ব্যাপক বিক্ষোভকে উপেক্ষা করেই ভারতের লোকসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পেশ - Southeast Asia Journal

ব্যাপক বিক্ষোভকে উপেক্ষা করেই ভারতের লোকসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পেশ

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ভারতে বিরোধী দলের আপত্তি এবং উত্তর-পূর্বে ব্যাপক বিক্ষোভকে উপেক্ষা করেই ৯ ডিসেম্বর সোমবার লোকসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পেশ করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অমিত শাহ সোমবার ৬ দশকের পুরনো নাগরিকত্ব আইনটি সংশোধন করার জন্য এই বিলের প্রবর্তন করেন। তবে বিলটি নিয়ে লোকসভায় আলোচনার পর এটি পাস করানোর জন্য বিবেচিত হবে। এই বিল পাস হলে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে আসা অমুসলিম শরণার্থীদের ভারতে নাগরিকত্ব পেতে সাহায্য করবে।

বিলটির প্রতিবাদে উত্তর-পূর্বের একটি প্রভাবশালী ছাত্র সংগঠন মঙ্গলবার ১১ ঘণ্টার ধর্মঘট পালনের ঘোষণা দিয়েছে। তারা মনে করছে, এই বিলটি আসলে ১৯৮৫ সালের আমাম চুক্তি বাতিল করার প্রয়াস। ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের চুক্তি অনুযায়ী ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব অবৈধ অভিবাসী এ দেশে শরণার্থী হিসেবে বিবেচিত হবে। আমামের শীর্ষ ছাত্র সংগঠনগুলো হুমকি দিয়েছে, বিলটি পাস হলে ব্যাপক আন্দোলন শুরু করবে তারা।

১৯৫৫ সালের মূল নাগরিকত্ব আইনটিতে বলা হয়েছে, অন্য দেশ থেকে ভারতে আসা কোনো ব্যক্তি যদি ভারতের নাগরিকত্ব প্রার্থী হন, তা হলে তাকে গত ১৪ বছরের মধ্যে ১১ বছর এ দেশে বসবাস করছেন এই প্রমাণ দেখাতে হবে। কিন্তু সেই বিধান বদলাতেই আনা এই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে বলা হয়েছে, ভারতে টানা ৫ বছর ধরে বসবাস করা অমুসলিমরাই নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কংগ্রেস নেতা শশী থারুরসহ অনেক বিরোধী নেতাই এই সংশোধনীটিকে বৈষম্যমূলক বলে উল্লেখ করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কেন্দ্র যদি সব সম্প্রদায়ের মানুষকে নাগরিকত্ব দেয়ার কথা বলে তবে আমরা তা মেনে নেব। কিন্তু তারা যদি ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য করে, তবে আমরা এর বিরুদ্ধে লড়াই করব। অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা শশী থারুর বলেন, এই বিলটি মৌলিকভাবে অসাংবিধানিক। বিলটিতে যা প্রস্তাব করা হয়েছে, তা মেনে আইন হলে সেটি ভারতের মূল ধারণাকে আঘাত করবে।

নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিলের লক্ষ্য হলো- মুসলিমদের ছাড়া হিন্দু, খ্রিস্টান, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ ও পার্সি এই ৬টি সম্প্রদায়কে ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রদান করা।

এর আগে, ছয় বছরের পরিশ্রম ও ১৬’শ কোটি টাকা খরচ করে সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে হওয়া আসামের জাতীয় নাগরিক তালিকা (এনআরসি)র চূড়ান্ত তালিকায় বাদ পড়ে ১৯ লাখ মানুষ। এদের মধ্যে অন্তত ১৩ থেকে ১৪ লাখই হিন্দু। তালিকা প্রকাশ হতেই অস্বস্তিতে পড়ে দল বিজেপি। ঐ এনআরসি সঠিক নয় বলেও বিতর্ক শুরু হয় গোটা ভারতজুড়ে।

You may have missed