড়ি, রাঙামাটি-নানিয়ারচর, রাঙামাটি-বান্দরবান এবং রাঙামাটি-রাজস্থলীসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন দূরপাল্লার রুট।
এতে সংগঠন দুটির দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে ২০ আগস্ট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথে যাত্রী পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষয়টি শুধু পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; এর সঙ্গে যাত্রী নিরাপত্তার বিষয়টিও সরাসরি জড়িত। বিশেষ করে পাহাড়ি ও বাঁকপূর্ণ সড়কে যাত্রী বহনের উপযোগী নয়—এমন যানবাহনে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
এ অবস্থায় প্রশাসন ও পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যাটির সমাধান এবং নিরাপদ ও নিয়মতান্ত্রিক যাত্রী পরিবহন নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।