আলীকদমে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চালুর উদ্যোগ, আইনমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন প্রতিমন্ত্রী হেলাল
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
বান্দরবানের দুর্গম উপজেলা আলীকদমে দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর হয়ে থাকা ‘সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত’ (আলীকদম চৌকি) পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এমপির হস্তক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চেয়েছেন ভূমি মন্ত্রণালয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি।
আদালতটি পুনরায় চালু করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে আইনমন্ত্রীর কাছে একটি উপানুষ্ঠানিক আধা-সরকারি পত্র (ডিও লেটার) পাঠান প্রতিমন্ত্রী। পত্রে আলীকদমের বিচারপ্রার্থী মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ, আদালতে যাতায়াতের দূরত্ব এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিচারিক সেবা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
পত্রে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ১৯৮২ সালে আলীকদমে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত স্থাপনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিচারিক ভবন নির্মাণ করা হলেও সেখানে এখনো নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়নি। ফলে আলীকদম উপজেলার মানুষকে বিচারিক সেবা নিতে জেলা শহর বান্দরবানে প্রায় ১১১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। এতে বিচারপ্রার্থী মানুষের সময়, অর্থ ও শ্রমের অপচয় হচ্ছে। বিশেষ করে নারী, প্রবীণ, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য দূরবর্তী আদালতে যাতায়াত ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।
ডিও লেটারে আরও বলা হয়, আলীকদমে সেনানিবাস, মডেল থানা ও বিজিবি ব্যাটালিয়নসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা অবকাঠামো রয়েছে। এ ছাড়া সেখানে আগে থেকেই নির্মিত আদালত ভবনটি সামান্য সংস্কার ও প্রয়োজনীয় উপযোগী করার মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মধ্যে বিচারিক কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হতে পারে। সংশ্লিষ্ট উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় মানুষের আদালতকেন্দ্রিক ভোগান্তি কমার পাশাপাশি বিচারিক সেবা আরও সহজলভ্য হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে পরিবেশ ও সামাজিক সংগঠন ‘গ্রিন পলিসি মুভমেন্ট’-এর আহ্বায়ক মো. মহিউদ্দিন (বন্ধু)-এর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতটি পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে মন্ত্রীর দপ্তরের সুপারিশসহ পত্রটি আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিচার শাখা-৪-এ পর্যালোচনার জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আলীকদম চৌকি আদালত পুনঃপ্রতিষ্ঠার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জনস্বার্থ, ন্যায়বিচার এবং পাহাড়ি প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে আইনমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আদালতটি পুনরায় চালুর আবেদনের বিষয়ে গ্রিন পলিসি মুভমেন্টের সদস্যসচিব ও প্রধান মুখপাত্র মো. মহিউদ্দিন (বন্ধু) বলেন, আলীকদম, লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ির মতো দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি সহজ করতে স্থানীয় পর্যায়ে বিচারিক সেবা চালু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দূরবর্তী আদালতে যাতায়াতের কারণে এসব এলাকার সাধারণ মানুষকে যে সময়, অর্থ ও শ্রম ব্যয় করতে হয়, তা কমাতে আলীকদম চৌকি আদালত পুনঃপ্রতিষ্ঠা প্রয়োজন।
তিনি জানান, বন্ধ হয়ে থাকা আদালতটির পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও নিয়মিত কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়ার লক্ষ্যে তাঁদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
আলীকদমে আদালতটি পুনরায় চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ উদ্যোগে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি এবং গ্রিন পলিসি মুভমেন্টের প্রধান মুখপাত্র মো. মহিউদ্দিন (বন্ধু)-এর প্রতি তাঁরা ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
স্থানীয় পর্যায়ে আদালতের কার্যক্রম চালু হলে আলীকদমের পাশাপাশি আশপাশের দুর্গম এলাকার বিচারপ্রার্থীদেরও উপকার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আদালতটি পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন উদ্যোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।