টেকনাফে যৌথ অভিযান: মানবপাচার চক্রের দুই হোতা গ্রেপ্তার, সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ আটক ১১

টেকনাফে যৌথ অভিযান: মানবপাচার চক্রের দুই হোতা গ্রেপ্তার, সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ আটক ১১

টেকনাফে যৌথ অভিযান: মানবপাচার চক্রের দুই হোতা গ্রেপ্তার, সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ আটক ১১
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বিশেষ যৌথ অভিযান চালিয়ে মানবপাচার চক্রের দুই হোতাকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একই অভিযানে হত্যা ও অস্ত্র মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন অপরাধে ১০ জনকে আটক করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) টেকনাফ উপজেলার ১৬ এপিবিএনের আওতাধীন বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ১৬ এপিবিএনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনী ও প্রশাসনের সমন্বয়ে যৌথভাবে অভিযানটি চালানো হয়।

১৬ এপিবিএন সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মানবপাচার চক্রের অন্যতম হোতা ও একাধিক মামলার আসামি মো. কবির ওরফে ডাক্তার কবির (৬৫) এবং তাঁর সহযোগী মো. ইলিয়াস ওরফে ইলিয়াস মেম্বারকে (৪২) গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা দুজনই টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা ২৪ নম্বর রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের বাসিন্দা।

১৬ এপিবিএনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর সময় আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে একটি নৌকা ডুবে যায়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ওই নৌকাটি পাঠানোর সঙ্গে গ্রেপ্তার কবির ও ইলিয়াস জড়িত ছিলেন। পরে ড্রাম ও কাঠের টুকরো ধরে ভাসতে থাকা কয়েকজনকে কোস্টগার্ড উদ্ধার করে।

অন্যদিকে, একই দিন নয়াপাড়া নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে হত্যা ও অস্ত্র মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আবু তৈয়ব (৩৬) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। একটি মামলায় তাঁর চার বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা হয়েছিল।

এদিকে, যৌথ অভিযানের সময় বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সরকারি আদেশ অমান্য, মাদক সেবন, বাবা-মাকে মারধর এবং ক্যাম্পে অবৈধভাবে প্রবেশসহ বিভিন্ন অপরাধে আরও ১০ জনকে আটক করা হয়। পরে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাঁদের সাজা দেওয়া হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনকে ছয় মাস করে, একজনকে পাঁচ মাস এবং দুজনকে তিন মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি চারজনকে ৫০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

টেকনাফ ১৬ এপিবিএনের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ কাউছার সিকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *