মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মাঝেও ঐক্যবদ্ধ ব্রিকস, যৌথ ঘোষণাপত্রে ঐকমত্য

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মাঝেও ঐক্যবদ্ধ ব্রিকস, যৌথ ঘোষণাপত্রে ঐকমত্য

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মাঝেও ঐক্যবদ্ধ ব্রিকস, যৌথ ঘোষণাপত্রে ঐকমত্য
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

মধ্যপ্রাচ্যের তীব্র সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক মতপার্থক্য পাশ কাটিয়ে যৌথ ঘোষণাপত্রে ঐকমত্যে পৌঁছেছে উদীয়মান অর্থনীতির জোট ব্রিকস। শনিবার নয়াদিল্লিতে শুরু হওয়া শীর্ষ সম্মেলনের প্রথম দিনেই এই কূটনৈতিক সাফল্যের কথা জানা গেছে। বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে জোটের প্রভাব বাড়াতে একে একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের করাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে আল-মনিটর।

সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে স্বাগতিক ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, এই জোট এখন পূর্ণতা লাভ করেছে এবং বৈশ্বিক মঞ্চে নিজেদের ঐক্য ও ঐকমত্যকে বাস্তব ফলাফলে রূপ দেওয়ার সময় এখনই।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধ এবং লোহিত সাগর অঞ্চলে হুথি বিদ্রোহীদের তৎপরতার পটভূমিতে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাতে জড়িত সদস্য দেশ ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার বিভেদ ও দূরত্ব কমিয়ে একটি অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছানোই ছিল এবারের সম্মেলনের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

চারটি সূত্র জানায়, বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে তুমুল আলোচনার পর একটি যৌথ ঘোষণাপত্রের খসড়ায় ঐকমত্যে পৌঁছেছেন আলোচকরা। ওই ঘোষণাপত্রে কোনও নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ না করা হলেও যেকোনও দেশের একক বা একতরফা আগ্রাসনের নিন্দা জানানো হয়েছে। সম্মেলনের প্রথম দিনেই এই নথিতে জোটের শীর্ষ নেতারা আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

২৪ ঘণ্টার ভারত সফরে নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো শি জিনপিং২৪ ঘণ্টার ভারত সফরে নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো শি জিনপিং
ভারতের মধ্যস্থতায় এবং দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে এই মতপার্থক্য দূর করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এর আগে গত মে মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও ইরান ও আমিরাতের মতপার্থাকের কারণে কোনো যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।

দিল্লির এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতারা।

সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে অধিকতর ন্যায়বিচার ও সমতার দিকে পরিচালিত করার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, পশ্চিমা আধিপত্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, বৈশ্বিক সংকটের সামনের সারিতে গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলো থাকলেও নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে তাদের রাখা হয় পেছনের সারিতে। এই বৈষম্যমূলক কাঠামো পরিবর্তন করে এমন এক অংশীদারিত্বের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে হবে যেখানে প্রতিটি দেশের কণ্ঠস্বর এবং অংশীদারিত্ব নিশ্চিত হয়।

পাশাপাশি, জাতিসংঘ নিরাপত্তা কাউন্সিলের সংস্কার এবং ভারতসহ উদীয়মান ক্ষমতাধর দেশগুলোর জন্য স্থায়ী সদস্য পদের দাবি আবারও পুনর্ব্যক্ত করেন নরেন্দ্র মোদি।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *