পাকিস্তানের করাচি বন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ২০ কনটেইনার পুড়ে ছাই

পাকিস্তানের করাচি বন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ২০ কনটেইনার পুড়ে ছাই

পাকিস্তানের করাচি বন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ২০ কনটেইনার পুড়ে ছাই
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পাকিস্তানের করাচি বন্দর এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে এ আগুন লাগে। আগুনে অন্তত ২০টি কনটেইনার পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তবে জুমার নামাজের সময় শ্রমিকরা কাজে না থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ ও উদ্ধারকারী সংস্থা।

সংবাদমাধ্যম ডন এ খবর জানিয়েছে।

খবরে বলা হয়, দক্ষিণ করাচির ডিআইজি সৈয়দ আসাদ রাজা জানান, করাচি ইন্টারন্যাশনাল কনটেইনার টার্মিনালের (কেআইসিটি) ওয়েস্ট হোয়ার্ফ এলাকায় একটি কনটেইনারে আগুন লাগার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। একই সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দল আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়।

সরকারি উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২২-এর মুখপাত্র হাসান উল হাসিব খান বলেন, শুক্রবার দুপুর আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটে বন্দরের ওয়েস্ট হোয়ার্ফের গেট-২০ এলাকায় একটি কনটেইনারে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই পাশের আরেকটি কনটেইনারেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে অতিরিক্ত উদ্ধারকারী দল ডাকা হয়।

রেসকিউ ১১২২-এর তথ্যমতে, আগুনের সূত্রপাত ঘটে একটি কনটেইনারে থাকা বৈদ্যুতিক, ড্রাই কেমিক্যাল ও লিথিয়াম ব্যাটারি থেকে। সেখান থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে আরও ১৯টি কনটেইনারে, যেগুলোতে ব্যাটারি, কাপড় ও অন্যান্য পণ্য ছিল। সব মিলিয়ে ২০টি কনটেইনার পুরোপুরি পুড়ে যায়, যার ফলে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

হাসান উল হাসিব খান জানান, এই আগুন নেভাতে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয় উদ্ধারকারী দলকে। কারণ এই ধরনের আগুনে সাধারণ পানি কার্যকর নয়, বরং বিশেষ ধরনের পাউডার প্রয়োজন হয়।

করাচি ওয়াটার অ্যান্ড স্যুয়ারেজ করপোরেশন পানি সরবরাহ করে এবং রেসকিউ সার্ভিস, করাচি মেট্রোপলিটন করপোরেশন, কেপিটি ও পাকিস্তান নৌবাহিনীর মোট ২০টি ফায়ার টেন্ডার দীর্ঘ চেষ্টার পর বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

তবে আগুনের কারণ নিয়ে ভিন্ন মত রয়েছে। ডিআইজি সৈয়দ আসাদ রাজা জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, কাপড়ভর্তি একটি কনটেইনারে শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং তা আশপাশের কনটেইনারে ছড়িয়ে পড়ে। বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটের মধ্যে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও পরে ঠাণ্ডা করার কাজ চলতে থাকে।

করাচি পোর্ট ট্রাস্ট (কেপিটি) সূত্র জানায়, দ্রুত ও সমন্বিত জরুরি ব্যবস্থার কারণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার পেশাদারিত্ব ও সমন্বয়ের প্রশংসা করেছে কর্তৃপক্ষ। এর আগেও করাচিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ২০২০ সালে কেয়ামারির একটি তেল টার্মিনালে আগুনে দুইজন নিহত এবং তিনজন আহত হন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *