মিয়ানমারে এনইউজির আঞ্চলিক কমান্ড সদর দপ্তরে বিমান হামলা, নিহত ৬

মিয়ানমারে এনইউজির আঞ্চলিক কমান্ড সদর দপ্তরে বিমান হামলা, নিহত ৬

মিয়ানমারে এনইউজির আঞ্চলিক কমান্ড সদর দপ্তরে বিমান হামলা, নিহত ৬
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

মিয়ানমারে জাতীয় ঐক্য সরকার (এনইউজি)-এর স্পেশাল রিজিয়ন কমান্ডের সদর দপ্তরে বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। বৃহস্পতিবার মন রাজ্যের কিয়াইকতো ও বাগো অঞ্চলের শ্বেকিয়িন টাউনশিপের সীমান্তবর্তী এলাকায় চালানো এ হামলায় প্রতিরোধযোদ্ধা ও সামরিক বাহিনী থেকে পলাতক এক সাবেক সদস্যসহ অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন।

এনইউজির দক্ষিণাঞ্চলীয় অঞ্চলে সামরিক অভিযান পরিচালনাকারী স্পেশাল রিজিয়ন কমান্ডের সদর দপ্তরটিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে হামলা চালানো হয়। প্রতিরোধ বাহিনীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র দ্য ইরাবতীকে জানায়, সামরিক বাহিনী সদর দপ্তর লক্ষ্য করে ছয়টি বোমা ফেলার পর সেখানে টানা ভারী গোলাবর্ষণ করে।

হামলায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন নে উইন অং, যিনি মিয়ানমার বিমানবাহিনীর সাবেক সার্জেন্ট ছিলেন এবং পরে সামরিক বাহিনী থেকে পলাতক হয়ে প্রতিরোধ আন্দোলনে যোগ দেন। মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধ নিয়ে তিনি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করতেন এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সামরিক বিশ্লেষক হিসেবে তাঁর বক্তব্য প্রকাশিত হতো। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন অধিকারকর্মী ও আন্দোলনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা শোক প্রকাশ করেন।

হামলায় এনইউজির স্পেশাল রিজিয়ন কমান্ডের প্রধান অং সান শার এবং আরও তিনজন প্রতিরোধযোদ্ধা আহত হয়েছেন বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

প্রাথমিক বিমান হামলার পরও সামরিক বাহিনী অভিযান অব্যাহত রাখে। চীনে তৈরি ওয়াই-১২ মডেলের একটি পরিবহন বিমানকে বোমা নিক্ষেপের উপযোগী করে ব্যবহার করে সদর দপ্তর ও আশপাশের এলাকায় আরও হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে। পাশাপাশি কিয়াইকতো টাউনশিপের থেইনজায়াত এলাকায় অবস্থিত সামরিক বাহিনীর ৩১০ নম্বর আর্টিলারি ব্যাটালিয়ন থেকেও সদর দপ্তর লক্ষ্য করে দীর্ঘ সময় গোলাবর্ষণ করা হয়।

এ হামলা এমন সময়ে হলো, যখন স্পেশাল রিজিয়ন কমান্ডের জন্য তহবিল সংগ্রহের একটি কর্মসূচি চলছিল। গত ১৬ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ওই তহবিল সংগ্রহ অভিযান আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে।

হামলার খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়। কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেন, সদর দপ্তরে হামলার খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ভবিষ্যতে ওই স্থানে আবারও হামলা চালাতে পারে। ফলে ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা উচিত কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়।

এনইউজির স্বরাষ্ট্র উপমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা কিয়াও নি-কে সদর দপ্তরের অবস্থান কীভাবে সামরিক বাহিনী শনাক্ত করল, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এর পেছনে অনেক সম্ভাবনা থাকতে পারে। তাঁর ভাষায়, যুদ্ধের সময় উভয় পক্ষই একে অপরের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে সম্ভাব্য সব পদ্ধতি ব্যবহার করে।

তবে হামলার বিষয়ে এখনো এনইউজি বা স্পেশাল রিজিয়ন কমান্ডের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। বিস্তারিত জানতে এনইউজির মুখপাত্র নে ফোন লাটের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁর কাছ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীও হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। তবে সামরিক বাহিনীপন্থী টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলোতে দাবি করা হয়েছে, পাঁচটি যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ওই এলাকায় বোমা হামলা চালানো হয়।

২০২৫ সালের ২৮ মে এনইউজির স্পেশাল রিজিয়ন কমান্ড প্রতিষ্ঠা করা হয়। কমান্ডটির অধীনে রয়েছে ২৫টি ব্যাটালিয়ন। এর মধ্যে ১২টি সরাসরি কমান্ডটির অধীনে এবং বাকি ১৩টি স্থানীয় প্রতিরোধ বাহিনী ও ড্রোন ইউনিটসহ বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

স্পেশাল রিজিয়ন কমান্ডের তহবিল সংগ্রহের প্রচারে এটিকে কৌশলগত একটি সামরিক কমান্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কমান্ডটি কারেন ও মন রাজ্য, বাগো ও ইয়াঙ্গুন অঞ্চলসহ মিয়ানমারের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সামরিক অভিযান পরিচালনা ও সমন্বয় করে থাকে বলে প্রচারণায় বলা হয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed