‘প্রতিবাদ দমনের পরিণতি কী শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে দেখুন’

‘প্রতিবাদ দমনের পরিণতি কী শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে দেখুন’

‘প্রতিবাদ দমনের পরিণতি কী শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে দেখুন’
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

ভারতের জনপ্রিয় জলবায়ু কর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনাম ওয়াংচুক শনিবার বলেছেন, সরকারের কাজের মান বাড়াতে ও তাদের অবস্থান আরও উন্নত করতে প্রতিবাদ বা বিক্ষোভ একটি চমৎকার মাধ্যম। আন্দোলন-বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হলে বা করতে না দিলে কী পরিণতি হতে পারে, তার উদাহরণ হিসেবে তিনি শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণ-অশান্তির কথা তুলে ধরেন।

মুম্বাইতে আয়োজিত ‘আইপিএফ ফেস্টিভ্যাল’-এ বক্তব্য প্রদানকালে তিনি বলেন, বিশ্বের বহু দেশ অত্যন্ত সানন্দে প্রতিবাদের অনুমতি দেয়, এমনকি তা দেশের জাতীয় সংসদ ভবনের একেবারে সামনেও হতে দেওয়া হয়।

ওয়াংচুক দাবি করেন, প্রকৃতপক্ষে বহু দেশেই সংসদ ভবনের সামনের অংশই প্রতিবাদ-বিক্ষোভের প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। যুক্তরাজ্য, নরওয়ে এবং সুইডেনের মতো দেশগুলোর উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, এসব দেশে সংসদ ভবনের ঠিক সামনেই শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করার অনুমতি রয়েছে।

ভারতে প্রতিবাদ প্রদর্শনের স্থান নির্দিষ্ট করে দেওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “ভারতে প্রতিবাদের জায়গা সংসদ ভবন থেকে অনেক দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। এমনকি যখন কেবল যন্তর মন্তরে প্রতিবাদের সুযোগ ছিল, সেটাও ছিল সংসদ থেকে বহু দূরে।”

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, “সরকার যদি ইতিবাচকভাবে দেখে, তবে প্রতিবাদ বা আন্দোলন হলো তাদের পারফরম্যান্স আরও ভালো করার একটি চমৎকার প্রতিক্রিয়া ও ফিডব্যাক পদ্ধতি।”

তার এই মন্তব্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক সময়ে এলো, যখন ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’র ডাকা আন্দোলনের পর কেন্দ্র সরকার রাজধানী জুড়ে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে। সরকারের আন্দোলন করতে না দেওয়ার এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে বিরোধী দলগুলোও।

শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে ওয়াংচুক সতর্ক করে বলেন, “বিক্ষোভ করতে না দিলে বা জনগণকে বাকস্বাধীনতা না দিলে কী পরিণতি হয়, তা শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে দেখুন।”

তিনি অভিমত প্রকাশ করেন যে, আন্দোলন বা প্রতিবাদ করার জন্য সরকারের কাছে আগাম অনুমতির প্রয়োজন হওয়া উচিত নয়। তিনি যোগ করেন, শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, যেমন বড় কোনো উৎসবের আয়োজন ইত্যাদি সামাল দেওয়ার বিষয়েই কেবল সরকারি তদারকি সীমাবদ্ধ থাকা উচিত, প্রতিবাদের অধিকার রুদ্ধ করার জন্য নয়।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed