টেকনাফে র‍্যাবের সঙ্গে গোলাগুলি, অস্ত্রসহ রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর ৬ সদস্য গ্রেপ্তার - Southeast Asia Journal

টেকনাফে র‍্যাবের সঙ্গে গোলাগুলি, অস্ত্রসহ রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর ৬ সদস্য গ্রেপ্তার

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়ার দুর্গম পাহাড়ে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) সঙ্গে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘ছালে বাহিনী’র মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।

গত ৫ মে শুক্রবার রাত ১০টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে গোলাগুলি চলে। সংঘর্ষের পর র‍্যাব পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে ছালে বাহিনীর প্রধান ও মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মির (আরসা) নেতা হাফিজুর রহমান ওরফে ছালেহ উদ্দিনসহ (৩০) ওই বাহিনীর ছয় সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় একটি বিদেশি পিস্তল, ১১টি দেশীয় অস্ত্রসহ বিপুল গুলি ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

পরদিন শনিবার দুপুর ১২টার দিকে র‍্যাব-১৫ কক্সবাজার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার আল মইন। এ সময় র‍্যাব-১৫ কক্সবাজারের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

গ্রেপ্তার অন্য পাঁচজন হলেন নুরুল আলম ওরফে নুরু (৪০), আক্তার কামাল ওরফে সোহেল (৩৭), নুরুল আলম ওরফে লালু (২৪), হারুনুর রশিদ (২৩) ও রিয়াজ উদ্দিন ওরফে বাপ্পি (১৭)। র‍্যাবের দাবি, ছালেহ উদ্দিন মিয়ানমারের নাগরিক। তিনি ২০১৯ সালে অবৈধ পথে বাংলাদেশে ঢোকেন। এর আগে ২০১৩ সালে তিনি অবৈধ পথে মালয়েশিয়ায় যান। ২০১৯ সালে ছালেহ উদ্দিন বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে উখিয়া ও কক্সবাজার শহরে অবস্থান নিয়ে মাদক চোরাচালান, ডাকাতি ও মুক্তিপণের জন্য অপহরণ সংঘটিত করে আসছেন। মিয়ানমারেও তাঁর নিয়মিত যাতায়াত আছে।

সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার আল মইন বলেন, গতকাল রাতে ছালেহ উদ্দিনসহ ছালে বাহিনীর সদস্যরা ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় র‍্যাব সদস্যরা টেকনাফের বাহারছড়া দুর্গম পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে ছালেহ উদ্দিনসহ ওই বাহিনীর ছয় সন্ত্রাসীকে বিপুল অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‍্যাব জানতে পারে, ১২-১৫ জনের সন্ত্রাসী নিয়ে গঠিত ছালে বাহিনী অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়, মাদক ব্যবসাসহ অন্য বিভিন্ন অপরাধ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। এ বাহিনীর সদস্যরা টেকনাফের শালবাগান পাহাড়, জুম্মা পাড়া ও নেচার পার্ক এলাকা, বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালী পাড়া পাহাড়, বড় ডেইল পাহাড়, কচ্ছপিয়া পাহাড়, জাহাজপুরা পাহাড়, হলবনিয়া পাহাড়, শিলখালী পাহাড়ে আস্তানা তৈরি করে অপরাধ কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। তাঁরা বিভিন্ন সময় রিকশাচালক, কখনো অটোরিকশাচালকের ছদ্মবেশ ধরে বিভিন্ন কৌশলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করতেন।

র‍্যাব জানায়, ছালেহ উদ্দিনের নেতৃত্বে তাঁর বাহিনীর সদস্যরা ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাহারছড়া থেকে ১০ জন কৃষক, গত ২ জানুয়ারি ১ জন, ২৬ মার্চ নেচার পার্ক থেকে ২ জন, ১৫ এপ্রিল হ্নীলার ফুলের ডেইল থেকে ১ জন, ৩০ এপ্রিল ১ জন, ৩ মে নেচার পার্ক থেকে ৫ জন রোহিঙ্গা কিশোরকে অপহরণ করেন। পরে মুক্তিপণ আদায়ের মাধ্যমে অপহৃত ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার সন্ত্রাসীরা র‍্যাবকে জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত তাঁরা অর্ধশতাধিক মানুষকে অপহরণ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার আল মইন বলেন, উখিয়াসহ কক্সবাজারের বিভিন্ন থানায় ছালেহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে অপহরণ, ডাকাতি, মাদকসহ ১০টির বেশি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের আজ শনিবার টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি টেকনাফে হোয়াইক্যং, হ্নীলা ও বাহারছড়া ইউনিয়নে অপহরণের ঘটনা বেড়েই চলেছে। ছালে, নবী, সালমান, আবু আলাসহ রোহিঙ্গাদের চারটি সশস্ত্র গোষ্ঠী মুক্তিপণের জন্য স্থানীয় লোকজনকে অপহরণ করে দুর্গম পাহাড়ের আটকে রেখে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ছয় মাসে টেকনাফের হোয়াইক্যং, বাহারছড়া, হ্নীলা ইউনিয়ন থেকে অন্তত ৬২ জনকে অপহরণ করা হয়। এ নিয়ে ৫ মে প্রথম আলোর শেষ পাতায় ‘মুক্তিপণের জন্য ৬ মাসে অপহরণ ৬২ জন’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।