পশ্চিমবঙ্গে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের সম্মতিপত্র পেল আদানি - Southeast Asia Journal

পশ্চিমবঙ্গে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের সম্মতিপত্র পেল আদানি

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে একটি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের সম্মতিপত্র (লেটার অব ইনটেন্ট) দেশটির আদানি শিল্পগোষ্ঠীর হাতে তুলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তাজপুরে এই গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মিত হবে।

তাজপুর গভীর সমুদ্রবন্দরের চেয়ারম্যান ও শিল্পপতি গৌতম আদানির ছেলে করণ আদানির হাতে গতকাল বুধবার সম্মতিপত্র তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। এ সময় রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী শশী পাঁজা, মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী, স্বরাষ্ট্রসচিব বিপি গোপালিকাসহ রাজ্য সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে আন্তর্জাতিক দরপত্র জিতে এই গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কাজটি পায় আদানি শিল্পগোষ্ঠী। এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে এক সমঝোতা চুক্তিও হয়েছিল। গতকাল নিউটাউনের ইকোপার্কে রাজ্য সরকারের বিজয় সম্মিলনী উৎসবে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয় নির্মাণকাজ শুরুর সম্মতিপত্র।

এ সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই বন্দর নির্মাণের ফলে পশ্চিমবঙ্গে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। রাজ্যের শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে। শিল্প-বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে। বৈদেশিক বাণিজ্য বাড়ার পথ প্রশস্ত হবে। তিনি আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গ হবে বিনিয়োগের শ্রেষ্ঠ গন্তব্য। এখানকার অর্থনীতিতে অগ্রগতি হবে দ্রুত। আদানি শিল্পগোষ্ঠী সেই লক্ষ্যে এই গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের জন্য ২৫ হাজার কোটি রুপি বিনিয়োগ করবে।

এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাজ্যের পৌরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ঘোষণা দেন, আদানি গোষ্ঠীর কর্ণধার গৌতম আদানি তাজপুরে একটি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করবেন। শিল্প উন্নয়ন নিগমের ডাকা বৈশ্বিক দরপত্রে অংশ নিয়ে আদানি শিল্পগোষ্ঠী কাজটি পেয়েছে। এই গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মিত হলে ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

কলকাতা থেকে ১৭০ কিলোমিটার দূরে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বঙ্গোপসাগর উপকূলে অবস্থিত তাজপুর। সেখানে নির্মিত হবে এই গভীর সমুদ্রবন্দর। এই বন্দরে এক লাখ ডেড ওয়েট টন (ডিডব্লিউটি) ধারণক্ষমতার জাহাজ নোঙর করতে পারবে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১৬ সালে প্রথমবার তাজপুরে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের ঘোষণা দেন। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, এককভাবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারই এ বন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেবে। পরে কেন্দ্রীয় সরকার এ প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব পাঠালে রাজ্য সরকার সম্মতি দেয়। রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় সরকারকে ২৬ শতাংশ শেয়ার দিতে সম্মত হয়।

বিনিময়ে রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সাগরদ্বীপকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য মুড়িগঙ্গা নদীতে একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাব দেয়। এ প্রস্তাবে সম্মতি জানায় কেন্দ্রীয় সরকার। মুড়িগঙ্গা নদীর ওপর সেতুটি নির্মিত হলে গঙ্গার তীর্থযাত্রীদের যাতায়াত সহজ হবে। নদী পারাপারে আর ফেরির প্রয়োজন হবে না।

তাজপুরে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের জন্য ২০২১ সালের ১৮ অক্টোবর বৈশ্বিক দরপত্র আহ্বান করে রাজ্যের শিল্প নিগম। দরপত্রে অংশ নেয় চারটি আন্তর্জাতিক সংস্থা—পোর্ট অব সিঙ্গাপুর অথোরিটি, দুবাই পোর্ট, আদানি পোর্টস অ্যান্ড স্পেশাল ইকোনমিক জোন ও জিন্দাল গ্রুপ। দরপত্রের সময়সীমা দুবার বাড়ানো হয়।

পরে আদানি শিল্পগোষ্ঠীকে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের ছাড়পত্র দেওয়া হয়। অবশ্য ওই বছরের ডিসেম্বরে মুখ্যমন্ত্রী মমতার সঙ্গে নবান্নে দেখা করেছিলেন আদানি। সেখানে তাজপুরে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের বিষয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়।