পাহাড়ে ভূমি জরিপের চিন্তাভাবনা করছে সরকার - Southeast Asia Journal

পাহাড়ে ভূমি জরিপের চিন্তাভাবনা করছে সরকার

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ভূমি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পার্বত্য অঞ্চলে ভূমি জরিপের উদ্যোগে সাড়া মিলছে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের চিঠি দিয়েও মন্ত্রণালয় কোনও সাড়া পায়নি। তবে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলে একটি এরিয়া সার্ভে করার বিষয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করছে বলে উল্লেখ করা হয়।

ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকের কার্যবিবরণী সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে কমিটির সভাপতি মকবুল হোসেন পার্বত্য অঞ্চলে ভূমি জরিপের ওপর জোর দিয়ে সেখানে স্যাটেলাইট ও ড্রোনের সাহায্যে জরিপের পরামর্শ দেন।

জানা গেছে, কমিটির ১৬তম বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) অনুষ্ঠিত ১৭তম বৈঠকে ওই আলোচনার বিষয়টি কার্যবিবরণী আকারে উপস্থাপন করা হলে তা অনুমোদন দেওয়া হয়।

নিজ উদ্যোগে কর্মকর্তাদের নিয়ে পার্বত্য এলাকায় সফরে গিয়েছিলেন উল্লেখ করে মকবুল হোসেন বলেন, স্বাধীনতার পর সরকার বেশ কিছু লোককে সেখানে মাথাপিছু একখণ্ড জমি দিয়ে পুনর্বাসন করা হয়। কিন্তু দাগ-খতিয়ান না থাকায় তাদের নানা রকম জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। ওই ভূমি দখলে রাখাও তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

পার্বত্য অঞ্চলে সমতলের মতো একই রকম ভূমি ব্যবস্থাপনা থাকা দরকার উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মকবুল হোসেন বলেন, ওখানে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে যারা গরিব, তারা দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর হচ্ছে। পার্বত্য অঞ্চলে কীভাবে সার্ভে করা যায়, সে বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা জরুরি। স্যাটেলাইট ও ড্রোন দিয়ে জরিপ করা যেতে পারে বলে প্রস্তাব করে তিনি বলেন, একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশে ভূমির দাগ নম্বর না থাকার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ।

ওই সফরে সভাপতি জেলা প্রশাসক এবং ইউএনওদের কাছে কিছু তথ্য চেয়ে এক মাসের মধ্যে মন্ত্রণালয় বা সংসদ সচিবালয়ে পাঠানোর নির্দেশনা দিলেও তা পাননি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ভূমি সচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কমিটির সভাপতি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে জমিজমার কোনও রেকর্ডপত্র নেই। সেখানকার বেশির ভাগ মানুষ জরিপ চান কিন্তু তারা প্রকাশ করতে ভয় পান। বিষয়টি হেডম্যান-কারবারিদের সঙ্গে আলোচনায়ও স্পষ্ট হয়েছে। সার্বভৌম দেশের একটি বিশেষ এলাকা জরিপ কার্যক্রমের বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হলে জবাব দেওয়ার মতো কিছু নেই, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

মকবুল হোসেন বলেন, বিষয়টিকে দেশের প্রচলিত নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় ধীরস্থিরভাবে চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

বৈঠকে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, পার্বত্য অঞ্চল অত্যন্ত সেনসেটিভ এলাকা। ওখানকার পরিস্থিতি নিয়ে খোলাখুলি আলেচনা না করাই ভালো। তবে পার্বত্য অঞ্চলে একটি এরিয়া সার্ভে করার বিষয়ে মন্ত্রণালয় চিন্তাভাবনা করছে।

বৈঠকে ভূমি সচিব জানান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সভা করে পার্বত্য অঞ্চলে জরিপের বিষয়ে চিঠিপত্র দিয়েও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে এ বিষয়ে যোগাযোগ অব্যাহত আছে।

পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিকরের হার প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, সেখানে তিন শ্রেণির জমি রয়েছে। একর প্রতি প্রথম শ্রেণি তিন টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণি দুই টাকা, তৃতীয় শ্রেণি এক টাকা করে খাজনা আদায় করা হয়। আদায় করা কর কারবারি, হেডম্যান, সার্কেল চিপসহ সংশ্লিষ্টরা আদায় করে অর্থ বণ্টন করে নেন।

ভূমিকর বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বৈঠককে জানানো হয়, পার্বত্য জেলাগুলোর ভূমি উন্নয়ন কর বাড়ানোর বিষয়ে গত ৩০ জুলাই আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি অনুযায়ী পার্বত্য জেলা পরিষদ বা জেলা প্রশাসকদের থেকে যৌক্তিক হারে ভূমি উন্নয়ন কর বৃদ্ধির প্রস্তাব পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে কর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কমিটির সভাপতি মো. মকবুল হোসেনের সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, মনোরঞ্জন শীল গোপাল, মো. হাবিবর রহমান, উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম, মু. জিয়াউর রহমান এবং খান আহমেদ শুভ অংশ নেন।