নাগাল্যান্ডে প্রথম পাঁচ তারকা হোটেল চালু, পর্যটন ও বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
ভারতের নাগাল্যান্ড রাজ্যের রাজধানী কোহিমায় প্রথম পাঁচ তারকা হোটেল চালু হয়েছে। পর্যটন খাতের সম্প্রসারণ এবং আরও বেশি পর্যটক আকৃষ্ট করার পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে রাজ্যের আতিথেয়তা অবকাঠামোয় এটিকে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
৫৬ কক্ষবিশিষ্ট হোটেলটির উদ্বোধন করেন নাগাল্যান্ডের রাজ্যপাল নন্দকিশোর যাদব। তিনি বলেন, আতিথেয়তা খাতে বিনিয়োগ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা তৈরিতে উৎসাহ এবং রাজ্যের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখতে পারে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল বলেন, উন্নত আতিথেয়তা অবকাঠামো নাগাল্যান্ডের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, উৎসব ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতি বাড়তে থাকা আগ্রহ সামাল দিতে সহায়তা করবে। তবে পর্যটন থেকে স্থানীয় জনগোষ্ঠী যেন অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়, তা নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
যাদব বলেন, ‘পর্যটন শুধু দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করার বিষয় নয়; এর লক্ষ্য অর্থবহ অভিজ্ঞতা তৈরি করা এবং পর্যটনের মাধ্যমে সৃষ্ট সুযোগ থেকে স্থানীয় জনগোষ্ঠী যাতে উপকৃত হয়, তা নিশ্চিত করা।’
তিনি আরও বলেন, পর্যটন খাত স্থানীয় পণ্যের প্রচার এবং তরুণদের জীবিকার সুযোগ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
রাজ্যপাল কোহিমার অবকাশযাপন, সাংস্কৃতিক ও ব্যবসায়িক পর্যটনের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন। এ ক্ষেত্রে হর্নবিল উৎসবকে নাগাল্যান্ডের ঐতিহ্য দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সামনে তুলে ধরার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি সেবার মান, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।
নাগাল্যান্ডের পর্যটন ও উচ্চশিক্ষামন্ত্রী তেমজেন ইমনা আলং হোটেলটিকে রাজ্যের আতিথেয়তা খাতের গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, এটি সরকারি রাজস্ব বাড়াতে এবং আরও বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সহায়তা করতে পারে।
আলং জানান, রাজ্য সরকার ও পর্যটন বিভাগ হোটেল পরিচালনাকারী গোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করবে। একই সঙ্গে নাগাল্যান্ডের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
হোটেলটি চালুর মধ্য দিয়ে নাগাল্যান্ডে প্রবেশ করল শিলংয়ে প্রতিষ্ঠিত পোলো হোটেলস গ্রুপ। এটি রাজ্যের প্রথম চেইন হোটেল। ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি মেঘালয়, ত্রিপুরা ও কলকাতায় আতিথেয়তা খাতের বিভিন্ন স্থাপনা পরিচালনা করছে।
হোটেলটির নকশায় নাগা সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান যুক্ত করা হয়েছে। এতে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী শিল্পকর্ম, বোনা কাপড় এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্থাপত্যশৈলী থেকে অনুপ্রাণিত নকশা। এ ছাড়া রয়েছে ইনফিনিটি সুইমিংপুল এবং কোহিমা ও আশপাশের উপত্যকার দৃশ্য দেখা যায়—এমন কক্ষ।
হোটেলটিতে ভারতীয়, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য খাবারের রেস্তোরাঁ রয়েছে। পাশাপাশি নাগাল্যান্ডের আঞ্চলিক খাবারের বৈচিত্র্য তুলে ধরতে সাত পদের বিশেষ নাগা খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
পোলো হোটেলস গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও পূর্ণকালীন পরিচালক দেবাল তিব্রেওয়ালা জানান, কোহিমার হোটেলটিতে কর্মরত অধিকাংশ কর্মীই স্থানীয় বাসিন্দা। তিনি আরও বলেন, রাজ্যের তাঁতি, শিল্পী, কৃষক ও কাঠমিস্ত্রিদের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। এর মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কারুশিল্পীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
কোহিমার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থান, খোনোমা গ্রাম ও জুকৌ উপত্যকা ঘুরতে আসা পর্যটকদের পাশাপাশি হোটেলটি বার্ষিক হর্নবিল উৎসবে অংশ নিতে আসা দর্শনার্থীদেরও সেবা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিবছর ডিসেম্বরের প্রথম ১০ দিন এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
নাগাল্যান্ড যখন পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পর্যটকদের জন্য রাজ্যকে আরও সহজলভ্য করে তোলার চেষ্টা করছে, তখন হোটেলটির উদ্বোধন করা হলো। সংশ্লিষ্টদের আশা, উন্নতমানের এই আবাসনব্যবস্থা উচ্চপর্যায়ের সুযোগ-সুবিধা প্রত্যাশী পর্যটকদের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও স্থানীয় উদ্যোগ বিকাশেও সহায়তা করবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।