মণিপুরে ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘটের ডাক, উপমুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
ভারতের মণিপুরে তিন মেইতেই নাগরিক হত্যার প্রতিবাদে ৪৮ ঘণ্টার রাজ্যব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে নেটিভ পিপলস কমিটি মণিপুর (এনপিসিএম)। সোমবার (১৯ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে এ ধর্মঘট শুরু হওয়ার কথা। এ ঘটনায় রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী নেমচা কিপগেনের পদত্যাগ এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
কমিটির অভিযোগ, ইম্ফল পূর্ব জেলার খংবাল-তাংখুল পাহাড়ের পাদদেশসংলগ্ন এলাকায় জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে যাওয়া উয়ুমপোক ও নংশুম গ্রামের বাসিন্দাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তিনজন মেইতেই নাগরিক নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে মণিপুরের পাহাড়ি ও উপত্যকা—উভয় অঞ্চলের জেলাগুলোতে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন নংশুমের লায়রেনপাকপাম ইনায়োবি মেইতেই (৪০) ও আরিবাম ননি মেইতেই (৩৫) এবং উয়ুমপোক মামাং লেইকাইয়ের কে. শুশিল সিং (৩০)। তাঁদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে এনপিসিএম বলেছে, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
ধর্মঘটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা, ধর্মীয় কার্যক্রম ও প্রতিষ্ঠান এবং জরুরি পরিষেবাকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স চলাচল, জরুরি চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ যেন ব্যাহত না হয়, সে জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কমিটি। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মঘট পালনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এনপিসিএম রাজ্য সরকারের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলার সমালোচনা করে অভিযোগ করেছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার বিষয়ে সরকারের আশ্বাস থাকলেও জীবিকার প্রয়োজনে বনাঞ্চল ও কৃষিজমিতে যাওয়া সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়নি।
নেমচা কিপগেনের পদত্যাগসহ সাত দফা দাবি
উপমুখ্যমন্ত্রী নেমচা কিপগেনের পদত্যাগের পাশাপাশি নিরাপত্তা অভিযান ও ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ স্বচ্ছভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছে এনপিসিএম। এ ছাড়া কুকি ন্যাশনাল ফ্রন্ট (পি)-এর চেয়ারম্যান এসএস থাংবোই কিপগেনের বিরুদ্ধে আইনানুগ তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
কমিটি কামজং জেলার পুলিশ সুপারের বদলি এবং সাইকুলের বিধায়কের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বদলি হয়েছে বলে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি উল্লেখ করেছে। পাশাপাশি লেইলন ভাইফেই এলাকায় কেএনএফ (পি)-এর সদস্যদের উদ্ধারে একটি অভিযান পরিচালনার বিষয়েও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা চেয়েছে তারা। সংগঠনটির দাবি, এসব ঘটনার প্রেক্ষাপট ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট করা প্রয়োজন। তবে এসব অভিযোগ ও ঘটনার পারস্পরিক সম্পর্ক স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
ভারত ও মণিপুর সরকারের কাছে দেওয়া সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া, খংবাল-তাংখুল পাহাড়ের পাদদেশ ও খামেনলোকের আশপাশে অনুমোদনহীন সশস্ত্র শিবির শনাক্ত করে সরিয়ে দেওয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা। বিশেষ করে ইন্ডিয়া রিজার্ভ ব্যাটালিয়নের সদস্য মোতায়েন করে বনাঞ্চল ও কৃষিজমিতে যাতায়াতের পথসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
এ ছাড়া সাসপেনশন অব অপারেশনস (এসওও) চুক্তি বাতিলের বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া, হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ ও সময়সীমাবদ্ধ তদন্ত, দায়ীদের আইনের আওতায় এনে বিচার এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বাসিন্দাদের নিরাপত্তায় বিশ্বাসযোগ্য নিশ্চয়তা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
এনপিসিএম নাগা ও মেইতেই যুবকদের সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে চলমান সহিংসতা বন্ধ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ নিরসনে কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করেছে। সংগঠনটির ভাষ্য, হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ এবং রাজ্যের নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকারের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যেই এ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।
তবে হামলার জন্য দায়ী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এবং রাজনৈতিক প্রভাবসংক্রান্ত অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।