লোডশেডিং নিয়ে নতুন শঙ্কা, আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
কয়লা সংকট কাটিয়ে উৎপাদন বাড়তে শুরু করেছিল ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রে। এর মধ্যেই কারিগরি ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটির একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। এতে আগে থেকেই ঘাটতিতে থাকা দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা আরও চাপে পড়েছে। ফলে লোডশেডিং বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার পর গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার কেন্দ্রটিতে ৮০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট রয়েছে।
কয়লা সরবরাহে সংকটের কারণে গত ৭ আগস্ট থেকে কেন্দ্রটির উৎপাদন কমে যায়। তবে কয়লা সরবরাহ বাড়ায় গত মাসের শেষ দিক থেকে ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়ছিল। দিনের বেলায় প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল কেন্দ্রটি।
গত ৯ সেপ্টেম্বর রাতে এক পর্যায়ে আদানি থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। তবে রাত ১২টার পর একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ৭৩২ মেগাওয়াটে।
শুক্রবার সকালেও সরবরাহে বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি। সকাল ৮টায় ৭৩৪ মেগাওয়াট, ৯টায় ৭৩৭ মেগাওয়াট, ১০টায় ৭২৪ মেগাওয়াট এবং ১১টায় ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় সরবরাহ ছিল ৭৩২ মেগাওয়াট।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বয়লারে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এটি স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা হতে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। এরপর ত্রুটি শনাক্ত করে মেরামতের কাজ শুরু হবে। ফলে বন্ধ ইউনিটটি পুনরায় চালু করে উৎপাদন স্বাভাবিক করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
এদিকে, আদানির ইউনিট বন্ধ হওয়ার আগেই দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ঘাটতি ছিল। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পিক আওয়ারে লোডশেডিং ২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় শুক্রবার লোডশেডিংয়ের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সর্বশেষ উৎপাদন তথ্য অনুযায়ী, দেশে পিডিবির গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াট, কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট এবং তরল জ্বালানিচালিত কেন্দ্রগুলো থেকে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। সব মিলিয়ে ১৬ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। এতে জাতীয় গ্রিডে ঘাটতি তৈরি হওয়ায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে আদানি পাওয়ারের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি করে পিডিবি। চুক্তির আওতায় ভারতের ঝাড়খণ্ডে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার কয়লাভিত্তিক গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হয়।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।