টেকনাফে নাজির হোসেন হত্যা: এজাহারভুক্ত ৫ নম্বর আসামি রিদোয়ান গ্রেফতার
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
কক্সবাজারের টেকনাফে চাঞ্চল্যকর নাজির হোসেন হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ৫ নম্বর আসামি মো. রিদোয়ানকে (২৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নাজির হোসেন হত্যা মামলার ঘটনায় নিজেকে জড়িয়ে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে থানা পুলিশের একটি চৌকস আভিযানিক দল র্যাব-১৫-এর সিপিসি-১, টেকনাফ ক্যাম্পের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের হাবির ছড়া এলাকার পাহাড়ি অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে নাজির হোসেন হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. রিদোয়ানকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার রিদোয়ান টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন পল্লান পাড়া এলাকার মৃত কবির আহম্মদ প্রকাশ কবির মাঝির ছেলে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, টেকনাফ মডেল থানায় দায়ের করা এফআইআর নং-৬৫, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এবং জিআর নং-৭৮৩ মামলায় রিদোয়ানের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩/১৪৭/৩৮৫/৩০৭/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০২/৫০৬/১১৪/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব ধারার মধ্যে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।
গ্রেফতারের পর রিদোয়ানকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। সেখানে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নাজির হোসেন হত্যা মামলার ঘটনার সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম শুক্রবার রাত ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, অপরাধ দমন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং চিহ্নিত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে টেকনাফ থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। নাজির হোসেন হত্যা মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারেও পুলিশের অভিযান চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নতুন পল্লান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে দক্ষিণ পাড়া এলাকায় অস্ত্রধারীদের ছুরিকাঘাতে নাজির হোসেন (৪০) নিহত হন। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হন।
নিহত নাজির হোসেন ওই এলাকার ফজল আহমদের ছেলে। ঘটনায় আহতরা হলেন মো. সালাম, জাহাঙ্গীর আলম, নবী হোসেন, খোরশেদ আলম ও আলমগীর।
ঘটনার পর নিহতের ভাই জাকের হোসেন বাদী হয়ে টেকনাফ মডেল থানায় ১৪ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই এজাহারনামীয় আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চালিয়ে আসছে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় মামলার ৫ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি রিদোয়ানকে হাবির ছড়া এলাকার পাহাড়ি অঞ্চল থেকে গ্রেফতার করা হয়।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।