উখিয়ায় নৈশপ্রহরী নাজির হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার চাকমাপাড়া-পাতাবাড়ি সংলগ্ন গহীন অরণ্য ও পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে নৈশপ্রহরী নাজির হোসেন হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ৮ নম্বর আসামি মোহাম্মদ আইয়ুবকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৫ (এসআরবি-১৫), সিপিসি-১ টেকনাফ ক্যাম্প।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আইয়ুব টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নতুন পল্লান পাড়া এলাকার মৃত ইলিয়াস মিয়ার ছেলে।
বুধবার দুপুর ১২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কক্সবাজার স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৫-এর সহকারী পুলিশ সুপার ও পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) আ. ম. ফারুক। তিনি জানান, গ্রেপ্তারের পর আইয়ুবের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাকে টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে নিহত নাজির হোসেনের শ্যালক খোরশেদ আলমের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। গত ৭ সেপ্টেম্বর তারা খোরশেদ আলমের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর ধারাবাহিকতায় ৯ সেপ্টেম্বর রাতে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নতুন পল্লান পাড়ায় জাহাঙ্গীর আলমের কাছে পুনরায় চাঁদা দাবি ও মারধরের ঘটনা ঘটে বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে অভিযুক্তরা কিরিচ, ছোরা, লোহার রড ও ইট নিয়ে হামলা চালান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
একপর্যায়ে নৈশপ্রহরী নাজির হোসেন হামলাকারীদের বাধা দিতে গেলে তাকেও এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তাকে ছোরা, কিরিচ ও লোহার রড দিয়ে আঘাত এবং বুকের ওপর পা দিয়ে চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে মামলার এজাহারে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হন।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাজির হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত অন্যদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় মোহাম্মদ আইয়ুবকে এজাহারনামীয় ৮ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্তের পর বুধবার ভোরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে এসআরবি-১৫।
গ্রেপ্তার আইয়ুবকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।