মিয়ানমারের নৃশংসতা জাতিসংঘকে তুলে ধরার অনুরোধ বাংলাদেশের - Southeast Asia Journal

মিয়ানমারের নৃশংসতা জাতিসংঘকে তুলে ধরার অনুরোধ বাংলাদেশের

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অব গ্লোবাল কমিউনিকেশকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংস অপরাধের বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে জোরালো ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

শুক্রবার (২০ অক্টোবর) জাতিসংঘের সম্মেলন কক্ষ-৪ এ দেশের এ অবস্থান তুলে ধরেন যশোর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ। নৃতাত্ত্বিক ভাষা সংরক্ষণ এবং ডিজিটালাইজেশনসহ বেশ কিছু ইস্যুতে জাতিসংঘে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে বক্তব্য দেন তিনি।

সংসদ সদস্য কাজী নাবিল বলেন, ‘টেকসই উন্নয়ন, শান্তি, নিরাপত্তা এবং মানবাধিকার ইস্যুতে জাতিসংঘের এজেন্ডাকে সমর্থনে সংস্থাটির ডিপার্টমেন্ট অব গ্লোবাল কমিউনিকেশন (ডিজিসি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’ করোনা পরবর্তী গত এক বছরে ভূমিকার কারণে ডিজিসি’র কার্যক্রমের প্রশংসা করেন তিনি।

সোশ্যাল মিডিয়ার প্ল্যাটফর্মে ভুল, মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য জনগণেকে বিভ্রান্তি করাটা সহজ হয়ে গেছে বলে সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, ‘এতে সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান ঘৃণামূলক বক্তব্য বৃদ্ধির জন্যও যথেষ্ট উদ্বেগজনক। এ সংক্রান্ত ডিজিসি’র #NoToHate প্রচারণার উদ্যোগটির প্রশংসা করি আমরা।’

জাতিসংঘে ভাষণে বহু ভাষার প্রচলনে ডিজিসি’র প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন কাজী নাবিল আহমেদ। তিনি বলেন, ‘ক্ষুদ্র ভাষাগুলোকেও বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচানোর দায়িত্ব আমাদের। এতে অন্তর্ভুক্তিমূলক, সৃজনশীল এবং সহনশীল সমাজ গঠনে সহায়তা রাখবে। আমরা ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনে অংশীদার হওয়ায় ডিজিসিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

টিপিসিসি প্রতিষ্ঠার পর থেকে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কমিশনের সক্রিয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা এবং শান্তি কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে বাংলাদেশ। এমন বাস্তবতায় আমরা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অবদান তুলে ধরার পাশাপাশি কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ডিজিসিকে অনুরোধ জানানো হয়।

বিশ্বব্যাপী গণহত্যার শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ এবং ঘৃণিত অপরাধ প্রতিরোধ আন্তর্জাতিক দিবস পালনের জন্য ডিজিসির প্রশংসা করেন কাজী নাবিল আহমেদ। তিনি অতীতের গণহত্যা নিয়ে আরও সচেতনতা বাড়ানোর কার্যক্রমকে উৎসাহিত করেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যার বিষয়টি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার ওপর জোর দেন।

ভাষণে বৈশ্বিক জলবায়ুর পরিবর্তনে ঠেকাতে জাতিসংঘের প্রচার-প্রচারণার কার্যক্রমে আরও বৈচিত্র্য আনার আহ্বান জানান কাজী নাবিল আহমেদ।

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ইস্যুতে বক্তব্যে বলেন, ‘জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অব গ্লোবাল কমিউনিকেশকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংস অপরাধের বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে জোরালো ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

সবশেষ প্রতি সেক্টরে ডিজিটাল ইস্যুতে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন সংসদ সদস্য নাবিল আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমরা করোনা মহামারির সময়ে দেখিছে প্রতিটি সেক্টরে ডিজিটাল পরিষেবার ব্যবহার। একই সময়ে আমরা প্রত্যক্ষ করেছি যে ডিজিটাল বিভাজন সমাজের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করেছে। ডিজিটাল বিভাজন মোকাবিলায় ডিজিসির কাজের পরিধি আরও বাড়াতে হবে।’