আদিবাসী নয়, নিজেকে ‘উপজাতি’ হিসেবে পরিচয় দিলেন পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

আদিবাসী নয়, নিজেকে ‘উপজাতি’ হিসেবে পরিচয় দিলেন পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

নিজেকে ‘উপজাতি’ হিসেবে পরিচয় দিলেন পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান নিজেকে একজন ‘উপজাতি’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেছেন, যা সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে আদিবাসী বনাম উপজাতি তথা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বিতর্কের অবসান ঘটিছেছে।

আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে বান্দরবান পার্বত্য জেলার রাজার মাঠে আয়োজিত মৈত্রী পানি বর্ষণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ পরিচয় তুলে ধরেন।

মন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতিদের মধ্যে প্রথম বিচার বিভাগের জজ ছিলেন উ চ হ্লা ভান্তে, যিনি ধর্ম প্রচারের জন্য চাকরি ছেড়ে দেন।

মৈত্রী পানি বনিজেকে ‘উপজাতি’ হিসেবে পরিচয় দিলেন পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানর্ষণ আর সাংস্কৃতিক আয়োজনে বান্দরবানে সাংগ্রাই উৎসবে মাতোয়ারা মারমা সম্প্রদায়

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আমি বিচার বিভাগে উপজাতিদের মধ্যে দ্বিতীয় জজ ছিলাম এবং রাজনৈতিক কারণে চাকরি ছেড়ে দিয়েছি।” তার এই বক্তব্য উপস্থিত জনতার মাঝে তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান আরও বলেন, পার্বত্য এলাকার সংস্কৃতি, উৎসব ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে এবং এ ধরনের আয়োজন পারস্পরিক সম্প্রীতি জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য অঞ্চলে পরিচয়-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কিছু বিতর্কও সামনে এসেছে। স্বার্থান্বেষী একটি গোষ্ঠী ‘আদিবাসী’ শব্দ ব্যবহার করে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরার চেষ্টা করছে, যা সংবিধানসম্মত পরিভাষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে অনেকে মনে করছেন। এ ধরনের শব্দচয়ন ও প্রচারণা পাহাড়ের সংবেদনশীল সামাজিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংবিধানসম্মত ‘উপজাতি’ বা ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ পরিচয় ব্যবহারের মধ্য দিয়েই ঐক্য ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব।

এদিকে, মারমা সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক উৎসব সাংগ্রাই উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দিনব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। গত ১৩ এপ্রিল বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সপ্তাহব্যাপী উৎসবের ধারাবাহিকতায় এদিন বিকেলে রাজার মাঠে অনুষ্ঠিত হয় বহুল প্রতীক্ষিত মৈত্রী পানি বর্ষণ অনুষ্ঠান। এতে শিশু থেকে শুরু করে তরুণ-তরুণী ও বয়োজ্যেষ্ঠরা একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে পুরাতন বছরের গ্লানি মুছে ফেলে নতুন বছরকে বরণ করে নেন।

মৈত্রী পানি বর্ষণ আর সাংস্কৃতিক আয়োজনে বান্দরবানে সাংগ্রাই উৎসবে মাতোয়ারা মারমা সম্প্রদায়

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই, জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস, পুলিশ সুপার মো. আবদুর রহমান, উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি চ থুই প্রুসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পাড়ার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বাসিন্দারা।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

অনুষ্ঠানস্থলে সাংস্কৃতিক আয়োজনও ছিল দৃষ্টিনন্দন। পার্বত্য চট্টগ্রামের ১১টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিল্পীরা নিজ নিজ ভাষায় সংগীত পরিবেশন ও ঐতিহ্যবাহী নৃত্য উপস্থাপন করেন, যা উৎসবের বহুমাত্রিকতা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও আগত দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।

উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি চ থুই প্রু বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সাংগ্রাই উৎসব আয়োজন করতে পেরে তারা সন্তুষ্ট এবং এ জন্য প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

প্রসঙ্গত, নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে আগামী ১৬ এপ্রিল বান্দরবানে সাংগ্রাই উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *