বেকার যুবকদের আত্মকর্মসংস্থানে সেনাবাহিনীর উদ্যোগ: ভেহিক্যাল রিপেয়ার অ্যান্ড মেনটেনেন্স প্রশিক্ষণ শুরু
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার বেকার যুবকদের কারিগরি দক্ষতায় দক্ষ করে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এরই অংশ হিসেবে খাগড়াছড়ির গুইমারা রিজিয়নের সিন্দুকছড়ি জোনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় শুরু হয়েছে দুই সপ্তাহব্যাপী ‘ভেহিক্যাল রিপেয়ার অ্যান্ড মেনটেনেন্স ওয়ার্কশপ’ বিষয়ক বিশেষ কারিগরি প্রশিক্ষণ।
আজ সকাল ৯টায় গুইমারার রামসুবাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। সিন্দুকছড়ি জোনের আয়োজনে পরিচালিত এ কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি-বাঙালি অধ্যুষিত প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা মোট ১০ জন বেকার যুবক অংশগ্রহণ করছেন। তাদের মধ্যে ৮ জন পাহাড়ি ও ২ জন বাঙালি।
প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী আয়োজনে অংশগ্রহণকারী যুবকদের হাতে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সহায়ক বিভিন্ন উপকরণ তুলে দেওয়া হয়। দুর্গম এলাকার এসব যুবকের জন্য হাতে-কলমে কারিগরি জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে স্থানীয়ভাবে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিন্দুকছড়ি জোনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুই সপ্তাহব্যাপী নিবিড় এ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের মোটরযান মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের বিভিন্ন বিষয়ে ব্যবহারিক ও কারিগরি জ্ঞান দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা যানবাহনের বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটি শনাক্তকরণ, মেরামত এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মতো প্রয়োজনীয় বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম ভৌগোলিক বাস্তবতায় অনেক বেকার যুবকের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক চাকরির সুযোগ সীমিত। এমন পরিস্থিতিতে বাজারে চাহিদাসম্পন্ন কারিগরি দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তাদের নিজ উদ্যোগে কাজ শুরু করার পথ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যানবাহনের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মোটরযান মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ সংশ্লিষ্ট দক্ষ জনবলের চাহিদাও তৈরি হচ্ছে। ফলে এ ধরনের প্রশিক্ষণ স্থানীয় যুবকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে আয়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগের অন্যতম ইতিবাচক দিক হলো, প্রশিক্ষণের আওতায় পাহাড়ি ও বাঙালি—উভয় সম্প্রদায়ের যুবকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে কারিগরি দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতির পরিবেশও তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া যুবকরা সেনাবাহিনীর এ মানবিক ও গঠনমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তারা বলেন, প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাস করায় অনেক সময় চাইলেও প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাওয়া যায় না। সেনাবাহিনীর উদ্যোগে নিজেদের এলাকায় এমন প্রশিক্ষণের সুযোগ পাওয়ায় তারা ভবিষ্যতে অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার প্রত্যাশা করছেন।
স্থানীয়দের মতে, শুধু সহায়তা প্রদান নয়, মানুষের হাতে কাজের দক্ষতা তুলে দেওয়া এবং তাদের আয় করার সক্ষমতা তৈরি করা একটি টেকসই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ। এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একজন বেকার যুবক ভবিষ্যতে নিজে কাজ করার পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারেন। ফলে ব্যক্তিগত স্বাবলম্বিতার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দক্ষতা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সেই বিবেচনায় সিন্দুকছড়ি জোনের এ কারিগরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া যুবকরা ভবিষ্যতেও পার্বত্য অঞ্চলের বেকার তরুণদের জন্য মোটরযান মেরামত, ইলেকট্রিক্যাল, মোবাইল রিপেয়ারসহ বিভিন্ন চাহিদাসম্পন্ন কারিগরি বিষয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
তাদের প্রত্যাশা, প্রশিক্ষণ শেষে অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তারা নিজ নিজ এলাকায় আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারবেন। একই সঙ্গে এ ধরনের উদ্যোগ পার্বত্য এলাকার তরুণ প্রজন্মকে কর্মমুখী ও স্বাবলম্বী করে তোলার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।