টেকনাফের গহীন পাহাড়ে ‘আরসার আস্তানা, টর্চার সেল’ - Southeast Asia Journal

টেকনাফের গহীন পাহাড়ে ‘আরসার আস্তানা, টর্চার সেল’

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

আরসার ‘সামরিক কমান্ডার’সহ ছয়জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়ে র‌্যাব বলছে, ক্যাম্পে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতবাদী সশস্ত্র সংগঠনটির সাড়ে চারশ সদস্য সক্রিয় আছে।

কক্সবাজারে টেকনাফের গহীন পাহাড়ে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি বা ‘আরসা’র গোপন আস্তানা খুঁজে পাওয়ার কথা জানিয়েছে র‌্যাব।

এ বাহিনী বলছে, সেই আস্তানায় তারা একটি ‘টর্চার সেল’ দেখেছে। অপহরণ করে সেখানে মানুষকে নিয়ে নির্যাতন চালানো হয় মুক্তিপণ আদায় করতে।

সেই ‘আস্তানা’ থেকে ‘আরসার সামরিক কমান্ডার’সহ ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়ে র‌্যাব-১৫ বলছে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে সাতটি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও নগদ টাকা।

র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার ছয়জন। এরা সবাই মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরসার সদস্য বলে জানানো হয়েছে।
যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তারা হত্যার পর মরদেহ গুমের সঙ্গে জড়িত বলেও জানানো হয়েছে।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এলাকার গহীন পাহাড়ে এ অভিযান চালানো হয় বলে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে করে জানিয়েছে র‌্যাব-১৫।

কক্সবাজারে ইউনিট কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, “টেকনাফের গহীন পাহাড়টিতে আরসা সন্ত্রাসীরা গোপন আস্তানা তৈরি করে ‘টর্চার সেল’ গড়ে তুলেছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওখানে অভিযান চালানো হয়।”

তিনি বলেন, “গোপন আস্তানার তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর প্রথমে আরসার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্প এর অন্যতম সামরিক কমান্ডার হাফেজ নুর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপর ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা হয় অস্ত্র ও গুলি।”

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা খুন ও অপহরণসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত থাকার বিষয়ে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ দিয়েছে বলেও জানান র‌্যাব পরিচালক।

তিনি জানান, হাফেজ নুর মোহাম্মদের নেতৃত্বে ‘আরসা’র ৩০ থেকে ৩৫ জন সদস্য কুতুপালং ক্যাম্প ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় খুন, অপহরণ, ডাকাতি, মাদক, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত।

তারা দুর্গম সীমান্তবর্তী অঞ্চল দিয়ে অস্ত্র চোরাচালান করত বলে জানতে পারার কথা তুলে ধরে আল মঈন বলেন, “হাফেজ নুর মোহাম্মদ তার দলের সদস্যদের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগণের নিকট হতে খুন, অপহরণ ও গুমের ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি করতেন। চাঁদার অর্থ না পেলে অপহরণপূর্বক শারীরিক পাশবিক নির্যাতনসহ মুক্তিপণ আদায় করতেন। মুক্তিপণ না পেলে তারা খুন করে গহীন পাহাড়ে অথবা জঙ্গলে লাশ গুম করতেন।”

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হাফেজ নুর মোহাম্মদ ২০১৬ সালে আরিফ উদ্দিন নামে একজেনের মাধ্যমে ‘আরসা’য় যোগ দেন। তিনি কুংফু ও বিস্ফোরক তৈরিতে পারদর্শী। তার নেতৃত্বেই ক্যাম্পে আলোচিত ছয় খুন ছাড়াও অনেক হত্যা হয়েছে।

র‌্যাব জানায়, তারা যে আস্তানাটি খুঁজে পেয়েছে, সেখানকার ‘চর্টার সেলের’ তত্ত্বাবধান করতেন ফারুক হারেস। তারও সাত থেকে আট জনের জনের একটি দল রয়েছে, যারা ক্যাম্পের প্রহরীর দায়িত্ব পালন করত এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান পর্যবেক্ষণ করে নেতাদের কাছে তথ্য পাঠাত।

মনির আহাম্মদ, নূর ইসলাম এবং ইয়াছিন পাহাড়ে অবস্থিত গোপন আরসা ঘাঁটির নিরাপত্তা প্রহরীর দায়িত্ব পালন করতেন বলেও জানান র‌্যাব কমান্ডার।

গ্রেপ্তার হওয়া ৬ জনকে টেকনাফ থানায় সোপর্দ করার কথা জানিয়ে খন্দকার আল মঈন বলেন, তাদের তথ্যমতে ক্যাম্পে ‘আরসার’ সাড়ে চারশ সদস্য সক্রিয়। তাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে র‌্যাব।