পানছড়িতে সেনাবাহিনীর বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প, সেবা পেলেন ৬০০ মানুষ

পানছড়িতে সেনাবাহিনীর বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প, সেবা পেলেন ৬০০ মানুষ

পানছড়িতে সেনাবাহিনীর বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প, সেবা পেলেন ৬০০ মানুষ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

ছানি রোগীদের বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের উদ্যোগ, রোগীদের মধ্যে বিতরণ করা হলো গাছের চারা

জার্নাল প্রতিবেদক

দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় বিশেষায়িত চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে খাগড়াছড়ির পানছড়িতে দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি জোনের উদ্যোগে রোটারি ক্লাব ও লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালের সহযোগিতায় আয়োজিত এ ক্যাম্পে প্রায় ৬০০ পাহাড়ি ও বাঙালি নারী-পুরুষ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ পেয়েছেন।

বুধবার (১৯ আগস্ট) পানছড়ি মডেল মসজিদ কমপ্লেক্সে এ চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। পানছড়ি উপজেলা ছাড়াও আশপাশের দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বিভিন্ন বয়সী মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে ক্যাম্পে উপস্থিত হন।

দিনব্যাপী এ আয়োজনে তিনজন বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসক রোগীদের চোখ পরীক্ষা করেন। চোখের বিভিন্ন সমস্যা, দৃষ্টিজনিত জটিলতা ও অন্যান্য চক্ষু রোগ শনাক্ত করে রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ওষুধ ও পরামর্শ দেওয়া হয়।

পানছড়িতে সেনাবাহিনীর বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প, সেবা পেলেন ৬০০ মানুষ

বিশেষায়িত এ চিকিৎসা ক্যাম্পে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। অনেক রোগী দীর্ঘদিন ধরে চোখের বিভিন্ন সমস্যায় ভুগলেও দূরত্ব, যাতায়াত ব্যয় ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সীমিত সুযোগের কারণে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে পারছিলেন না। সেনাবাহিনীর উদ্যোগে নিজ এলাকায় চিকিৎসার সুযোগ পেয়ে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

ক্যাম্পেইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ছানি রোগীদের শনাক্তকরণ। চিকিৎসকদের পরীক্ষায় ছানি রোগে আক্রান্ত রোগীদের আলাদাভাবে শনাক্ত করে একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়।

আয়োজকরা জানান, শুধু প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরামর্শ দেওয়ার মধ্যেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। শনাক্ত হওয়া ছানি রোগীদের পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রাম লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ছানি অস্ত্রোপচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পানছড়িতে সেনাবাহিনীর বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প, সেবা পেলেন ৬০০ মানুষ

এতে দুর্গম এলাকার দরিদ্র রোগীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যেসব রোগীর অস্ত্রোপচার প্রয়োজন, তাদের চিকিৎসার পরবর্তী ধাপও নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসা দেখা গেছে।

ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনকারী খাগড়াছড়ি সদর জোনের মেডিকেল অফিসার ক্যাপ্টেন মো. তানজিম বলেন, “প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক মানুষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সুযোগ পান না। তাই তাদের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা শুধু চিকিৎসা নয়, রোগীদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্যও কাজ করছি।”

তিনি বলেন, দুর্গম এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করা হবে।

চিকিৎসাসেবা গ্রহণ শেষে রোগীদের হাতে গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির অংশ হিসেবে এসব চারা বিতরণ করা হয় বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

পানছড়িতে সেনাবাহিনীর বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প, সেবা পেলেন ৬০০ মানুষ

চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী বলেন, পাহাড়ি এলাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে গিয়ে চোখ পরীক্ষা করানো অনেকের জন্যই কঠিন। সেনাবাহিনীর উদ্যোগে স্থানীয় পর্যায়ে এমন ক্যাম্প আয়োজন করায় তাদের সময় ও অর্থ—দুই-ই সাশ্রয় হয়েছে। বিশেষ করে ছানি রোগীদের বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হলে তা দরিদ্র মানুষের জন্য বড় ধরনের সহায়তা হবে।

স্থানীয়রা বলেন, পাহাড়ের প্রত্যন্ত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত। এ কারণে চক্ষু চিকিৎসার মতো বিশেষায়িত সেবা নিয়ে সেনাবাহিনীর এ ধরনের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে পাহাড়ি ও বাঙালি—উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য সমানভাবে চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হওয়ায় এটি সামাজিক সম্প্রীতি ও জনকল্যাণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

আয়োজকরা জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্পসহ নানা জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পানছড়ির এই চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার পাশাপাশি ছানি রোগীদের পরবর্তী চিকিৎসার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দুর্গম অঞ্চলের মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি বিনামূল্যে ছানি অস্ত্রোপচারের মতো উদ্যোগ প্রত্যন্ত এলাকার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *