মার্কিন সেনা তাড়াতে নাইজারে হাজারো মানুষের মিছিল

মার্কিন সেনা তাড়াতে নাইজারে হাজারো মানুষের মিছিল

মার্কিন সেনা তাড়াতে নাইজারে হাজারো মানুষের মিছিল
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

মার্কিন সেনাদের তাড়াতে নাইজারের রাজধানীর প্রধান সড়কে মিছিল করেছেন দেশটির হাজারো নাগরিক। সম্প্রতি শাসক জান্তা সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক চুক্তি বাতিল করে ও রাশিয়ান সামরিক প্রশিক্ষকদের স্বাগত জানায়। এরমধ্যেই জনগণ সরকারের পাশে দাঁড়ালো।

মিছিলে অনেকেই নাইজেরিয়ান পতাকা ও মার্কিন বিরোধী স্লোগানসহ ফেস্টুন নিয়ে আসেন।

২০২৩ সালে অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা দখল করে আবদোরাহমানে চিয়ানি। ওই সময় দেশ জুড়ে ফ্রান্স বিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়।

সাম্প্রতিক বিক্ষোভে জান্তার প্রতি সমর্থন করে অনেককেই ‘‘ইউএসএ রাশ আউট অব নাইজার’’ লেখা ফেস্টুন বহন করতে দেখা যায়।

এ বছরের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক চুক্তি বাতিল করে দুই ঘাঁটিতে শুধু এক হাজার মার্কিন সেনাকে থাকার অনুমতি বহাল রাখে নাইজার।

মারিয়া স্যালি নামে এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘‘আমরা এখানে আমেরিকান ঘাঁটি না বলার জন্য এসেছি, আমরা আমাদের মাটিতে আমেরিকানদের চাই না।’’

২০২১ সালের নির্বাচনে জিতে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন মোহাম্মদ বাজোম। তিনি পশ্চিমাপন্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। নাইজারের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে ইসলামি সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই এগিয়ে নিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র ও একসময় নাইজারে উপনিবেশ স্থাপন করা ফ্রান্স তাকে সরাসরি সহায়তা করে। কেন না নাইজারে দেশ দুটির সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।

তবে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে অভ্যুত্থানের পর থেকেই পশ্চিমাদের তাড়াতে বিক্ষোভ করে আসছে দেশটির জনগণ।

এমনকি পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে সামরিক চুক্তি শেষ করতে আঞ্চলিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্লক ইকোওয়াস ত্যাগ করে নাইজার। তারা রাশিয়ার রাশিয়ার সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য প্রতিবেশী মালি ও বুরকিনা ফাসোর জান্তাদের সাথে হাত মেলায়।

আফ্রিকায় প্রভাব বিস্তার করতে চাওয়া রাশিয়াও এই সুযোগ লুফে নিচ্ছে। তারা নানাভাবে জান্তা সরকারকে সহায়তা দিচ্ছে।

শুক্রবারের বিক্ষোভে বেশ কিছু রাশিয়ান পতাকাও দেখা যায়। তাদের অনেকেই অবশ্য, রাশিয়ান প্রতিরক্ষা সহায়তাও নাইজারে স্থায়ী হোক, তার বিরুদ্ধে।

২০২৩ সালে ফরাসি বিরোধী বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেওয়া নাগরিক সমাজের গোষ্ঠী এম-৬২ জোটের সমন্বয়কারী আবদৌলায়ে সেয়দু বলেন, ‘‘আমরা নাইজারে বিদেশী সামরিক ঘাঁটি দেখতে চাই না। রাশিয়ারও না।’’

একই কথা বলেন সোলায়মান উসমান নামে এক শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, ‘‘ফরাসি ও মার্কিনীরা সামরিক সহযোগিতার নামে নাইজারে বসতি স্থাপন করেছিল।’’

তবে মার্কিন সৈন্যরা কখন বা কবে নাইজার ছাড়বে তা জানা যায়নি।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।