সীমান্তে জেলের ছদ্মবেশে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা, মাছের ক্যারেট থেকে ২ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং নাফ নদী সীমান্ত দিয়ে জেলের ছদ্মবেশে ইয়াবা পাচারের চেষ্টাকালে মাছের ক্যারেটের ভেতর থেকে ২ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) এর অধীনস্থ উনচিপ্রাং বিওপির একটি বিশেষ টহল দল অভিযান চালিয়ে এসব ইয়াবা উদ্ধার করে। তবে এ ঘটনায় কোনো ব্যক্তিকে আটক করা সম্ভব হয়নি। উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল পরিচালনা করছিল উনচিপ্রাং বিওপির একটি বিশেষ টহল দল। এ সময় সীমান্ত পিলার বিআরএম-১৭ থেকে প্রায় ৫০০ মিটার উত্তর দিকে, উনচিপ্রাং বিওপি থেকে প্রায় ১ দশমিক ২ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং শূন্যলাইন থেকে প্রায় ৩০০ গজ পশ্চিমে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ‘মেজরের ঘের’ এলাকায় সন্দেহজনক গতিবিধি দেখতে পান বিজিবি সদস্যরা।
টহল দলের সদস্যরা দেখতে পান, মিয়ানমার থেকে জেলের ছদ্মবেশে এক ব্যক্তি মাথায় মাছের ক্যারেট নিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে বিজিবি সদস্যরা তাকে চ্যালেঞ্জ করেন। এ সময় ওই ব্যক্তি মাথায় থাকা মাছের ক্যারেটটি ‘মেজরের ঘের’ এলাকায় ফেলে রেখে দ্রুত পাশের গ্রামের দিকে পালিয়ে যায়।
পরে বিজিবির টহল দল ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ফেলে যাওয়া মাছের ক্যারেটটি উদ্ধার করে। ক্যারেটের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা খাকি রঙের কয়েকটি প্যাকেট পাওয়া যায়। প্যাকেটগুলো খুলে নীল রঙের বায়ুরোধী পলিথিনে মোড়ানো বিপুল পরিমাণ ইয়াবা দেখতে পান বিজিবি সদস্যরা। পরে গণনা করে এসব প্যাকেট থেকে আনুমানিক ২ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি জানায়, অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালানো হলেও ইয়াবার চালানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো অবৈধ মালামাল পাওয়া যায়নি। পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিকে শনাক্ত ও আটকের জন্য গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, মাদক সরবরাহকারী ও এর সঙ্গে জড়িত চোরাকারবারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত পাহারার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও বিজিবি দৃঢ়ভাবে কাজ করছে। ভবিষ্যতেও সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীনে দায়িত্ব পালনকারী উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি মাদক চোরাচালান ও বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় হোয়াইক্যং সীমান্তে জেলের ছদ্মবেশে ইয়াবা পাচারের চেষ্টাকালে মাছের ক্যারেট থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের এ ঘটনা ঘটেছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।