শেখ হাসিনা পার্বত্য চট্টগ্রাম মানুষের কষ্ট বোঝেন বলেই শা‌ন্তি চুক্তি করেছেন- পার্বত্য মন্ত্রী - Southeast Asia Journal

শেখ হাসিনা পার্বত্য চট্টগ্রাম মানুষের কষ্ট বোঝেন বলেই শা‌ন্তি চুক্তি করেছেন- পার্বত্য মন্ত্রী

smart

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা পার্বত্য চট্টগ্রাম মানুষের কষ্ট বোঝেন বলে তিনি শা‌ন্তি চুক্তি করেছেন। তিনিই বাস্তবায়ন করবেন। পার্বত্য অঞ্চ‌লের মানু‌ষের জীবনমান উন্নয়নে তি‌নি যথেষ্ট আন্তরিক। পাহাড়ে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, খুন-গুম করে কখনোই শান্তি ফিরে আসবে না।

মন্ত্রী বলেন, শান্তি ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৭ সালে আলোচনার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের শান্তি ফিরিয়ে আনতে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। এর পরও পার্বত্য অঞ্চলে সংঘাত, খুন, গুম, চাঁদাবাজি কখনোই মেনে নেয়া যায় না।

তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথাগত সমাজ ব্যবস্থার অন্যতম নিয়ন্ত্রক হেডম্যান কার্বারীরা। পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর রীতিনীতিগুলো আছে বলেই পাহাড়ের সামাজিক সমস্যাগুলোর অনেকটাই সমাধান করা হচ্ছে। যার ফলে আদালতে বিচারকার্য কম থাকে। তারাই সমাজের ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ সব ধরনের সুবিধা-অসুবিধা সমাধান দিয়ে পাহাড়কে গতিশীল রেখেছেন। হেডম্যান-কার্বারীরাই পার্বত্যাঞ্চলের প্রাণ; তাদের দ্বারা পরিচালিত পাহাড়িদের সমাজ ব্যবস্থায় অলিখিত আইনগুলোকে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

পার্বত্য মন্ত্রী আরো বলেন, হেডম্যান কার্বারিদের ঐতিহ্যবাহী এ প্রথাকে শক্তিশালী করতে সরকার সব ধরণের কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে। সকল হেডম্যান কার্বারিদের দায়িত্বের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এলাকার সকল মানুষের মঙ্গলে কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, হেডম্যান কার্বারীদের মধ্যে একে অপরের সমন্বয় নেই। বেতন ভাতা বৃদ্ধির আশায় সরকারের উপর চেয়ে থাকলে হবে না। নিজের কাজ নিজেকে করতে হবে। নিজের এলাকা সম্পর্কে জ্ঞান রাখতে হবে। নিজের এলাকার জনসংখ্যা কত, শিক্ষিত কতজন এসব বিস্তারিত তথ্য রাখতে হবে হেডম্যান কার্বারীদের। হেডম্যান কার্বারীদের আরো দক্ষ হতে হবে, জ্ঞান অর্জন করতে হবে। সনাতনী ধারণা থে‌কে বের হয়ে আসতে হবে এবং বিশ্বের চিন্তা চেতনার সা‌থে তাল মি‌লিয়ে চলতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) সকালে রাঙামাটিস্থ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি সাংস্কৃতিক ইনষ্টিটিউট মিলনায়নে পার্বত্য চট্টগ্রাম হেডম্যান সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এর আগে, তিন পার্বত্য জেলার ৩৫০ জন হেডম্যান-কার্বারীর অংশগ্রহনে অুনষ্ঠিত সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন, চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিষ্টার রাজা দেবাশীষ রায়।

সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সভাপতি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরীর সভাপতিত্বে হেডম্যান সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন,পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধুরী, বান্দরবান জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিংইরয়ং ম্রো, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার ড. প্রকাশ কান্তি চৌধুরী, খাগড়াছড়ি মং সার্কেল চীফ সাচিং প্রু চৌধুরী, রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, হেডম্যান চিংকিউ রোয়াজা, শান্তি বিজয় চাকমা, জয়া ত্রিপুরা, এএলআরডি উপ নির্বাহী পরিচালক রওশন জাহান মনিসহ হেডম্যানরা বক্তব্য রাখেন।

You may have missed