পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি-নিরাপত্তায় কমিটি গঠন, সরকারকে পিসিএনপির ৮ দফা দাবি

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি-নিরাপত্তায় কমিটি গঠন, সরকারকে পিসিএনপির ৮ দফা দাবি

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি-নিরাপত্তায় কমিটি গঠন, সরকারকে পিসিএনপির ৮ দফা দাবি
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় জাতীয় কমিটি, নির্বাহী কমিটি ও পরামর্শক কমিটি গঠন করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি)। একই সঙ্গে পাহাড়ে বসবাসরত সব সম্প্রদায়ের সমঅধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে আট দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পিসিএনপির নেতারা বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছরের মধ্যে অতীতে কোনো সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের উদ্যোগ নেয়নি। বর্তমান সরকারের গঠিত কমিটিগুলোকে স্বাগত জানিয়ে তারা বলেন, এসব কমিটি পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সব জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা, দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা এবং বৈষম্যহীন স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নেতারা বলেন, সরকারের নেওয়া এ উদ্যোগ কার্যকর করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামের সব সম্প্রদায়ের অধিকার, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে ব্রিটিশ আমলে প্রণীত ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি-১৯০০’ বাতিল করে পাহাড়ে স্বাধীন সাংবিধানিক শাসন প্রতিষ্ঠা করা। সমতলের মতো সংবিধানের আলোকে পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি ব্যবস্থাপনা চালু, বন্ধ থাকা ভূমি বন্দোবস্ত পুনরায় চালু করে ভূমিহীন বাঙালি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে জমি বরাদ্দ এবং ভূমি কমিশনে বাঙালি সদস্য নিয়োগের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

এ ছাড়া ‘পার্বত্য চুক্তি’ বাতিল করে সংখ্যানুপাতিক ভিত্তিতে সংবিধান অনুযায়ী সব জাতিসত্তার সমান অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে পিসিএনপি।

জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তিন পার্বত্য জেলায় ১ হাজার ৩৬ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণ এবং প্রতি এক কিলোমিটার পরপর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর বিওপি স্থাপনের দাবিও জানানো হয়। পাহাড়ে শান্তি ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূর্বে প্রত্যাহার করা একটি ব্রিগেড ও ২৪৬টি সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপনের পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামে একটি স্থায়ী সেনা ডিভিশন স্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।

পাহাড়ের অর্থনৈতিক উন্নয়নে পার্বত্য চট্টগ্রামকে পর্যটন এলাকা ঘোষণা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির দাবি জানানো হয়। শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা ও আয়কর মওকুফের ক্ষেত্রে সব সম্প্রদায়ের বৈষম্য দূর করে সমঅধিকার প্রতিষ্ঠারও দাবি জানায় সংগঠনটি।

একই সঙ্গে তিন পার্বত্য জেলায় পর্যাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং প্রতিটি উপজেলা ও জেলা সদরের হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়।

পিসিএনপির চেয়ারম্যান কাজী মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতা প্রফেসর আশরাফ আলী আকন্দ। পিসিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আহমেদ রাজুর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও রাঙামাটি জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য হাবীব আজম, প্রিন্সিপাল এম এ আমিন, ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুল মজিদ, শাহাদাৎ হোসেন, মাওলানা আবু বক্কর ছিদ্দিক এবং মাতৃভূমি সুরক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক ইঞ্জিনিয়ার শাহাদাত ফরাজী সাকিবসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *