বাঘাইছড়িতে বর্গা গরু ফেরত আনার সময় জেএসএস কর্তৃক চাঁদা দাবি, মারধরের শিকার বাঙালি যুবক!

বাঘাইছড়িতে বর্গা গরু ফেরত আনার সময় জেএসএস কর্তৃক চাঁদা দাবি, মারধরের শিকার বাঙালি যুবক!

বাঘাইছড়িতে বর্গা গরু ফেরত আনার সময় জেএসএস কর্তৃক চাঁদা দাবি, মারধরের শিকার বাঙালি যুবক!
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বাঘাইছড়িতে এক পাহাড়ি ব্যক্তির কাছে বর্গা দেওয়া গরু ফেরত আনতে গিয়ে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন জেএসএস’র সন্ত্রাসীদের দ্বারা দুই হাজার টাকা চাঁদা দাবির পর এক বাঙালি যুবককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। মারধরের ঘটনায় মো. জালাল হোসেন (৩০) নামে ওই যুবক আহত হয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত যুবককে নাক-কান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

আজ রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাঘাইছড়ি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আর্য্যপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বাঘাইছড়ি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উগলছড়ি এলাকার মো. আমির হোসেনের ছেলে মো. জালাল হোসেন প্রায় এক বছর আগে বাঘাইছড়ি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আর্য্যপুর এলাকার আয়রন চাকমার কাছে একটি গাভী বর্গা দেন। চুক্তি অনুযায়ী আয়রন চাকমা গাভীটি পালন করছিলেন।

পরবর্তীতে গাভীটি একটি বাছুর প্রসব করে। এরপর আয়রন চাকমা গতকাল গাভী ও বাছুরটি গরুর মালিক জালাল হোসেনের কাছে ফেরত দেন। জালাল গরু ও বাছুর নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। তবে আজ বিকেলে গরুটির রশি খুলে গেলে বাছুরের টানে গাভীটি আবারও আয়রন চাকমার বাড়ির দিকে চলে যায়। পরে জালাল গরুটি আনতে ফের আয়রন চাকমার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।

সূত্র বলছে, সন্ধ্যার পর আর্য্যপুর জিরো পয়েন্ট এলাকায় গরু নিয়ে ফেরার সময় জেএসএস কালেক্টর কেহেরমান চাকমা (কানাইয়া) তার কাছে দুই হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ সময় জালাল তাকে গরুটি বর্গা দেওয়ার বিষয়টি জানান এবং চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে কানাইয়া চাকমা তাকে কানের ওপর বেশ কয়েকটি চড়-থাপ্পড় মারেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ঘুষি ও লাথি মারেন বলে অভিযোগ করেন জালাল। এতে তিনি রাস্তায় পড়ে যান এবং আহত হন।

পরে জালাল মোবাইল ফোনে বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যদের জানান। খবর পেয়ে তার বাবা ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গরু বর্গা দেওয়ার পর তা ফেরত নেওয়ার মতো একটি সাধারণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবির অভিযোগ এবং মারধরের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকায় গবাদিপশু পালন ও কৃষিনির্ভর মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এ ধরনের ঘটনার প্রভাব নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে জেএসএস কালেক্টর কেহেরমান চাকমা (কানাইয়া) বা সংগঠনের কারও কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কেহেরমান চাকমা (কানাইয়া) এর আগেও বাঘাইছড়ি এলাকায় অন্তত ৭ থেকে ৮ জন বাঙালি ব্যবসায়ীকে মারধর করেছেন। এসব ঘটনার কারণে তার কর্মকাণ্ডকে ঘিরে বাঙালি ব্যবসায়ী ও স্থানীয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে বলেও স্থানীয় কয়েকজন দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় ব্যক্তিগত বিরোধ বড় আকার ধারণ করে পাহাড়ি-বাঙালি সংঘর্ষের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। পরিস্থিতি যাতে কোনোভাবেই সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বা সংঘাতে রূপ না নেয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *