কাপ্তাইয়ে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে এসি-ফ্রিজ মেরামত প্রশিক্ষণ, দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে ২৩ তরুণ
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে কাপ্তাইয়ে ‘এসি ও ফ্রিজ মেরামত প্রশিক্ষণ-২০২৬’ শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। শান্তি ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১১ আর ই ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত দুই সপ্তাহব্যাপী এ প্রশিক্ষণে স্থানীয় ২৩ জন যুবক-যুবতী অংশগ্রহণ করছেন। আধুনিক ও চাহিদাসম্পন্ন একটি কারিগরি পেশায় স্থানীয় তরুণদের দক্ষ করে তুলতে সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া এ প্রশিক্ষণ আগামী ১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, এসি ও ফ্রিজ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের বিভিন্ন বিষয়ে হাতে-কলমে বাস্তব অভিজ্ঞতা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রশিক্ষণে এসি ও ফ্রিজের বিভিন্ন যন্ত্রাংশের পরিচিতি, বৈদ্যুতিক সংযোগ, কম্প্রেসর, কনডেনসার, ইভাপোরেটর, থার্মোস্ট্যাট ও রেফ্রিজারেন্ট ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি গ্যাস চার্জিং, গ্যাস লিকেজ শনাক্তকরণ, সার্ভিসিং, ত্রুটি নির্ণয় ও মেরামত এবং এসি-ফ্রিজের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের বিভিন্ন কৌশলও প্রশিক্ষণার্থীদের শেখানো হবে।
বর্তমান সময়ে শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এসি ও ফ্রিজের ব্যবহার বাড়ছে। এর সঙ্গে এসব যন্ত্রের নিয়মিত সার্ভিসিং ও মেরামতের প্রয়োজনীয়তাও তৈরি হচ্ছে। ফলে এ ধরনের ব্যবহারিক কারিগরি দক্ষতা অর্জন একজন তরুণের জন্য স্থানীয় পর্যায়েই আয়ের একটি বাস্তব সুযোগ তৈরি করতে পারে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তবতায় এ ধরনের প্রশিক্ষণের গুরুত্ব আরও বেশি। দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী অনেক তরুণের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক চাকরির সুযোগ সীমিত। আবার কারিগরি প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য দূরের শহরে যাওয়া অনেকের পক্ষেই সময় ও অর্থের কারণে সম্ভব হয় না। স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে সেই বাধা অনেকটাই কমে আসে। প্রশিক্ষণ শেষে একজন তরুণ নিজ এলাকায় থেকেই ছোট পরিসরে সার্ভিসিং ও মেরামতের কাজ শুরু করে আয় করতে পারেন।
১১ আর ই ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় বেকার যুবকদের কারিগরি জ্ঞান ও ব্যবহারিক দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা নিজ উদ্যোগে এসি ও ফ্রিজ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন।
একটি কারিগরি দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে একজন তরুণের নিজের কর্মসংস্থানের পথ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও সেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়ে। বর্তমানে কোনো যন্ত্র নষ্ট হলে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে অনেক সময় দূরের শহর বা বাজারের কারিগরের ওপর নির্ভর করতে হয়। স্থানীয়ভাবে দক্ষ কারিগর তৈরি হলে দ্রুত ও তুলনামূলক সহজে এসব সেবা পাওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কেউ নিজে ব্যবসা শুরু করলে ভবিষ্যতে অন্য তরুণদেরও কাজে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—যুবসমাজকে শুধু সহায়তা দেওয়ার পরিবর্তে তাদের নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ করে দেওয়া। শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে একটি এলাকার মানবসম্পদকে শক্তিশালী করে। কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের উৎপাদনশীল কাজে সম্পৃক্ত করা গেলে পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতা আনার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আর্থিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে অবকাঠামোগত অগ্রগতির পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। রাস্তা, যোগাযোগ ও অন্যান্য অবকাঠামোর উন্নয়নের সঙ্গে স্থানীয় তরুণদের কর্মমুখী দক্ষতা বাড়ানো গেলে উন্নয়নের সুফল আরও বিস্তৃত পর্যায়ে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়। সেই বিবেচনায় কাপ্তাই ১১ আর ই ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে ২৩ জন যুবক-যুবতীকে এসি ও ফ্রিজ মেরামতের মতো বাস্তবমুখী পেশাগত দক্ষতা শেখানোর কর্মসূচি স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর মানবসম্পদ উন্নয়নের একটি উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামের তরুণদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে তাদের শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে গেলে প্রত্যন্ত এলাকার আরও অনেক তরুণ কর্মমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবেন। এর ফলে আত্মকর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক ও আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথও আরও সুগম হবে।
শান্তি ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কাপ্তাইয়ে শুরু হওয়া ‘এসি ও ফ্রিজ মেরামত প্রশিক্ষণ-২০২৬’ তাই শুধু একটি স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নয়; স্থানীয় তরুণদের হাতে দীর্ঘমেয়াদে কাজে লাগার মতো একটি আয়মুখী দক্ষতা তুলে দেওয়ার উদ্যোগ। প্রশিক্ষণার্থীরা অর্জিত জ্ঞান বাস্তবে কাজে লাগাতে পারলে এর সুফল ব্যক্তি ও পরিবার ছাড়িয়ে স্থানীয় অর্থনীতি এবং সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।