পশ্চিমবঙ্গে নির্যাতনের শিকার ৩ খ্রিষ্টান পরিবার: হিন্দু ধর্মে ধর্মান্তরিত চেষ্টার অভিযোগ
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পাটলাপুর গ্রামে তিনটি খ্রিষ্টান পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে ঢুকে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা বজরং দলের সদস্য। অভিযোগ রয়েছে, নারীদের মারধর করা হয়েছে, তাদের পোশাক ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে এবং কয়েকজনকে এমনভাবে বিবস্ত্র করা হয়েছে যে তাদের শরীরের কিছু অংশ অনাবৃত হয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েরাও এই হামলা থেকে রেহাই পায়নি।
দুর্গাপূজার উৎসব চলাকালে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা থানার অন্তর্গত পাটলাপুর গ্রামে ধর্মীয় নিপীড়নের উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবারগুলোর দাবি, টানা তিন দিন ধরে তাদের ওপর হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পরিবারগুলোর সদস্যরা গভীরভাবে মানসিক আঘাত পেয়েছেন। এরপর থেকে তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন। গত ২০ অক্টোবর তারা চন্দ্রকোনা থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। এতে কথিত হিন্দুত্ববাদী সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত ১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
পশ্চিমবঙ্গে মে মাসে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা বেড়েছে বলে বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যরা অভিযোগ করছেন। এর মধ্যেই পাটলাপুরের ঘটনাটি ঘটল। বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বজরং দল বা হিন্দু জাগরণ সমিতির সদস্য পরিচয় দেওয়া গোষ্ঠীগুলো সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং খ্রিষ্টানদের উপাসনালয়কে লক্ষ্যবস্তু করছে।
নদিয়া জেলার জালালখালি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুভাষগ্রাম, পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরি, উত্তর ২৪ পরগনার মোহনপুর, হাওড়ার উলুবেড়িয়া, পূর্ব বর্ধমানের রায়বাটি এবং বাঁকুড়া জেলার সোনামুখীর নবাসনসহ আরও কয়েকটি জায়গায় এ ধরনের ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় গির্জায় হামলা, ভাঙচুর, প্রার্থনারত মানুষকে হুমকি দেওয়া এবং বাইবেল ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়্যার’কে জানিয়েছেন, এসব ঘটনা সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও রাজ্য সরকার কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
নতুন করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা
চন্দ্রকোনা শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে পাটলাপুর গ্রামটি মনোহরপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত। গ্রামটিতে প্রায় ১৫০টি পরিবার বসবাস করে। তাদের মধ্যে তফসিলি জাতিভুক্ত সম্প্রদায়ের মানুষ, খ্রিষ্টান, মুসলিম এবং অন্যান্য সামাজিক গোষ্ঠীর সদস্যরাও রয়েছেন।
এলাকার মানুষের প্রধান পেশা কৃষিকাজ। তবে কিছু পরিবার কৃষিকাজের পাশাপাশি তামা দিয়ে অলংকার তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করে।
পাশের সীতারামপুর, মনোহরপুর, গোপালপুর, বালিনগর ও ডিঙ্গল গ্রামের পরিবারগুলোর অনেকেও তামার গয়না তৈরির কাজ করেন।
দীর্ঘদিন ধরে এসব গ্রামের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ।
স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সৌমিত্র ঘরুইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক দশকের মধ্যে গ্রামটিতে জাতপাতকে কেন্দ্র করে কোনো বিরোধ কিংবা এ ধরনের সহিংস ঘটনার নজির ছিল না। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রায় এক বছর আগে থেকে এই সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা শুরু হয়।
এক বছর আগে কী ঘটেছিল
কয়েক বছর আগে অশোক মণ্ডল, তার ভাই গোপাল এবং গ্রামের আরেক বাসিন্দা খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন। আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষও এ ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন।
অশোক মণ্ডলের স্ত্রী লক্ষ্মী মণ্ডল সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়্যার’কে বলেন, ‘আমরা নিজের ইচ্ছায় খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেছি। আমরা প্রভু যিশুর ওপর বিশ্বাস রাখি। তার প্রতি বিশ্বাস ও ভালোবাসা থেকেই আমরা এই ধর্ম গ্রহণ করেছি। একই সঙ্গে অন্য ধর্মের প্রতিও আমাদের গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।’
গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, শুরুতে তারা এই ধর্মান্তরকে ব্যক্তিগত পছন্দের স্বাভাবিক প্রকাশ হিসেবেই দেখেছিলেন। তাদের বিশ্বাস ছিল, প্রত্যেকেরই নিজের পছন্দের ধর্ম পালন করার অধিকার রয়েছে।
তবে লক্ষ্মী মণ্ডল ও তার স্বামী তপন মণ্ডলের ভাষ্য অনুযায়ী, সবাই তাদের ধর্মান্তরের বিষয়টি মেনে নেননি।
লক্ষ্মী অভিযোগ করেন, গত বছরের দুর্গাপূজার সময় প্রথমে তার স্বামীর চাচাতো ভাই অসিত, অরুণ, বরুণ ও তরুণ মণ্ডল তাদের পরিবারকে হয়রানি করতে শুরু করেন।
লক্ষ্মী বলেন, ‘তারা আমাদের বাড়িতে এসে জানতে চান, আমরা কেন খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেছি। আমরা তাদের বলেছিলাম, এটি আমাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। সংবিধান কাউকে নিজের পছন্দের ধর্ম গ্রহণ করতে নিষেধ করে না। এরপর তারা বিভিন্ন অজুহাতে আমাদের অপমান করতে শুরু করেন।’
ওই দম্পতি জানান, সে সময় তারা চন্দ্রকোনা থানায় লিখিত অভিযোগও জমা দিয়েছিলেন। পুলিশ সদস্যরা গ্রামে গিয়েছিলেন বলেও তারা জানান। তবে অভিযুক্ত আত্মীয়দের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তাদের অভিযোগ।
কিছুদিন পরিস্থিতি শান্ত থাকার পর বাংলায় সরকার পরিবর্তনের পর আবারও হয়রানি বেড়ে যায় বলে তারা জানিয়েছেন।
প্রথম দিন: শারীরিক ও যৌন নির্যাতন
সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাগুলো পরিবারগুলোকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। লক্ষ্মী মণ্ডল ও তার জা বনশ্রী মণ্ডল জানিয়েছেন, গত ১৬ অক্টোবর থেকে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে।
লক্ষ্মী জানান, আগের বছর যেসব আত্মীয় তাদের হুমকি দিয়েছিলেন, তারাও সেদিন উপস্থিত ছিলেন। ওই দিন বজরং দলের সদস্য পরিচয় দেওয়া একদল মানুষ তাদের প্রথমে হুমকি দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দলটি গ্রামে এসে পরিবারগুলোকে খ্রিষ্টধর্ম ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়। তা না করলে পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। তবে ১৮ অক্টোবর থেকে তাদের ওপর শারীরিক হামলা শুরু হয়।
লক্ষ্মী বলেন, ‘১৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে একদল লোক আমাদের বাড়িতে এসে হামলা চালায়।’
১৮ অক্টোবর যারা হামলা চালিয়েছিলেন বলে অভিযোগ, তাদের কয়েকজনের নামও উল্লেখ করেন লক্ষ্মী।
তিনি বলেন, ‘তাদের মধ্যে ছিলেন দিলীপ মিশ্র, বাপ্পাদিত্য চট্টোপাধ্যায়, পোচা পাত্র, রঞ্জিত দোলুই, বাপি মণ্ডল, তরুণ মণ্ডল, মদন মান্না, অজিত দোলুই, পূর্ণিমা দাস, সুচিত্রা মণ্ডল, মনিময়ী মুখোপাধ্যায় ও মিঠু দোলুই। তাদের সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিলেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আমাদের গ্রামের বাসিন্দা। অন্যরা গোপালপুর ও রানীগঞ্জ থেকে এসেছিলেন।’
লক্ষ্মী বলেন, ‘তারা চিৎকার করে বলছিলেন, গত এক বছর ধরে তারা আমাদের খ্রিষ্টধর্ম ত্যাগ করানোর চেষ্টা করছেন, কিন্তু সফল হননি। এখন নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এই সরকার হিন্দুত্ববাদকে সমর্থন করে। আর বজরং দল আমাদের ধর্ম ছাড়তে বাধ্য করবে।’
‘দ্য ওয়্যার’-এর সঙ্গে কথা বলা কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীও লক্ষ্মীর বক্তব্যের সঙ্গে মিল রেখে একই ধরনের অভিযোগ করেছেন।
‘আমি অনুভব করছিলাম, কেউ আমার শাড়ি খুলে নিচ্ছে’
সেদিন নিজের ওপর চালানো ভয়াবহ নির্যাতনের বর্ণনা দেন লক্ষ্মী মণ্ডল।
তিনি বলেন, ‘সেদিন বিকেলে রঞ্জিত দোলুই আমার কানের নিচে আঘাত করেন। আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। কিছুটা জ্ঞান ফেরার পর অনুভব করি, কেউ আমার শাড়ি খুলে নিচ্ছে এবং আমার ব্লাউজ ছিঁড়ে ফেলছে।’
পরে লক্ষ্মী জানতে পারেন, রঞ্জিত দোলুই, পোচা পাত্র ও বাপি মণ্ডল তার শাড়ি খুলে দিয়েছিলেন এবং ব্লাউজ ছিঁড়ে ফেলেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
লক্ষ্মী বলেন, ‘আমাকে জ্ঞান ফেরানোর জন্য তারা আমার মুখে ও চোখে পানি ছিটিয়ে দেন। সবার সামনে আমার শরীরে পানি ঢালেন। তারা “জয় শ্রী রাম” স্লোগান দেন এবং ঘোষণা করেন, আমাকে শুদ্ধ করা হয়েছে। তখন আমি আমার বাড়ির মেঝেতে ওই অবস্থায় পড়ে ছিলাম।’
তার বাড়িতে রাখা বাইবেলটিও হামলাকারীরা নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন লক্ষ্মী।
চলে যাওয়ার আগে হামলাকারীরা লক্ষ্মীর দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে আক্রমণের হুমকি দেন। পরিবারটি খ্রিষ্টধর্ম ত্যাগ না করলে মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হবে বলেও তারা হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।
লক্ষ্মী আরও অভিযোগ করেন, তার পরিবার খ্রিষ্টধর্ম ত্যাগ করে হিন্দুধর্মে ফিরে না গেলে তাদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারার হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, দলটি বনশ্রী মণ্ডল এবং তাদের প্রতিবেশী সরস্বতী মণ্ডলের বাড়িতেও যায়। সেখানে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বনশ্রীর ১৫ বছর বয়সী মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল।
লক্ষ্মী জানান, হামলার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তা সত্ত্বেও সেদিনই তিনি ফোন করে চন্দ্রকোনা থানাকে পুরো ঘটনা জানান।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি দেখে আসেন। কিন্তু এরপরও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
দ্বিতীয় দিন: দুর্গাপূজার আচার পালনে বাধ্য করার অভিযোগ
পরদিনও সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত ছিল।
লক্ষ্মীর বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯ অক্টোবর মদন মান্না ও বাপ্পাদিত্য চট্টোপাধ্যায় তাকে এবং তার স্বামী তপন মণ্ডলকে জোর করে নিয়ে যান। তাদের সঙ্গে প্রতিবেশী সরস্বতী মণ্ডল ও তার স্বামী গোপাল মণ্ডলকেও নিয়ে যাওয়া হয়। আগের দিন লক্ষ্মীর ওপর হামলার ঘটনায় এই দুজনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে।
তাদের ডাঙ্গলের একটি দুর্গাপূজার মণ্ডপে নিয়ে যাওয়া হয়।
লক্ষ্মী অভিযোগ করেন, ‘তারা আমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সেখানে নিয়ে যান। এরপর পূজার সময় আমাদের জোর করে অঞ্জলি দিতে বাধ্য করেন।’
লক্ষ্মী বলেন, ঘটনাটি শুধু শারীরিক হামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্মীয় আচার পালনে বাধ্য করারও চেষ্টা করা হয়েছিল।
তৃতীয় দিন: অব্যাহত থাকে সহিংসতা
২০ অক্টোবরও টানা তৃতীয় দিনের মতো নির্যাতন ও হুমকির ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মদন মান্না ও তার কয়েকজন সহযোগী লক্ষ্মীর স্বামী তপন মণ্ডল এবং সরস্বতী মণ্ডলের স্বামী অশোক মণ্ডলকে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে যান।
অশোক মণ্ডল ‘দ্য ওয়্যার’কে বলেন, ওই ব্যক্তিরা তাদের যিশুখ্রিষ্টের প্রতি বিশ্বাস ত্যাগ না করলে হত্যা করার হুমকি দেন।
লক্ষ্মী তার দায়ের করা এজাহারে অভিযোগ করেন, ২০ অক্টোবর সকালে মদন মান্না ও তার সহযোগীরা তার বাড়িতে আসেন। তারা অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং তাকে ও তার পরিবারের অন্য সদস্যদের হত্যার হুমকি দেন। এ ছাড়া তাকে বাড়ির ভেতরে আটকে রাখা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
লক্ষ্মী ‘দ্য ওয়্যার’কে বলেন, ‘এত কিছু সহ্য করার পর অবশেষে আমি সাহস সঞ্চয় করে মঙ্গলবার চন্দ্রকোনা থানায় যাই। সেখানে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এজাহার দায়ের করি। এর পরই আমাদের বাড়ির বাইরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।’
লক্ষ্মীর বৃদ্ধ শ্বশুর কৃষ্ণপদ মণ্ডল কয়েক বছর ধরে পক্ষাঘাতে ভুগছেন বলে জানা গেছে। লক্ষ্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, টানা তিন দিন তার সামনেই পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। এতে পুরো পরিবার আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, পরদিনও হামলাকারীরা আবার সেখানে আসেন। তারা ঘোষণা দেন, তিনটি পরিবারকেই হিন্দুধর্মে ফিরিয়ে আনা হবে। এতে এলাকায় ভীতি ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়।
পরে পরিবারগুলোর বাড়ির কাছে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে তিনটি পরিবারের সদস্যরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তাদের আতঙ্ক আরও বেড়েছে, কারণ তাদের ওপর হামলার অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে, তারা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে পরিবারগুলোর দাবি।
‘আমরা নিজেদের বাড়িতে শান্তিতে প্রার্থনা করি’
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, তাদের গ্রামে কোনো গির্জা নেই। তাই তারা সাধারণত নিজেদের বাড়ির ভেতরেই যিশুর কাছে প্রার্থনা করেন। এরপরও কেন তাদের ওপর হামলা চালানো হলো, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
তারা বলেন, ‘আমরা নিজেদের বাড়িতে যিশুর কাছে প্রার্থনা করি। শান্তিপূর্ণভাবেই তা করি। এতে কারও সমস্যা হওয়ার কথা কেন? আমাদের মারধর করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হলো কেন? খ্রিষ্টধর্ম ত্যাগ না করলে কেন আমাদের হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে? বাংলায় কি এখন আর অন্য ধর্মের মানুষের বসবাসের অধিকার নেই?’
নিজেদের পছন্দের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং হুমকি ও জবরদস্তি থেকে নাগরিকদের রক্ষা করার ক্ষেত্রে পুলিশের দায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।
পুলিশের বক্তব্য
গত ২১ অক্টোবর, বুধবার, পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা ‘দ্য ওয়্যার’কে জানান, পাটলাপুরের ঘটনা নিয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ পরিবারগুলোকে নিরাপত্তা দেবে এবং ঘটনাটির তদন্ত করবে। যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তবে পরিবারগুলোর অভিযোগ, তারা এখনো তদন্তের অগ্রগতির অপেক্ষায় রয়েছেন। এজাহারে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।