ভারতে বুলডোজার দিয়ে ৮৬টি মুসলিম বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

ভারতে বুলডোজার দিয়ে ৮৬টি মুসলিম বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

ভারতে বুলডোজার দিয়ে ৮৬টি মুসলিম বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

ভারতের উত্তরাখণ্ডের নৈনিতাল জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগ শনিবার এক উচ্ছেদ অভিযানে রামনগরের পুচ্ছডি গ্রামের মুসলিম অধ্যুষিত একটি এলাকা থেকে ৮৬টি স্থায়ী বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে। বন বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের দাবি, সংরক্ষিত বনভূমির সরকারি জায়গায় বেআইনিভাবে বাড়িগুলো তৈরি করা হয়েছিল।

কোসি নদীর তীরে অবস্থিত প্রায় ১৪ হেক্টর জমি উদ্ধারের লক্ষ্যে এই অভিযান চালানো হয়। বিশাল পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতে শনিবার খুব সকালেই বুলডোজার ও জেসিবি দিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙার কাজ শুরু হয়।

বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে প্রশাসন উপস্থিত হতেই বেশ কয়েকজন অধিবাসী নিজে দের ঘরবাড়ির বিভিন্ন অংশ নিজেরাই ভাঙতে শুরু করেন। এই উচ্ছেদ অভিযানের পর বহু পরিবার রাতারাতি গৃহহীন হয়ে পড়েছে এবং অনেকেই ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে নিজেদের গৃহস্থালি জিনিসপত্র উদ্ধারের জন্য চরম ব্যাকুলতা প্রকাশ করছেন।

প্রশাসন প্রাথমিকভাবে এই ধাপে ৮৩টি বাড়ি ভাঙার পরিকল্পনা করেছিল। তরাই পশ্চিম বন বিভাগের ডিএফও পুনীত কুমার তোমার জানান যে ৯২ জন ব্যক্তিকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে ৯টি স্থাপনার মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকায় সেগুলোকে অভিযানের বাইরে রাখা হয় এবং বাকি ৮৩টি বাড়ি ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।পরবর্তীতে ৩১ অক্টোবরের ‘আজ তাক’-এর তথ্য অনুযায়ী, ভেঙে ফেলা স্থায়ী বাড়ির সংখ্যা দাঁড়ায় ৮৬টিতে।

নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা

বিশাল পুলিশ ও বন বিভাগের কর্মীদের উপস্থিতি এবং কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুরো এলাকাকে একাধিক নিরাপত্তা অঞ্চল ও সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল এবং চলাচলের রাস্তাগুলোতে ব্যারিকেড বসানো হয়।

প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বুলডোজারের পাশাপাশি ১,২০০-রও বেশি পুলিশ ও বনকর্মী এই অভিযানে মোতায়েন ছিলেন। নিরাপত্তা তত্ত্বাবধানে উপস্থিত ছিলেন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা, বনাঞ্চলের পদস্থ কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেট এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।

এছাড়াও যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সামাল দিতে দাঙ্গা বিরোধী টিম, টিয়ার গ্যাস ইউনিট, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল, ফায়ার সার্ভিস, কুইক রেসপন্স টিম এবং মেডিকেল টিম ঘটনাস্থলে বা প্রস্তুত অবস্থায় রাখা হয়েছিল। ‘আজ তাক’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযান শুরু করার আগেই প্রশাসন সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে স্থানীয় বাসিন্দাদের আগে থেকেই বিষয়টি অবহিত করেছিল। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুলিশ ও বন বিভাগের কর্মীদের এই অভিযানের ওপর ব্রিফিং দেওয়া হয়।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরের পূর্ববর্তী অভিযান

বন বিভাগ ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর একই এলাকায় আরেকটি উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছিল, যেখানে তৎকালীন প্রতিবেদনে ৫১টি বাড়ি ও কুঁড়েঘর ভেঙে ফেলার কথা বলা হয়েছিল। সেই অভিযানের সময় রামনগর পৌরসভার ট্র্যাঞ্চিং গ্রাউন্ডের প্রায় দুই একর জমিও উদ্ধার করা হয়েছিল।

এদিকে, বনভূমি দখল করে সাধারণ মানুষের কাছে জমি বিক্রির অভিযোগে তাহের মোল্লা নামে এক কথিত জমি কারবারির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে বন বিভাগ। ‘আজ তাক’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ বর্তমানে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য খুঁজছে।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে আগের কংগ্রেস সরকারের আমলে এই বসতিটি রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় পেয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এই অভিযোগটি স্বাধীনভাবে সত্য বলে প্রমাণিত হয়নি। রাজনৈতিকখবর পড়ুন

শীতের মুখে চরম অনিশ্চয়তায় গৃহহীন পরিবারগুলো

বাড়িঘর ভাঙার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ঘরের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র খুঁজে বের করার আকুল চেষ্টা করছে। অনেকেই অভিযানের ভয়ে আগের রাত থেকেই দরকারি জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখতে শুরু করেছিলেন।

উচ্ছেদ হওয়া অধিবাসীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, শীতের মৌসুম যখন শুরু হতে যাচ্ছে, ঠিক এমন এক সময়ে ছোট ছোট ছেলেমেয়ে ও পরিবার নিয়ে তারা এখন কোথায় আশ্রয় নেবেন?

অভিযান চলাকালীন শামশাদ নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা এবং তাঁর পরিবারের দুই নারী—মোমিনা ও ফাতেমা—হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রক্তচাপ অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ার কারণে ওই দুই নারীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছিল।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *