বাঙ্গালহালিয়ায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে তাঁতশিল্প প্রশিক্ষণ সম্পন্ন, সনদ পেলেন ২০ জন

বাঙ্গালহালিয়ায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে তাঁতশিল্প প্রশিক্ষণ সম্পন্ন, সনদ পেলেন ২০ জন

বাঙ্গালহালিয়ায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে তাঁতশিল্প প্রশিক্ষণ সম্পন্ন, সনদ পেলেন ২০ জন
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান ও আর্থসামাজিক অগ্রগতিতে ইতিবাচক উদ্যোগ

জার্নাল প্রতিবেদক

পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আর্থসামাজিক অগ্রগতির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়ায় দুই সপ্তাহব্যাপী কুটির শিল্প (তাঁতশিল্প) প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে ২০ জন প্রশিক্ষণার্থীর হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে দক্ষ ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এ উদ্যোগকে প্রশংসনীয় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন বাঙ্গালহালিয়া আর্মি ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন মর্তুজা সাইফ রাসেল।

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ৩৮ বীরের অধীন বাঙ্গালহালিয়া আর্মি ক্যাম্পের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় গত ১১ অক্টোবর এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে কাঁকড়াছড়ি, ধলিয়াপাড়া, চম্পাতলী, নোয়াপাড়া, ছাগলখাইয়াপাড়া, কুদুমছড়াপাড়া, রমতিয়াপাড়া ও বাঙ্গালহালিয়া এলাকার পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর ২০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন।

প্রশিক্ষক মিলন চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণার্থীদের তাঁতশিল্পের বিভিন্ন বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ছিল আধুনিক সরঞ্জামের ব্যবহার, সুতার মান নির্ধারণ, ববিন ও নলি তৈরি, আকর্ষণীয় নকশা প্রণয়ন, কাপড় বুনন এবং তাঁতযন্ত্রের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ। প্রশিক্ষণ শেষে চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন মর্তুজা সাইফ রাসেল বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আত্মনির্ভরশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। কুটিরশিল্প পাহাড়ি জনপদের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের অংশ। যথাযথ প্রশিক্ষণ কাজে লাগাতে পারলে নারীরা ও তরুণ সমাজ ঘরে বসেই আয়বর্ধক কাজে যুক্ত হয়ে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা বাড়াতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, এ কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁতশিল্প সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি নতুন দক্ষতা শেখার সুযোগ পেয়েছেন তাঁরা। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে প্রশিক্ষণকেন্দ্রে নিয়মিত যাতায়াতের সুযোগসহ এমন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাঙ্গালহালিয়া আর্মি ক্যাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তাঁরা।

অনুষ্ঠানে বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, হেডম্যান-কারবারি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, প্রশিক্ষক মিলন চৌধুরী এবং সেনা ক্যাম্পের কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়দের মতে, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের হাতে-কলমে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা এবং ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। এ ধরনের প্রশিক্ষণ নিয়মিত ও বিস্তৃত করা গেলে স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে তোলা, পরিবারের আয় বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদে আর্থসামাজিক উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *