থানচিতে কমেছে চাঁদাবাজি, নিরাপত্তা ও মানবিক কর্মকাণ্ডে বলিপাড়া বিজিবির উল্লেখযোগ্য সাফল্য

থানচিতে কমেছে চাঁদাবাজি, নিরাপত্তা ও মানবিক কর্মকাণ্ডে বলিপাড়া বিজিবির উল্লেখযোগ্য সাফল্য

থানচিতে কমেছে চাঁদাবাজি, নিরাপত্তা ও মানবিক কর্মকাণ্ডে বলিপাড়া বিজিবির উল্লেখযোগ্য সাফল্য
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধ, অপহৃত ব্যক্তিদের উদ্ধার, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক জব্দ এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনায় উল্লেখযোগ্য সাফল্যের কথা জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বান্দরবানের থানচিতে বলিপাড়া জোনের (৩৮ বিজিবি) গত ১ জানুয়ারি থেকে ৭ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত পরিচালিত আভিযানিক, মানবিক এবং সম্প্রীতি ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য তুলে ধরে বাহিনীটি জানিয়েছে, তাদের নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযানের ফলে এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বলিপাড়া জোনের অধিনায়কের প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

এতে বলা হয়, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, চোরাচালান ও অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলিপাড়া জোন নিয়মিতভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। একটি পেশাদার, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও নিরপেক্ষ বাহিনী হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সরকার, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং বিজিবি সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুসরণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সদস্যরা সতর্ক ও তৎপর রয়েছেন।

বিজিবির আভিযানিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৩ থেকে ১৫ এপ্রিল থানচি উপজেলার রেমাক্রিতে বৈসাবি ও সাংগ্রাই উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের ফলে আগের বছরের তুলনায় এ বছর উৎসবগুলো আরও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপন করা সম্ভব হয়েছে বলে জানায় বাহিনীটি।

গত ২০ মে আরাকান আর্মিতে যোগদানের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পরিকল্পনাকারী দুই পাহাড়ি যুবকসহ অপহরণকারী হিসেবে অভিযুক্ত মাংলে ম্রোকে বিশেষ অভিযানে আটক করে বিজিবি। এর দুই দিন পর, ২২ মে জোনের দায়িত্বপূর্ণ বিদ্যামনি পাড়া এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান পরিচালনা করে অপহৃত মো. আমু হোসেনকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ সময় অপহরণকারী হিসেবে অভিযুক্ত মাংলে মোকে মুক্তিপণের তিন লাখ টাকা ও অপহরণে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলসহ আটক করা হয়।

এ ছাড়া গত ২৪ মে থানচিতে পাঁচ বছর বয়সী এক ত্রিপুরা শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় উত্তেজিত জনতা থানচি থানা ঘেরাও করলে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে বিজিবি। স্পর্শকাতর ওই পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে বাহিনীটির তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করা হয়।

গত ৮ জুন জোনের অধীন গ্যালেঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পের দায়িত্বপূর্ণ জৈতুনপাড়া এলাকায় এক অজ্ঞাতনামা বাঙালি ব্যক্তিকে হত্যার পর মরদেহ গুমের ঘটনায় অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন ১৩ জনকে আটক করা হয়। একই মাসের ১০ জুন স্পটহাইট টিওবির দায়িত্বপূর্ণ আরিফ পাড়া এলাকা থেকে দুই আসামিসহ একটি গ্রেনেড ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এর পাঁচ দিন পর, ১৫ জুন অধীনস্থ ইয়াংরাই বিজিবি ক্যাম্পের দায়িত্বপূর্ণ পেনেডং পাড়ার একটি জুমঘর থেকে পাঁচটি গ্রেনেড ও দুটি অ্যান্টি-পারসোনেল আইইডি/মাইন উদ্ধার করে বিজিবি।

জোনের দায়িত্বপূর্ণ জীবননগর পাহাড় এলাকায় গত ১৫ জুলাই জেএসএসের চারজন সশস্ত্র সদস্য অস্ত্রের মুখে একটি বেসামরিক চাঁদের গাড়ি ছিনতাই করে বলে জানায় বিজিবি। পরে ১৮ জুলাই বিশেষ উদ্ধার অভিযান চালিয়ে গাড়িটি উদ্ধার করা হয়। একই মাসের ১৬ জুলাই বংকুপাড়া বিওপির চেকপোস্টে সন্দেহজনকভাবে চলাচলের সময় মিয়ানমারের দুই তরুণী নাগরিক ও তাঁদের এক সহযোগীকে আটক করা হয়। তল্লাশিতে তাঁদের কাছ থেকে ৭ লাখ ৮৮ হাজার ৬০০ মিয়ানমার কিয়াট, ২৪ হাজার ৬১০ টাকা এবং মিয়ানমারের দুটি পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া ১৫, ১৬ ও ১৯ জুলাই পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানের বিবরণে ছিনতাই হওয়া বেসামরিক চাঁদের গাড়ি উদ্ধার, অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে মিয়ানমারের দুই তরুণীকে মুদ্রাসহ আটক এবং সড়কে চাঁদা আদায়ের সময় জেএসএসের সশস্ত্র গ্রুপের সদস্য হিসেবে অভিযুক্ত সূর্য সেন চাকমাকে আটক করার তথ্য তুলে ধরা হয়। বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯ জুলাই থানচি-নীলগিরি সড়কের বাগানপাড়া এলাকায় বিশেষ ডমিনেশন টহল দল আমবোঝাই একটি ট্রাক থেকে চাঁদা আদায়ের সময় সূর্য সেন চাকমাকে নগদ চাঁদার অর্থসহ হাতেনাতে আটক করে।

অপহরণ প্রতিরোধেও সেনাবাহিনী ও বিজিবির সমন্বিত তৎপরতার কথা তুলে ধরা হয় প্রেস ব্রিফিংয়ে। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে নাইদারিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫৭ বছর বয়সী চাই অং প্রু মারমাকে ছয়জন সশস্ত্র জেএসএস সদস্য অপহরণ করে। পরে সেনাবাহিনী ও বিজিবির যৌথ টহল, তল্লাশি এবং গোয়েন্দা নজরদারির ফলে সৃষ্ট চাপে ১০ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টার দিকে মায়ারাম পাড়ায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

থানচিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর চাঁদা আদায়ের পরিমাণ কমে আসাকে আভিযানিক তৎপরতার অন্যতম অর্জন হিসেবে তুলে ধরে বিজিবি। প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে থানচি উপজেলা থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বিভিন্ন উৎস থেকে প্রায় ২৭ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। পরবর্তী অর্থবছর ২০২৫-২০২৬-এ তা কমে ১৬ কোটি ৯১ লাখ ৬ হাজার টাকায় দাঁড়ায়। বিজিবির দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, আগের অর্থবছরের তুলনায় চাঁদা আদায়ের পরিমাণ প্রায় ৩৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ কমেছে। বাহিনীটির দাবি, নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা ও দূরদর্শী পরিকল্পনা এ হ্রাসে ভূমিকা রেখেছে।

নিরাপত্তা কার্যক্রমের পাশাপাশি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিপদগ্রস্ত পর্যটক ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিভিন্ন ঘটনাও তুলে ধরে বলিপাড়া জোন। গত ৪ জুলাই আমিয়াখুম ভ্রমণে গিয়ে ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে থুইসাপাড়া এলাকায় চার পর্যটক আটকা পড়েন। ৭ জুলাই থেকে তাঁরা সেখানে আটকে থাকার পর ১২ জুলাই বিজিবির টহল দল তাঁদের উদ্ধার করে নেপিউপাড়া বিওপিতে নিয়ে আসে। পরে নিরাপদে থানচি সদরে পৌঁছে দেওয়া হয় তাঁদের।

এরপর ২৪ জুলাই জোনের দায়িত্বপূর্ণ বড়পাথর এলাকায় সাঙ্গু নদীতে তীব্র স্রোতে পর্যটকবাহী নৌকা ডুবে গেলে তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান চালায় বিজিবি টহল দল। এ সময় চার পর্যটক, মাঝি ও গাইডসহ মোট ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। দুর্গম পাহাড়ি নদীপথে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে তাঁদের প্রাণ রক্ষায় বাহিনীটির ভূমিকার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাত ৩টা ৩০ মিনিটের দিকে বলিবাজারে গ্যাস লিকেজ থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হলে বিজিবি সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। তাঁদের প্রচেষ্টায় ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ছাড়া গত ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে আসা ছয় পর্যটক থানচির বাঘের লাংলোক ঝর্ণা ভ্রমণে গেলে তাঁদের একজন হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের পক্ষ থেকে সহায়তা চাওয়া হলে বিজিবির টহল দল তাঁকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয় এবং থানচি পর্যন্ত পৌঁছে দেয়।

পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিজিবির আরেকটি তৎপরতার ঘটনা ঘটে গত ৫ অক্টোবর। ওই দিন ডিমপাহাড় থেকে টেন্ডুমুখ নৌঘাটে নামার পথে পর্যটকবাহী একটি চাঁদের গাড়ি খাদে পড়ে দুইজন নিহত ও পাঁচজন আহত হন। দুর্ঘটনার পর বিজিবি সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

আভিযানিক ও উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শীতবস্ত্র, ক্রীড়া এবং আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নেও কাজ করছে বলিপাড়া জোন। প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত জোনের উদ্যোগে ১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ২৮৫ জন অসহায় ও দরিদ্র শিক্ষার্থীকে ভর্তি, বই ও শিক্ষা উপকরণ ক্রয়, ফরম পূরণ, শিক্ষাবৃত্তি এবং অন্যান্য শিক্ষাব্যয় নির্বাহে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাতা, কলম, পেন্সিল, ইরেজারসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ সম্প্রসারণে সহায়তা করা হচ্ছে।

একই সময়ে দায়িত্বপূর্ণ এলাকার ৩৫০ জন দরিদ্র, অসহায় ও শীতার্ত মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়। ক্রীড়া উন্নয়নেও পাঁচটি কার্যক্রমের মাধ্যমে ৯৩ জন স্থানীয় যুবক ও খেলোয়াড়ের মধ্যে ভলিবল, ফুটবল, জার্সি ও নেটসহ প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এ ছাড়া সম্প্রীতি উন্নয়ন ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী নারী খেলোয়াড়দের পুরস্কৃত করা হয়।

স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বলিপাড়া জোনের উদ্যোগে ছয়টি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে ৬৫৬ জন অসহায় ও দুস্থ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জোন সদরে অবস্থিত এমআই রুমের মাধ্যমে দায়িত্বপূর্ণ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়মিত ও সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। কিডনিজনিত সমস্যা, টিউমার, অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত অসহায় ও প্রয়োজনগ্রস্ত ব্যক্তিদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চারটি কার্যক্রমের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি জোরদারেও বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে জোনটি। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত চারটি কার্যক্রমের আওতায় থানচি যুব সেমিনার এবং বৈসাবি, বৈসু ও সাংগ্রাই উৎসব উপলক্ষে আয়োজক, স্থানীয় প্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। তিন্দু গ্রুপিংপাড়ার বাসিন্দা জন ত্রিপুরাকে তাঁর মেয়ের বিয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে দায়িত্বপূর্ণ এলাকার বাসিন্দা জাফর আলম ও শান্ত ত্রিপুরাকে নতুন ঘর নির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তা দেন জোন কমান্ডার।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায়ও এগিয়ে আসে বলিপাড়া জোন। এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত তিনটি কার্যক্রমের মাধ্যমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৮৮টি পরিবারের ৭৩০ জন সদস্যের মধ্যে চাল, ডাল, শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। অন্যদিকে বড়দিন উপলক্ষে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কালাপাড়া এলাকার বাসিন্দা জনি ত্রিপুরা ও বীর বাহাদুর ত্রিপুরাকে বাদ্যযন্ত্র কেনার জন্য আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া দায়িত্বপূর্ণ এলাকার দরিদ্র, অসহায় ও আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল মানুষের জরুরি প্রয়োজন, পারিবারিক সমস্যা, সামাজিক অনুষ্ঠান এবং অন্যান্য মানবিক প্রয়োজনে বিভিন্ন সময়ে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে জানায় বিজিবি। এসব সহায়তার মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের আর্থিক ও সামাজিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাঁদের দুর্দিনে পাশে দাঁড়ানো, পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বাড়ানো এবং পাহাড়ি জনপদে সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

বলিপাড়া জোনের এসব কর্মকাণ্ডে একদিকে সীমান্ত নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা প্রতিফলিত হয়েছে, অন্যদিকে দুর্গম এলাকার পর্যটক, শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী, বন্যাদুর্গত পরিবার এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চিত্রও উঠে এসেছে। নিরাপত্তা কার্যক্রমের পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ পরিচালনার মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে জোনটি।

প্রেস ব্রিফিংয়ের শেষ পর্যায়ে অধিনায়ক উপস্থিত সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাঁদের মাধ্যমে বিজিবির কর্মকাণ্ড ও সংশ্লিষ্ট তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছাবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed