প্রশাসন ও সার্কেল চীফ কার্যালয়ের কর্মচারীদের যোগসাজশে ভুয়া কাগজে বনের জমি বিক্রি - Southeast Asia Journal

প্রশাসন ও সার্কেল চীফ কার্যালয়ের কর্মচারীদের যোগসাজশে ভুয়া কাগজে বনের জমি বিক্রি

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

বান্দরবানে ভূমি জালিয়াত চক্রের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। জেলা প্রশাসন এবং বোমাং সার্কেল চিফের কর্মচারীদের যোগসাজশে চলছে বনবিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ কেটে জায়গা বিক্রি। ভূমি জালিয়াত চক্রটি জেলা প্রশাসনের রেকর্ড রুম থেকে বাবা-মায়ের নামের সঙ্গে মিল থাকা ব্যক্তিদের ভুয়া জমাবন্দি বের করে রেজিস্ট্রেশন কর্মকর্তার চোখে ধুলা দিয়ে বহিরাগতদের নামে ভূমি রেজিস্ট্রেশন করে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

জানা গেছে, ভূমি জালিয়াত চক্রের মূলহোতা হচ্ছেন জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের ক্যান্টিনের মালিক বাবুল দাস, জেলা প্রশাসনের নাইটগার্ড মো. ইউনুচ, বোমাং সার্কেল চিফ কার্যালয়ের হেড ক্লার্ক অংজাই এবং জেলা প্রশাসনের সাবেক নাজির মো. আইয়ুব। এদের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের রেকর্ড রুম, ভূমি অফিসের কয়েকজন কর্মচারীও জড়িত রয়েছেন। যাদের সহযোগিতায় বাবা-মায়ের নামের সঙ্গে মিল থাকা ব্যক্তিদের ভুয়া জমাবন্দি বের করে বহিরাগত জমি ক্রেতার বাবা-মা দেখিয়ে রেজিস্ট্রেশন কর্মকর্তার চোখে ধুলা দিয়ে ভূমি রেজিস্ট্রেশন করে দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা। যদিও পার্বত্য চট্টগ্রাম আইনে আছে, পার্বত্য শান্তি চুক্তি মোতাবেক পার্বত্যাঞ্চলে জমি নেই এমন ব্যক্তিরা তিন পার্বত্য জেলায় কোনো জমি কিনতে পারবেন না।

কিন্তু আইনকে বৃদ্ধাঙুলি দেখিয়ে অর্থের বিনিময়ে ভুয়া জায়গার জমাবন্দি এবং বোমাং সার্কেল চিফ সনদ স্থায়ী বাসিন্দার সনদ নিয়ে অন্য স্থানের জমির ভুয়া কাগজ চৌহদ্দি মিলিয়ে বসিয়ে বনবিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং সরকারি খাস জমি বিক্রি করে দিচ্ছে বহিরাগতদের কাছে। ভূমি জালিয়াতির মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়েছে অসাধু চক্রটি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূয়ালকের কয়েকজন বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, ‘বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের প্রবেশমুখে জমিগুলো চট্টগ্রাম বনবিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চল ছিল। গর্জন, কড়ইসহ বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান বড় বড় মাদার ট্রি ছিল। এসব গাছ রাতের আঁধারে কেটে ফেলা হয়েছে বনবিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে। জায়গাটি বৃক্ষশূন্য করে সেখানে জমির মালিকানা দাবি করে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয় ভূমি জালিয়াত চক্রের সদস্যরা। শুনেছি রতন দে শাওন, আনিসুর রহমান সুজনসহ আরও কয়েকজনের নামে সরকারি জমির বেচাকেনা রেজিস্ট্রেশনও করা হয়েছে। যার মধ্যে রতন দে শাওনের বাবা-মায়ের নামে কোনো মৌজার জমি নেই বান্দরবান জেলায়।

রতনের বাবার নাম স্বপন দে, দাদার নাম নগেন্দ্র দে। যা জমাবন্দির ব্যক্তির বাবার নামের সঙ্গে মিল নেই। বিষয়টি ধাপাচাপা দিতে দাদার নাম মিলাতে বাবার ভোটার আইডি সংশোধনের আবেদনও করেছেন নির্বাচন অফিসে। কিন্তু অর্থের বিনিময়ে ভুয়া কাগজপত্র বের করে সরকারি জায়গা বিক্রি করা হয়েছে। বনবিভাগের সরকারি পাঁচ একর জায়গা এর মধ্যে বিক্রির নামে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি।’ বনবিভাগের সরকারি জমির মালিক দাবিদার অভিযুক্ত জেলা প্রশাসনের সাবেক নাজির মো. আইয়ুব বলেন, ‘আমার নামীয় পাঁচ একর জায়গার কাগজ কিনে নেয় ক্যান্টিন মালিক বাবুল দাস গং। তারাই মূলত জায়গা বিক্রি করছে।’ জালিয়াত চক্রের মূলহোতা জেলা প্রশাসনের ক্যান্টিনের মালিক বাবুল দাস ও জেলা প্রশাসনের নাইটগার্ড মো. ইউনুচ বলেন, ‘জায়গাটি জমির রেকর্ডীয় মালিক আইয়ুব সাহেবের কাছ থেকে কিনেছি। তার নামে জমির বৈধ সব কাগজপত্র রয়েছে।’

বনবিভাগের জমি জায়গাটির পার্শ্ববর্তী। তবে ভুয়া কাগজপত্র বসিয়ে বহিরাগতদের সরকারি জমি বিক্রির অভিযোগ তারা অস্বীকার করেছেন। অভিযোগ অস্বীকার করে বান্দরবান বোমাং সার্কেল চিফ কার্যালয়ের হেড ক্লার্ক অংজাই বলেন, ‘কোনো ধরনের ভূমি জালিয়াত চক্র এবং রাজার জাল সনদ প্রদানের সঙ্গে আমি জড়িত নই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ভুলক্রমে দেওয়া রাজার সনদ তাৎক্ষণিক বাতিল করা হচ্ছে।’ এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের এনডিসি ও রেজিস্ট্রেশন কর্মকর্তা আব্দুল আল মামুন বলেন, ‘রতন দে শাওন নামের একজনের নামে ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে জমি রেজিস্ট্রেশনের অভিযোগ পেয়েছি। ভূমি জালিয়াতির প্রমাণ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’