খাগড়াছড়ির লক্ষীছড়িতে ২০ পাহাড়ি-বাঙালি যুবককে কারিগরি প্রশিক্ষণ দিল সেনাবাহিনী
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
খাগড়াছড়ির লক্ষীছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বেকার যুবকদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০ জন পাহাড়ি-বাঙালি যুবককে তিন সপ্তাহব্যাপী কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ আর্টিলারি ব্রিগেড ও গুইমারা রিজিয়নের আওতাধীন লক্ষীছড়ি জোন।
প্রশিক্ষণে ‘মেকানিক্যাল অ্যান্ড রিপেয়ার’ এবং ‘ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মোবাইল রিপেয়ার’ বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী বেকার যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে নিজ উদ্যোগে কাজের সুযোগ তৈরি এবং তাদের আয়মুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করাই এ প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার সকালে লক্ষীছড়ি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম তুলে দেন লক্ষীছড়ি জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খান সজিবুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে জোন অধিনায়ক বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার যুবকদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তারা যেন প্রশিক্ষণ শেষে নিজ উদ্যোগে কাজ শুরু করে আয় করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এ কারিগরি প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। শুধু প্রশিক্ষণ দেওয়াই নয়, প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের হাতে কাজ শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও তুলে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক যুবকেরই কাজ শেখার আগ্রহ থাকলেও আর্থিক ও ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কারণে তারা প্রশিক্ষণের সুযোগ পান না। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের দক্ষ করে গড়ে তুলে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হবে। এর ফলে পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতা আনার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কারিগরি সেবার চাহিদাও পূরণ হবে।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের যাতায়াত খরচ এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ সামগ্রীও লক্ষীছড়ি সেনা জোনের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যেককে কাজের ক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দেওয়া হয়, যাতে তারা প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে দ্রুত নিজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ‘মেকানিক্যাল অ্যান্ড রিপেয়ার’ এবং ‘ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মোবাইল রিপেয়ার’ বর্তমানে স্থানীয় পর্যায়ে চাহিদাসম্পন্ন কারিগরি কাজ। এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে যুবকরা স্থানীয় বাজারে বিভিন্ন ধরনের মেরামত ও কারিগরি সেবা দেওয়ার মাধ্যমে আয় করতে পারবেন। এতে একদিকে যেমন বেকারত্ব কমবে, অন্যদিকে দুর্গম এলাকার মানুষও হাতের কাছে প্রয়োজনীয় কারিগরি সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
প্রশিক্ষণ শেষে সনদ ও সরঞ্জাম হাতে পেয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে উৎসাহ দেখা যায়। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তারা ভবিষ্যতে নিজ নিজ এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে সক্ষম হবেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে লক্ষীছড়ি জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর হোসাইন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফোরকান হাওলাদারসহ সামরিক পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় নিরাপত্তা কার্যক্রমের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা বৃদ্ধি ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।