পাঁচ বছর পর মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বললেন সু চির ছেলে
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
মিয়ানমারের কারাবন্দি গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো ফোনে কথা বলেছেন তাঁর ছেলে কিম অ্যারিস। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান তিনি।
ফেসবুক পোস্টে কিম অ্যারিস লেখেন, “আজ অবশেষে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর আমি আমার মা দাও অং সান সু চির সঙ্গে কথা বলতে পেরেছি। আবার তাঁর কণ্ঠস্বর শুনতে পারার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”
যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী কিম অ্যারিস কীভাবে মায়ের সঙ্গে কথা বলেছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি বার্তা সংস্থা এএফপি। তবে তাঁর পোস্টের সঙ্গে প্রকাশিত ছবিতে তাঁকে লন্ডনে মিয়ানমার দূতাবাসের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মায়ের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে কিম বলেন, যাঁরা তাঁর মা ও তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের কণ্ঠস্বরই হয়তো এই মুহূর্তটি সম্ভব করেছে।
তবে মায়ের সঙ্গে একবার কথা বলতে পারাকেই যথেষ্ট মনে করছেন না তিনি। কিম লেখেন, “আমার মায়ের বয়স এখন ৮১ বছর এবং তিনি এখনো অন্যায়ভাবে আটক রয়েছেন। একবার কথোপকথন হওয়া মানেই পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের সুযোগ পাওয়া নয়।”
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এরপর প্রায় পাঁচ বছর তাঁকে কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আটক রাখা হয়। সু চি ১৯৯১ সালে মিয়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ভূমিকার জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার পান।
মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিলে সু চিকে রাজধানী নেপিদোর একটি কারাগার থেকে গৃহবন্দি অবস্থায় নির্ধারিত বাসভবনে স্থানান্তর করা হয়। গত আগস্টে দেশটির রেড ক্রসের এক প্রতিনিধির সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের ছবিও প্রকাশ করা হয়।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সু চির আটকাবস্থায় কিছুটা শিথিলতা আনার কথা প্রচার করছে মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ। এর আগে তাঁর জীবিত থাকার প্রমাণ প্রকাশের দাবিও জানিয়েছিলেন সমর্থকেরা।
সোমবার মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ জানায়, যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লসের পাঠানো একটি প্যাকেজ পেয়েছেন সু চি। এতে মাটি ও মৃত্তিকাবিষয়ক দুটি বই এবং রাজার পাঠানো একটি সিলমোহরযুক্ত কূটনৈতিক বার্তা ছিল। তবে ওই বার্তার বিষয়বস্তু সম্পর্কে বাকিংহাম প্যালেস কোনো মন্তব্য করেনি।
২০২১ সালের অভ্যুত্থানে সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করা সামরিক নেতা মিন অং হ্লাইং চলতি বছরের শুরুতে বেসামরিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। বিশ্লেষকদের মতে, তাঁকে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসানোর প্রক্রিয়া ছিল লোকদেখানো। আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সু চির ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করা হতে পারে বলেও মনে করছেন তাঁরা।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।