কাচালং নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে, প্লাবিত নিম্নাঞ্চল; কাপ্তাই বাঁধের গেট খুলে দেওয়ার দাবি
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় কাচালং নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি উপচে উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করায় বসতবাড়ি ও সড়ক প্লাবিত হয়েছে। এতে শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যবস্থা।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার পুরাতন মারিশ্যা, মাস্টারপাড়া, মাদ্রাসাপাড়া, লাইল্যাঘোনা, উলুছড়ি, বাঘাইহাট, পশ্চিম মুসলিম ব্লক ও মধ্যমপাড়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকার নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও বসতবাড়ির আশপাশে পানি উঠে যাওয়ায় স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

টানা বৃষ্টির পাশাপাশি পাহাড়ি ঢলের কারণে কাচালং নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নতুন করে আরও এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পানি বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা।
পানি ঢুকে পড়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রধান প্রধান সড়কও তলিয়ে গেছে। ফলে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক পরিবার কার্যত গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন। জরুরি প্রয়োজনে চলাচল করতে গিয়ে স্থানীয়দের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এ অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাঁধের গেট খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, কাচালং নদীর পানি দ্রুত কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বাঘাইছড়ি ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় পানি আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, কাচালং নদীর পানি এভাবে বাড়তে থাকলে শুধু নিম্নাঞ্চল নয়, আরও অনেক বসতিপূর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার অধিবাসীরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে কাপ্তাই বাঁধের গেট খুলে দিয়ে নদীর পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত পানি না কমলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি বসতবাড়ি, সড়ক ও কৃষিজমির আরও ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। তাই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি দুর্গত মানুষের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন তারা।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।