বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ৫৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ৫৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ৫৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও বীরত্বগাথা ধারণ করে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ৫৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারও ২৮ সেপ্টেম্বর ‘বিমান বাহিনী দিবস’ হিসেবে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা সেনানিবাসের বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশারের সি-১৩০ হ্যাঙ্গারে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ৫৫ বছরের পথচলা ও অর্জন নিয়ে নির্মিত বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন এবং প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়।

May be an image of dais and text

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

অনুষ্ঠানে বিমান বাহিনী প্রধান ঢাকা এলাকায় কর্মরত কর্মকর্তা, বিমানসেনা, এমওডিসি (এয়ার) ও বেসামরিক সদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। তিনি দেশের আকাশসীমা, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা সুরক্ষায় বিমান বাহিনীর সদস্যদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, কঠোর শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

May be an image of dais and text

মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকেই বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ইতিহাস দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। ১৯৭১ সালে দেশের আপামর জনতার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিমান বাহিনীর অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তান বিমান বাহিনীর পক্ষ ত্যাগ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এয়ার ভাইস মার্শাল আব্দুল করিম খন্দকার (মরহুম), বীর উত্তম, পিএসএ (অব.), মহান মুক্তিযুদ্ধের ডেপুটি চিফ অব স্টাফের দায়িত্ব পালন করেন। সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণের পাশাপাশি বিমান বাহিনীর সাহসী সদস্যরা সেক্টর কমান্ডারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

মুক্তিযুদ্ধের রক্তক্ষয়ী দিনগুলোতে যুদ্ধের গতি-প্রকৃতিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য একটি স্বতন্ত্র বিমান বাহিনী গঠনের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হয়। সেই প্রয়োজন থেকেই ১৯৭১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে একটি অটার বিমান, একটি ডাকোটা বিমান ও একটি অ্যালুয়েট হেলিকপ্টার এবং কয়েকজন দুর্ধর্ষ বাঙালি বৈমানিক, বিমানসেনা ও বেসামরিক বৈমানিকসহ মোট ৫৭ জন সদস্য নিয়ে ‘কিলো ফ্লাইট’ নামে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর যাত্রা শুরু হয়।

May be an image of dais

এয়ার ভাইস মার্শাল সুলতান মাহমুদ (মরহুম), বীর উত্তম, এসিএসসি (অব.) কিলো ফ্লাইটের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় কিলো ফ্লাইট ৫০টিরও বেশি বিমান অভিযান সফলভাবে পরিচালনা করে। মুক্তিযুদ্ধে এসব অভিযান বিজয়কে ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে বলে বিমান বাহিনীর ইতিহাসে কিলো ফ্লাইট বিশেষ মর্যাদা বহন করে।

প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ ৫৫ বছরের পথচলায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী দেশের আকাশসীমা রক্ষা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালন করে আসছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

May be an image of aircraft and text

বিমান বাহিনী দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বিভিন্ন ঘাঁটি ও ইউনিট এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর কন্টিনজেন্টসমূহে (BANAIR) বিশেষ কর্মসূচি পালন করা হয়। এসব আয়োজনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও অর্জন নিয়ে নির্মিত বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

এ ছাড়া বিমান বাহিনীর বিভিন্ন মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত এবং বিভিন্ন মেসে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বীরত্বপূর্ণ অবদান স্মরণ করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠার ৫৫ বছরের অর্জন ও গৌরবোজ্জ্বল পথচলাকে তুলে ধরা হয়।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *