ইয়েমেনের প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হুথিদের, ৫ জন নিহত

ইয়েমেনের প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হুথিদের, ৫ জন নিহত

ইয়েমেনের প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হুথিদের, ৫ জন নিহত
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেসিডেন্টের বাসভবন ও দপ্তর আল-মাশিক প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী। এতে অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন এবং ১৬ জন হয়েছেন আহত।

২০১৪ সালে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট শাসিত সরকারের সঙ্গে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছিল হুথি যোদ্ধাদের। তার পর এক বছরের মধ্যে ২০১৫ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে হুথি বাহিনী। সে সময় ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট ছিলেন আব্দরাব্বুহ মনসুর হাদি। হুথি যোদ্ধারা সানা দখল পর তিনি সৌদি আরবে পালিয়ে যান এবং হুথি বাহিনীকে হটাতে ওই বছর থেকেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি আরব-ইয়েমেন-সংযুক্ত আরব আমিরাত সামরিক জোট। শুরু থেকেই এ জোটের নেতৃত্বে ছিল সৌদি আরব। সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০২৫ সালে এই জোট থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়।

এদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনে অভিযান শুরুর পর দেশটি কার্যত ২ ভাগে ভাগ হয়ে যায়। রাজধানী সানাসহ পুরো উত্তর ইয়েমেন থাকে হুথিদের দখলে এবং দক্ষিণাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ আসে অন্তবর্তী প্রেসিডেন্সিয়াল পরিষদ সরকারের হাতে।

প্রেসিডেন্সিয়াল পরিষদের রাজধানী ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর শহর এডেনে। আল-মাশিক প্রাসাদও এই শহরে অবস্থিত।

প্রেসিডেন্সিয়াল সরকারের একটি সূত্র আনাদোলু এজেন্সিকে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের হামলায় পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে হুথিরা এবং হামলার সময় সরকারের বেশ কয়েকজন সদস্য প্রাসাদের ভেতরেই ছিলেন।

ইয়েমেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাসেম বুহাইবেহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জানিয়েছেন, নিহত ও আহতদের মধ্যে প্রাসাদের নিরাপত্তারক্ষী এবং সেখানে কর্মরত বেসামরিক কর্মীরা রয়েছেন।

ফেসবুক পোস্টে বৃহস্পতিবারের হামলাকে ‘২০২০ সালের ডিসেম্বরে এডেন বিমানবন্দরে ইয়েমেনি সরকারকে লক্ষ্য করে চালানো হামলার পুনরাবৃত্তি’ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

“সরকার জনগণের মাঝে তার দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে”, ফেসবুক পোস্টে বলেচেন কাসেম বুহাইবেহ।

প্রেসিডেন্সিয়াল সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার পর প্রধানমন্ত্রী শায়া আল-জিন্দানি এবং সরকারের অন্যান্য সদস্যরা ‘নিরাপদ’ আছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ক্লিপগুলোতে আল-মাশিক প্রাসাদের ভেতর থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে।

এদিকে প্রেসিডেন্সিয়াল সরকারের বার্তা সংস্থা ‘সাবা’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রাসাদের আশপাশের এলাকায় বেসামরিক বাড়িঘরেও গোলাবর্ষণ করেছে।

হুথি নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরাহ টিভি একটি সামরিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে যে, প্রাসাদটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল, তবে তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

জুলাই মাসে হুথি এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মধ্যে পুনরায় লড়াই শুরু হওয়ার পর, প্রাসাদের ওপর এটিই প্রথম হামলার ঘটনা।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া কাসিম সারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে এক পোস্টে জানিয়েছেন, তারা এডেনে ‘সৌদি যুদ্ধ অভিযানের সদর দপ্তরকে’ লক্ষ্যবস্তু করেছেন।

তিনি আরও বলেন, তারা সৌদির সামরিক উপস্থিতি রয়েছে এমন যেকোনো স্থান বা স্থাপনাকে ‘হামলার বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ বলে মনে করেন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *