কাপ্তাই হ্রদে বজ্রপাত থেকে জেলেদের সুরক্ষায় ৬৬টি বজ্র নিরোধক যন্ত্র স্থাপন, পরিদর্শনে বিএফডিসি চেয়ারম্যান
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
বজ্রপাতের ঝুঁকি থেকে কাপ্তাই হ্রদে অবস্থানরত জেলে ও মৎস্যজীবীদের সুরক্ষা দিতে হ্রদের বিভিন্ন এলাকায় ৬৬টি বজ্র নিরোধক যন্ত্র স্থাপন করা হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন বিএফডিসির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. মীর হোসেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে সরকারি সফরে রাঙামাটির বিভিন্ন কার্যক্রম শেষে কাপ্তাই মৎস্য উপকেন্দ্র (বিএফডিসি) পরিদর্শনে যান তিনি। এ সময় তিনি মৎস্য উপকেন্দ্রের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং কেন্দ্রের সড়কসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করার আশ্বাস দেন।
পরে বিএফডিসি চেয়ারম্যান জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বিএফডিসির ‘হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন কেন্দ্রে বজ্র নিরোধক যন্ত্র স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় চলমান কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন।
পরিদর্শনকালে বিএফডিসি চেয়ারম্যান মো. মীর হোসেন জানান, কাপ্তাই হ্রদের বিভিন্ন এলাকায় মোট ৬৬টি বজ্র নিরোধক যন্ত্র স্থাপন করা হবে।
কাপ্তাই হ্রদে বিপুলসংখ্যক জেলে ও মৎস্যজীবী নিয়মিত মাছ আহরণ ও সংশ্লিষ্ট কাজে নিয়োজিত থাকেন। বর্ষা মৌসুমসহ বছরের বিভিন্ন সময়ে বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকায় হ্রদে অবস্থানরত এসব মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বজ্র নিরোধক যন্ত্রগুলো স্থাপনের ফলে হ্রদে অবস্থানরত জেলে ও মৎস্যজীবীদের বজ্রপাতের ঝুঁকি থেকে অনেক ক্ষেত্রে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানান বিএফডিসি চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলার পাশাপাশি কাপ্তাই হ্রদের মৎস্যসম্পদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এ প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।

‘হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন কেন্দ্রে বজ্র নিরোধক যন্ত্র স্থাপন’ প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৪৯৪ দশমিক ২৭৪ লাখ টাকা। প্রকল্পের চুক্তিমূল্য ৪ কোটি ৮২ লাখ ৯৯ হাজার ৫৯২ টাকা।
প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ২০২৭ সালের জুন মাসে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
কাপ্তাই হ্রদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বজ্র নিরোধক ব্যবস্থা স্থাপনের মাধ্যমে হ্রদকেন্দ্রিক মৎস্য কার্যক্রমে নিয়োজিত মানুষের নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি জলবায়ুজনিত দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিদর্শন শেষে কাপ্তাই মৎস্য উপকেন্দ্রের কার্যালয়ে মৎস্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় মৎস্য সমিতির সভাপতি মো. বেলাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক নবী হোসেন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাবুদ্দিন মৎস্য ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন কার্যক্রম ও বিদ্যমান সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। তাঁরা মৎস্য ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিএফডিসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করেন।
এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মৎস্য ব্যবসায়ী ও মৎস্যজীবীদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির বিষয়গুলো শোনেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেন।
পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভায় মৎস্য করপোরেশনের বাস্তবায়ন ব্যবস্থাপক রওশন হক, উপপরিচালক মো. বদরুদ্দোজা, রাঙামাটি বিএফডিসির ব্যবস্থাপক কমান্ডার ফয়জুল করিম, কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হানুল ইসলাম, কাপ্তাই মৎস্য উপকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক জসিম উদ্দিন, কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রহমান এবং উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা ফজলে রাব্বিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কাপ্তাই হ্রদের ওপর নির্ভরশীল হাজারো জেলে ও মৎস্যজীবীর জীবন-জীবিকার পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বজ্র নিরোধক যন্ত্র স্থাপন প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বজ্রপাতসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়তে থাকায় হ্রদে কর্মরত মানুষের সুরক্ষায় এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ সময়োপযোগী বলেও মনে করছেন তারা।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।