সাজেকে আটকে পড়া দেড় হাজার পর্যটককে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিল সেনাবাহিনী
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
টানা বৃষ্টি ও অতিরিক্ত পাহাড়ি ঢলে সাজেক সড়কের বাঘাইহাট বাজার এলাকায় মূল সড়কের একটি অংশ প্লাবিত হয়ে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার পর সাজেকে আটকে পড়া প্রায় দেড় হাজার পর্যটককে নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ, নিবিড় তদারকি ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় পর্যটকদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করে প্রশংসা কুড়িয়েছে সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোন।
গত বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাতে অতিরিক্ত পাহাড়ি ঢলের কারণে সাজেক রোডের বাঘাইহাট বাজার এলাকায় মূল সড়কের কিছু অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। এতে সাজেক পর্যটন এলাকায় অবস্থানরত বিপুলসংখ্যক পর্যটক সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে আটকা পড়েন। পরদিন শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সকালেও বাঘাইহাট বাজার এলাকার পানি পুরোপুরি নেমে না যাওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।
এ অবস্থায় সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপত্তা ও তাদের নিজ নিজ গন্তব্যে নিরাপদে ফেরার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সড়কের অবস্থা, পানির প্রবাহ ও যান চলাচলের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে তদারকি করেন সেনাসদস্যরা।

সেনাবাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টা ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় শুক্রবার দিনব্যাপী সাজেকে আটকে থাকা প্রায় দেড় হাজার পর্যটককে নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। পানি পুরোপুরি নিষ্কাশিত না হলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় পর্যটক ও যানবাহনের চলাচল নিরাপদভাবে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
দুর্যোগের মুহূর্তে পর্যটকদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সেনাবাহিনীর এমন দ্রুত পদক্ষেপে স্বস্তি ফিরে আসে সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের মধ্যে। পাহাড়ি ঢলে সড়ক প্লাবিত হওয়ায় অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা পর্যটকদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে সেনাবাহিনীর সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতা ও তদারকি করেন।
পর্যটকরা জানান, পাহাড়ি ঢলের কারণে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় তারা কিছুটা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। তবে সেনাবাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় তাদের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়। সেনাসদস্যদের আন্তরিক সহযোগিতা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে তারা নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরতে পেরেছেন বলে জানান তারা।

পর্যটকদের অনেকেই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এমন মানবিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন। তাদের মতে, পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে সাজেকের দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান এবং আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের মতো পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর তাৎক্ষণিক তৎপরতা তাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন সহজ করেছে।
স্থানীয়রাও সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, পাহাড়ি অঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে হঠাৎ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পর্যটকরাও বিপাকে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ দুর্যোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি যেকোনো দুর্যোগ ও সংকটময় পরিস্থিতিতে জনগণের পাশে থেকে মানবিক সহায়তা প্রদান, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা সেনাবাহিনীর অন্যতম দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও একই নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সাজেকে পাহাড়ি ঢলের কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা যখন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছিল, ঠিক সেই সময়ে প্রায় দেড় হাজার পর্যটকের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে বাঘাইহাট জোনের এ উদ্যোগ শুধু দুর্যোগকালীন ব্যবস্থাপনার সক্ষমতাই নয়, জননিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তায় সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকারও একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।