এক ‘সন্দেহভাজনের’ জন্য অবরুদ্ধ ১০০০০০ ফিলিস্তিনি! - Southeast Asia Journal

এক ‘সন্দেহভাজনের’ জন্য অবরুদ্ধ ১০০০০০ ফিলিস্তিনি!

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনের শুয়াফাত শরণার্থীশিবির ও আশপাশের এলাকায় ধর্মঘট শুরু করেছে ফিলিস্তিনিরা। ইসরায়েলি বাহিনীর দিনব্যাপী অবরোধের প্রতিবাদে এ ধর্মঘট করছে তারা। এর আগে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের শুয়াফাত শরণার্থীশিবিরের প্রধান চেক পয়েন্টে গুলিতে এক ইসরায়েলি সেনা নিহত হন। এ ঘটনায় ইসরায়েলি বাহিনী শিবিরের গেট বন্ধ করে দেয়। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে ক্যাম্পের বাসিন্দারা আটকে পড়ে। এর প্রতিবাদে ধর্মঘট শুরু করে ফিলিস্তিনিরা। খবর এএফপি

শুয়াফাত শরণার্থী ক্যাম্পের মতোই নাবলুসেও চলছে ধর্মঘট।

গতকাল বুধবার এ এলাকার স্কুল ও দোকানপাট বন্ধ ছিল। শ্রমিকেরা কর্মবিরতি পালন করেছেন। রামাল্লা এলাকার বিরজাইট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এতে সংহতি জানিয়ে ক্লাস বর্জন করেছেন।

শুয়াফাত শরনার্থীশিবির, আনতা, রাস খামিস, রাস শাহদেহ ও দাহিয়াত আল-সালামের নিকটবর্তী এলাকায় ১ লাখ ৩০ হাজার ফিলিস্তিনির বসবাস। তাদের চারপাশ আগে থেকেই দেয়ালে ঘেরা। আর বের হওয়ার দুটি গেটে সব সময় থাকে ইসরায়েলি তল্লাশিচৌকি। গত শনিবার রাতে ক্যাম্পের প্রধান তল্লাশিচৌকিতে এক ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর থেকেই সেই গেট দুটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনারা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সন্দেহে ১১ জনকে আটক করেছেন। তবে এখন তাঁরা সন্দেহভাজন আরও একজনের খোঁজে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। যাঁর বয়স ২২ বছর, নাম উদে তামিমি।

ইসরায়েলের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ ক্যাম্পের বাসিন্দারা দ্রুত এ অবরুদ্ধ অবস্থার অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছে। ক্যাম্পের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য দেখাশুনার কাজে নিযুক্ত জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ বলছে, ইসরায়েলের এ আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সংস্থাটির মুখপাত্র কাজেম আবু খালাফ বলেন, ‘আমাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশবিষয়ক স্বাস্থ্যসেবা কোথাও বিঘ্নিত হচ্ছে, কোথাও আবার পুরোপুরি বন্ধ আছে। আমরা ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। আমরা তাদের বলছি যে এটি অগ্রহণযোগ্য।’

কাজেম আবু খালাফ বলেন, ‘তারা (ইসরায়েল) এক লাখের বেশি মানুষকে কার্যত আটকে রেখেছে। এটাকে অনেকে যৌথ শাস্তি হিসেবে বর্ণনা করছে। কোভিড-১৯–এর সময় আমরা যেসব ব্যবস্থা নিয়েছিলাম, যেমন পড়াশোনা অনলাইনে করা, বয়স্ক ব্যক্তিদের ওষুধ বাসায় পৌঁছে দেওয়ার মতো অবস্থায় নিয়ে যেতে আমাদের বাধ্য করা হচ্ছে।’

চরম বিপদে ফিলিস্তিনিরা
শরনার্থীশিবিরের একটি কমিটির প্রধান মাহমুদ আবু আল-আনতুজ বলেন, এখানকার তিন হাজারের বেশি বাসিন্দা দীর্ঘস্থায়ী নানা রোগে ভুগছে। তাদের কেমোথেরাপিতে যেতে হয়, অনেকের কিডনি ডায়ালাইসিসের প্রয়োজন হয়। তারা আসলে ঘরে বসে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছে। তিনি বলেন, শরনার্থীশিবির বন্ধের সঙ্গে, শিবিরটি স্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং পুষ্টিসহ নানা বিপদের মধ্যে আছেন। খাদ্য সরবরাহের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। চিকিৎসা দলকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।

আল-আনতুজের মতে, শরনার্থীশিবিরের পাঁচ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী জেরুজালেমের অন্য অঞ্চলে স্কুলে পড়াশোনা করে। তারা সবাই চার দিন ধরে বাড়িতেই আছে।

আবু খালাফ বলেন, শরনার্থীশিবিরে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ টন বর্জ্য হয়। সেগুলো প্রতিদিন জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ এবং ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সহায়তায় বাইরে নেওয়া হয়। বর্জ্য জমে আছে শিবিরে।