সাজেক সড়কে ইউপিডিএফের ডাকা অবরোধে বিপাকে পর্যটকরা
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
রাঙামাটির জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেক সড়কে শুরু হয়েছে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ কর্মসূচি। আজ রোববার সকাল থেকে পাহাড়ের চুক্তিবিরোধী সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ ইউপিডিএফ সমর্থিত ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ‘ও ‘সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন’এর ডাকে এই অবরোধ পালিত হচ্ছে।
অবরোধের কারণে সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণ ও যাতায়াত নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় ভেতরের বেশ কিছু পর্যটক আটকে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকেই সাজেক-দীঘিনালা সড়কের গঙ্গারাম উঁচাবাজারসহ বিভিন্ন পয়েন্টে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করছেন অবরোধ সমর্থকরা। ফলে সাজেক ও বাঘাইছড়ি থেকে দীঘিনালানামী সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
গতকাল ফেসবুকে বিৃবতি দিয়ে নামসর্বস্ব সংগঠন দুটি এই অবরোধের ডাক দেয়। বিবৃতিতে সংগঠনগুলোর নেতারা নিজেদের সশস্ত্র তৎপরতার কথা উল্লেখ না করলেও জেএসএসকে দায়ী করে সাজেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সাজেক দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র হওয়ায় এ অবরোধের প্রভাব পড়তে পারে পর্যটন খাতে। বিশেষ করে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকদের ভ্রমণ পরিকল্পনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারেন। একই সঙ্গে সাজেক, বাঘাইছড়ি ও দীঘিনালা রুটে চলাচলকারী যানবাহনের চালক, পরিবহন শ্রমিক, স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদেরও ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে।

সাজেক পর্যটন কেন্দ্রের লাইনম্যান মো. ইয়াছিন আরাফাত বলেন, গতকাল স্কর্টে ছোট বড় গাড়ি ও মোটরসাইকেল মিলে ৯০ টা গাড়ি প্রবেশ করেছে। এতে প্রায় ৯০০ এর বেশি পর্যটক সাজেক প্রবেশ করেছে।
সাজেক কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা বলেন, অবরোধের কারনে দুইবারে পরিবর্তে দুপুর দুইটায় একবার স্কর্ট যাবে। দুপুরের সরকারি স্কর্টে পর্যটক নামবে এবং আসবে আশা করি।
তবে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক না থাকায় সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নি।
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকের আশেপাশে প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন পাহাড়ের আঞ্চলিক উপজাতিভিত্তিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ও সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন অপর সশস্ত্র গ্রুপ পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) মধ্যে চলমান গোলাগুলির পর, জেএসএসের সাথে সংঘর্ষে টিকতে না পেরে নামসর্বস্ব সংগঠন সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দেয় ইউপিডিএফ।
উল্লেখ্য, গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে সাজেকের ভুয়াছড়ি, চাইল্যাতলী ও মাচলংসহ আশপাশের এলাকায় ইউপিডিএফ-জেএসএস সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা অবস্থান নিয়ে ব্যাপক গোলাগুলিতে লিপ্ত হচ্ছে। এছাড়া গত ২৯ সেপ্টেম্বর ইউপিডিএফের গুলিতে কস্মিতা ত্রিপুরা (৮) নামে এক শিশু আহত হয়।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।