জনগণনা ও সীমানা পুনর্নির্ধারণের আগে মণিপুরে এনআরসি চায় যৌথ উপজাতি পরিষদ
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
ভারতের মণিপুরে জনগণনা ও নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণের (ডিলিমিটেশন) আগে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে জয়েন্ট ট্রাইবস কাউন্সিল মণিপুর (জেটিসিএম)।
সংগঠনটি বলেছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে মানুষের অব্যাহত অনুপ্রবেশের কারণে মণিপুরের জনসংখ্যার কাঠামোয় পরিবর্তন ঘটছে। এর ফলে রাজ্যের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর পরিচয়, ভূমি, প্রাকৃতিক সম্পদ ও রাজনৈতিক অধিকার দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
জেটিসিএমের দাবি, জনগণনা বা নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণের আগে রাজ্যে প্রকৃত নাগরিক ও আদিবাসী বাসিন্দাদের একটি নির্ভরযোগ্য এবং যাচাইযোগ্য তালিকা তৈরি করা প্রয়োজন।
সংগঠনটির ভাষ্য, অবৈধ অভিবাসনের বিষয়টি সমাধান না করে জনগণনা বা সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হলে জনসংখ্যার প্রকৃত চিত্র উঠে নাও আসতে পারে। এর প্রভাব ভবিষ্যতে মণিপুরের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
এ কারণে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও মণিপুর সরকারের প্রতি ১৯৫১ সালকে ভিত্তিবছর ধরে এনআরসি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে জেটিসিএম। এর মাধ্যমে প্রকৃত নাগরিকদের শনাক্ত ও যাচাই করার পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
একই সঙ্গে এনআরসি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত মণিপুরে জনগণনা স্থগিত রাখার দাবি জানানো হয়েছে। জেটিসিএম বলেছে, জনগণনার তথ্য প্রকৃত ও যাচাই করা নাগরিকদের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত।
নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রেও একই অবস্থান নিয়েছে সংগঠনটি। তাদের মতে, এনআরসি সম্পন্ন হওয়ার পরই ডিলিমিটেশন করা উচিত, যাতে যাচাই না করা বা বিকৃত জনসংখ্যার তথ্যের ভিত্তিতে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নির্ধারিত না হয়।
এ ছাড়া রাজ্য আইনে নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করেও যেসব অবৈধ বসতিকে গ্রাম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর স্বীকৃতি বাতিলেরও দাবি জানিয়েছে জেটিসিএম।
সংগঠনটি মনে করে, এনআরসি, জনগণনা ও ডিলিমিটেশন পরস্পর সম্পর্কিত। তাই জনসংখ্যা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরুর আগে নাগরিকদের একটি যাচাই করা নিবন্ধন থাকা জরুরি।
জেটিসিএম সতর্ক করে বলেছে, জনমতের বিরোধিতা সত্ত্বেও সরকার মণিপুরে জনগণনা কার্যক্রম এগিয়ে নিলে তারা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে। প্রয়োজনে বন্ধ, বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচির মতো কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
মণিপুরের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর পরিচয়, ভূমির অধিকার ও রাজনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষায় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।