সাজেকে পর্যটকদের উদ্ধার অভিযানে ইউপিডিএফের বর্বরোচিত গুলি, ৬ পর্যটক গুরুতর আহত

সাজেকে পর্যটকদের উদ্ধার অভিযানে ইউপিডিএফের বর্বরোচিত গুলি, ৬ পর্যটক গুরুতর আহত

সাজেকে পর্যটকদের উদ্ধার অভিযানে ইউপিডিএফের বর্বরোচিত গুলি, ৬ পর্যটক গুরুতর আহত
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে সড়ক অবরোধের মধ্যে পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়ার সময় প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফ কর্তৃক নিরাপত্তাবাহিনী ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে গুলির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) গঙ্গারাম বাজার ও উজোবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় পর্যটকদের নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুড়ে আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

গঙ্গারাম বাজার ও উজোবাজার সড়কে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর মদদপুষ্ট সংগঠন সাজেক গন অধিকার পরিষদের ডাকা চরম ধ্বংসাত্মক অবরোধে এ লোমহর্ষক ও নৃশংস ঘটনা ঘটেছে।

জানা যায়, স্থানীয় নারীদের সামনে রেখে পালিত অবরোধের মুখে সাজেক সড়কে আটকে পড়া প্রায় তিন হাজার সাধারণ পর্যটকদের যখন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্কট করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ও সড়ক অবরোধকারী মহিলারা সাজেকের গঙারাম বাজার এলাকায় পর্যটকদের লক্ষ্য করে অতর্কিত ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। উক্ত স্থানে সাধারণ পর্যটকগণ প্রায় ১ ঘন্টার মত অবরুদ্ধ ছিলেন। এক পর্যায়ে সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ গুলি বর্ষণ করে সাধারন পর্যটকদের উপর। তাদের এই বর্বরোচিত ও কাপুরুষোচিত হামলায় ৬-৭ জন সেনাসদস্যসহ সাধারণ পর্যটক আহত হয়েছেন এবং তাঁদের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ পর্যটকদের নিরাপদে বাঘাইহাটে নিয়ে আসেন।

পাহাড়ে আঞ্চলিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল, অবৈধ চাঁদা বা আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ের সাথে সাধারণ পর্যটকদের দূরতম কোনো সম্পর্ক না থাকলেও সম্পূর্ণ নিরাপরাধ এই মানুষদের জীবনের ঝুঁকি, আতঙ্ক এবং এখন সরাসরি রক্তক্ষয়ী হামলার মুখে ফেলে দিয়েছে ইউপিডিএফ।

সূত্র জানায়, সেনাবাহিনীর সদস্যরা এই অবরুদ্ধ, আতঙ্কিত এবং গুলিবিদ্ধ পর্যটকদের উদ্ধার ও জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালান।

সূত্রের দাবি, সাধারণ পাহাড়ি নারী ও পুরুষদের জরিমানা ও প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে, জোরপূর্বক রাজপথে নামিয়ে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে ইউপিডিএফ। সড়কে গাছের গুঁড়ি, বাঁশ ফেলে এবং আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।

আসন্ন শীতকালীন পর্যটন মৌসুমকে সামনে রেখে এই নোংরা রাজনীতি ও বর্বরোচিত কর্মকাণ্ডের কারণে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন নতুন করে সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে বাধ্য হয়েছে। এর ফলে সাজেকের রিসোর্ট ও কটেজ মালিক, জিপ চালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ পরিবহন শ্রমিকেরা—যাঁদের সিংহভাগই স্থানীয় পাহাড়ি—তাঁরা চরম অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। স্থানীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ পর্যটন খাত সচল রাখতে নিরাপদ যাতায়াত ও স্থিতিশীল পরিস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *