দীঘিনালায় সম্প্রীতির বার্তা ছড়াচ্ছে সেনাবাহিনীর ফুটবল টুর্নামেন্ট
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম জনপদে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য সুদৃঢ় করার পাশাপাশি তরুণ সমাজকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে আয়োজিত ‘দীঘিনালা ফুটবল কাপ টুর্নামেন্ট-২০২৬’ ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এ আয়োজন ক্রীড়াঙ্গনের পাশাপাশি পারস্পরিক বন্ধন ও সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দীঘিনালা মিনি স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় খেলা অনুষ্ঠিত হয়। দীঘিনালা জোনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ খেলায় মাঠজুড়ে ছিল দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতি। স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি পাহাড়ি-বাঙালি সকল সম্প্রদায়ের দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো স্টেডিয়াম প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দীঘিনালা জোনের সেনা কর্মকর্তা মেজর মো. তৌকির আহমেদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দীঘিনালা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ তরুণ কান্তি চাকমা। এছাড়া দীঘিনালা জোনের অ্যাডজুটেন্ট ক্যাপ্টেন মো. জাহিদ হাসান জয়, দীঘিনালা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জয়নুল আবেদীন, দীঘিনালা কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম, দীঘিনালা জীপ মালিক সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন, জনপ্রতিনিধি, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, খেলাটি উপভোগ করতে আনুমানিক ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ দর্শক মাঠে উপস্থিত ছিলেন। পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের এমন ব্যাপক উপস্থিতি প্রমাণ করে, খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে দীঘিনালায় পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধনের একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
দ্বিতীয় ম্যাচে ‘সম্প্রীতি ফুটবল একাদশ’ ও ‘ঐক্য ফুটবল একাদশ’ মুখোমুখি হয়। শুরু থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলায় উভয় দল আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। শেষ পর্যন্ত দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে ৫-২ গোলের ব্যবধানে জয় পায় সম্প্রীতি ফুটবল একাদশ।

সেনাবাহিনীর এ আয়োজন শুধু একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, তাদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মানসিকতা তৈরি এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও সৌহার্দ্য বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে আয়োজিত এ ফুটবল টুর্নামেন্ট স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। মাঠে বিপুল দর্শকের উপস্থিতি এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে স্থানীয় জনগণের পারস্পরিক আস্থা ও সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা ও দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের কল্যাণ, যুবসমাজের উন্নয়ন এবং সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় দীঘিনালা ফুটবল কাপ টুর্নামেন্ট-২০২৬ একটি প্রশংসনীয় সংযোজন। খেলাধুলার মতো ইতিবাচক কর্মকাণ্ডকে সামনে রেখে তরুণদের একত্রিত করার এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে একটি সুস্থ, সম্প্রীতিপূর্ণ ও ঐক্যবদ্ধ সামাজিক পরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।